বিতর্ককের নতুন মাত্রা, চোর উপাধি পেলেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের রাজনীতিতে মোদি-আদানি সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এবার গোয়ার রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির (আপ) সাংসদ সঞ্জয় সিং এক উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যে এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিলেন। তিনি বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “গলি গলিতে শোর হ্যায়, মোদি সরকার চোর হ্যায়।” তার বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজ্যসভায় সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, “আদানি ভারত থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে তা বাংলাদেশে পাচার করছে। ভারতের জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বাংলাদেশের জনগণের পেট ভরাচ্ছে মোদি সরকার।”

তিনি আরও বলেন, “যখন ভারতে বিদ্যুতের অভাব দেখা দিচ্ছে, তখন মোদি সরকার কীভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে বাংলাদেশে পাঠাতে পারে?” সঞ্জয় সিং দাবি করেন, মোদি সরকার আদানির স্বার্থে কাজ করছে এবং আদানির সম্পদ মোদি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত আদানির সম্পত্তি বিস্তারের পেছনে সরকারের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সঞ্জয় সিং আরও অভিযোগ করেন, মোদি সরকার দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভেদ উসকে দিয়ে দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বারবার একই স্লোগান দেন, “গলি গলিতে শোর হ্যায়, মোদি সরকার চোর হ্যায়।” স্পিকার তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন সঞ্জয় সিং। এই মন্তব্যের জেরে গুজরাটের একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এমনকি গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের স্ত্রী সুলক্ষণা তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও করেছেন।

উল্লেখ্য, ভারতের সংসদ ভবনে এর আগেও তুমুল উত্তেজনা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। একবার এমন সংঘর্ষের জেরে ছয়জন সংসদ সদস্য গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছিল।


সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড: সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “সচিবালয়ের স্পর্শকাতর স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সচিবালয়ের নিরাপত্তায় একজন এসপি, একজন অ্যাডিশনাল এসপি, একজন এএসপি এবং ৫০০ জনের বেশি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া সাতটি টাওয়ারে গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে পরিচালনার জন্য অন্যান্য সরকারি দপ্তরের খালি জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিগুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় সেগুলো পাওয়া যাবে। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যেসব নথি পুড়ে গেছে, সেগুলো কতটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, তা তদন্তের পর জানা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগে যুক্ত কিছু প্রাথমিক প্রমাণের নথি পুড়ে গেছে। তবে পিরোজপুর থেকে সেই নথি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে চালানো হচ্ছে।