আয়রে আয় ও দেশবাসী, শেখ হাসিনার সৈনিক থাকিস না আর ঘরে বসি’ শিরোনামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গান শুনিয়ে এলাকা ছাড়া আওয়ামী লীগের এক নেতা।। এদিকে, শেখ হাসিনা এই গানটি শুনে প্রশংসা প্রকাশ করেন এবং গানটি রেকর্ড করে টিকটক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাতে এমন একটি ফোনালাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। পলাতক নেতা হলেন ফোরকান ফরাজি, তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ফরাজির ছেলে।
তিনি ওই ইউনিয়নের লাউপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এদিকে, ফোনালাপটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই ফোরকান ফরাজি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ফোরকানকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তালতলী উপজেলা বিএনপি। বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলা বিএনপি এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করেছে। ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে ফোরকান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমি সোনাকাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলাম। আপা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি গান রচনা করেছি। ওই গানের সুর ও ছন্দে যদি ভুল হয় আপনি মার্জনার চোখে দেখবেন আপা। তালতলী উপজেলা আপনার নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনী এলাকা তালতলী উপজেলা থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনার জন্য দোয়া করি। আপনার ডাকের জন্য তালতলী উপজেলাবাসী প্রস্তুত আছে। আপনার সঙ্গে আমাকে কথা বলতে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এডমিন ভাইকে আমার অন্তরস্থল থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আপনার জন্য আমি একটি গান রচনা করেছি, আপা।’ পরে শেখ হাসিনা তাকে গানটি গাওয়ার নির্দেশ দেন। ফোরকান তার কণ্ঠে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে গানটি গেয়ে শোনান। গানের কথাগুলো এমন, ‘আয়রে আয় ও দেশবাসী শেখ হাসিনার সৈনিক থাকিস না আর ঘরে বসি। আয়রে আয় শেখ হাসিনার সৈনিক। রোধে পুড়ে ফসল ফলায় গরিব চাষি মজুরে, সাততলার উপরে থেকে ইউনূসের গোলা যায় ভরে। ইউনূসের গোলা যায় ভরে। ওরে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিয়ে দিলাম ইউনূসের। হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে আমরা মরি অনাহারে। আয়রে আয় শেখ হাসিনার সৈনিক ও দেশবাসী থাকিস না আর ঘরে বসি।
আয়রে আয় শেখ হাসিনার সৈনিক। হাসপাতালে গিয়ে দেখি একি আজব কারখানা। শোষকেরই ভালো ওষুধ আরও ভালো বিছানা।’ গানের শেষে শেখ হাসিনা বলেন বাহ চমৎকার। পরে তিনি ফোরকানকে বলেন, ‘ইউনূস সাত তলায় নয় থাকে ১৬ তলায় থাকেন।’
শেখ হাসিনা গানটি টিকটকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন। এদিকে, ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে বিএনপিসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফোরকানের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু ফোরকান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে লাউপাড়া বাজারে উপজেলা বিএনপি একটি প্রতিবাদ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহীদুল হক বলেন, ফোরকান ফরাজীর এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “ফোনে কথোপকথন শোনার পর ফোনকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Post Views: 1,646