অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব (মোশন) পাস হয়েছে, যা বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর জন্য দ্রুত একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের তিনটি রাজনৈতিক দল—লেবার, লিবারেল এবং গ্রিন পার্টি—এই বিল প্রস্তাব ও পাস করেছে।
একই সঙ্গে, অস্ট্রেলিয়ান সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে, নির্বাচন প্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে জরুরিভাবে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই আহ্বানটি গত বুধবার (২৬ মার্চ) এক সংসদীয় অধিবেশনে জানানো হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সাথে মিলে যায়। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সভাপতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনএসডব্লিউ পার্লামেন্টের সদস্য অ্যাবিগেইল বয়ড হাউসে একটি লিখিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন: “এই হাউস নোট করে যে: (ক) ২৬ মার্চ, ২০২৫, বাংলাদেশে ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন এবং সার্বভৌম জাতি হিসেবে ৫৫ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করার দিন স্মরণ করে।
(খ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশি জনগণের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, ঐক্য, সমতা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রামের শক্তি এবং সহনশীলতা উদযাপন করে।
(গ) ২৩ মার্চ, বাংলাদেশ কমিউনিটি কাউন্সিল লক্ষেম্বা লাইব্রেরি হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে একটি প্রার্থনা এবং ইফতার আয়োজন করে। বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে অনেক সদস্য এবং অতিথি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যা বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির জন্য চিরকালীন গর্বের উৎস হয়ে রয়েছে।
(ঘ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থা পতনের পর থেকে বাংলাদেশের জনগণ ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ, দুর্নীতি, হুমকি এবং অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি তার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতির ব্যবস্থা ভাঙা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
তিনি আরও বলেন, এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্থিতিশীলতার জন্য চলমান সংগ্রামের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে।
অ্যাবিগেইল বয়ড বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, সংসদ অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে বাংলাদেশ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে, নির্বাচনী সততা, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও মুক্ত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য জরুরিভাবে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করার আহ্বান জানাচ্ছে।”