হাসিনার দেশত্যাগে সেনাবাহিনীর ‘সংযম’ দেখানো নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে ‘সংযম’ দেখানোয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক উপায়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং আমরা এখন গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।” সেনাবাহিনী আজ যে সংযম দেখিয়েছে তার জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করি।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতা ও বহু মানুষ নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে গত সোমবার ৫ আগষ্ট পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।


‘পদত্যাগে’ বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ চার ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টা এবং আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি দল বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ভবনে গভর্নরের ফ্লোরে ঢুকে একজন ডেপুটি গভর্নরকে সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চার ডেপুটি গভর্নর এবং আর্থিক গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের দাবির মুখে ‘পদত্যাগ’ করেছেন এবং যাঁরা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেরিয়ে গেছেন। এ সময় সেনাসদস্যরা তাঁদের নিরাপত্তা দেন। তবে ঘটনার সময় গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার কার্যালয়ে ছিলেন না।

বিক্ষুব্ধ এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো ব্যানার বহন করছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগ দেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী এবং তাঁরা দায়িত্বে থাকলে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরবে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানের কক্ষে ঢুকে তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়। এ সময় কাজী ছাইদুর রহমান সাদা কাগজে পদত্যাগপত্র লিখে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি ব্যাংক থেকে চলে যান।

এরপর বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারের কক্ষে যান। ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার জানান, তিনি কার্যালয় ত্যাগ করছেন। বাকি দুই ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম ও মো. হাবিবুর রহমান কার্যালয়ে ছিলেন না। তবে কর্মচারীরা তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান, তাঁরা অফিসে আর আসবেন না। একইভাবে ব্যাংকের উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাসের ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাসুদ বিশ্বাসও জানান, তাঁরা আর ব্যাংকে আসবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব শীর্ষ কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী পরিচালক-১ জাকির হোসেন চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘোষণা করেন।