শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরও এক আপনজনকে হারালেন পরীমণি

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণির ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ভালোবাসা সীমাহীন-এর পরিচালক শাহ আলম মণ্ডল আর নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন নায়ক কায়েস আরজু।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আলম মণ্ডল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে প্রথমে তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় তাকে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তার লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শরীরের রক্তক্ষরণ থামানো যাচ্ছিল না, যার ফলে গত দুই দিনে তাকে ১৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর আগে, চলতি বছরের জুলাই মাসেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

শাহ আলম মণ্ডল ২০১১ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। তার প্রথম কাজ ছিল সত্যের জয় ছবিতে। এরপর বদিউল আলম ও এফআই মানিকের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

তার পরিচালিত প্রথম ছবি ভালোবাসা সীমাহীন-এর মাধ্যমে নায়িকা পরীমণি চলচ্চিত্রে পা রাখেন। এর বাইরে তিনি পরিচালনা করেছেন আপন মানুষ, ডনগিরি, এবং সাম্প্রতিক ছবি লকডাউন লাভ স্টোরি (২০২২)।

পরীমণির ক্যারিয়ারের সূচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখা এই পরিচালকের মৃত্যুতে শোকাহত সিনেমাপ্রেমীরা। শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেক আপনজনের অকাল প্রয়াণ পরীমণির জন্য এক দুঃসহ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আওয়ামী লীগ এখনো ক্ষমা চায়নি, তাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে: উপদেষ্টা ফারুকী

আওয়ামী লীগ এখনো ক্ষমা চায়নি, তাদের পাল্টা জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাতটি অগ্রাধিকার কার্যক্রমের ঘোষণা দেন।

উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, “জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ এখনো তা অস্বীকার করছে। তারা ক্ষমা চায়নি। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা সাংস্কৃতিক জবাব দিতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিপ্লবের পর একটি ‘কালচারাল ব্রিজ’ তৈরি করা। এই বাংলাদেশ সবার, এখানে ধর্ম, ভাষা, বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করা যাবে না। আমাদের সাংস্কৃতিক নীতির মূলে থাকবে সবার সংস্কৃতির সমান বিকাশ।”

ফারুকী উল্লেখ করেন, “আমরা এতকাল সংস্কৃতিকে সংকীর্ণভাবে দেখেছি। সংস্কৃতি বলতে শুধু গান-বাজনা, নাচ বা সিনেমা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য এর গণ্ডি পেরিয়ে সকলের জন্য সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করা।”

ঘোষিত সাতটি অগ্রাধিকার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশন’, ‘তারুণ্যের উৎসব’, ‘দেশব্যাপী প্রতিভা সন্ধান’, ‘ডিজিটাল ওরাল হিস্ট্রি প্রকল্প’, ‘বাংলা একাডেমির সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা ও গবেষণা’, ‘জাতীয় জাদুঘরে আধুনিক ভিডিও প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা স্থাপন’, এবং ‘শো-ক্রিয়েটর ওয়ার্কশপ’।

এই কার্যক্রমগুলো তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা জানান, ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভল্যুশন’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৮ বিভাগে ৮টি ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির কর্মশালা আয়োজন করা হবে। এর পাশাপাশি ৮টি নতুন থিয়েটার প্রোডাকশন এবং নজরুলের গানের একটি অ্যালবাম তৈরি করে তা প্রকাশ উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে কনসার্ট আয়োজন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আতাউর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ফারুকী আশা প্রকাশ করেন, “সাতটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অগ্রগতির নতুন অধ্যায় সূচিত হবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন তৈরি হবে।”