Monday , June 24 2024
Breaking News
Home / Entertainment / সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছি, আমি কেন সিঁড়ি বেয়ে নামব: ইলিয়াস কাঞ্চন

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছি, আমি কেন সিঁড়ি বেয়ে নামব: ইলিয়াস কাঞ্চন

সত্তর দশক থেকে বাংলাদেশের সিনেমা অঙ্গনের সাথে কাজ করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এবং তিনি প্রায় ৪০০ এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা দর্শক মনে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। তবে বর্তমান সময়ে তিনি সিনেমার কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। মূলত এই সিনেমা অঙ্গনে এক সংকটময় পরিস্তিতি বিরাজ করছে। ভাল মানের কাজের অভাবে এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সম্পর্তি এই সিনেমা অঙ্গনের উপর আক্ষেপ করে বেশ কিছু কথা তুলে ধরলেন এই কিংবদ্ন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।

আক্ষেপ থেকেই সিনেমায় অভিনয় করা কমিয়ে দিয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই আক্ষেপ এখন কষ্টে পরিণত হয়েছে। যাঁর নামের পাশে ‘বেদের মেয়ে জোস্‌না’র মতো ব্যবসাসফল আর ‘বসুন্ধরা’, ‘ডুমুরের ফুল’ বা ‘সুন্দরী’র মতো শিল্পসফল সিনেমার নাম, সেই অভিনেতার কিসের আফসোস, কিসের কষ্ট! তরুণ বয়স থেকে একটু একটু করে অভিনয়টা রপ্ত করেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যখন বুঝলেন, অভিনয়ে পটু হয়ে উঠেছেন, তখন দেখা দিল অন্য সংকট। কী সংকট? ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘যখন বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার মতো জায়গায় এলাম, তখন থেকেই আমার উপযোগী চরিত্র পাচ্ছিলাম না। আমার কষ্ট লাগত। অমিতাভ বচ্চনকে দিয়ে এই বয়সে তাঁর মতো চরিত্র তৈরি করে সিনেমা হচ্ছে, একইভাবে রজনীকান্তের কথা বলা যায়। শিল্পীর অবয়বের ওপর চিন্তা করে চরিত্র তৈরি করতে হয়। কাজের এই ধরন আমাদের দেশে নেই। যে কারণে আমাদের এখানে সময়ের আগেই শিল্পীর মৃ/ত্যু ঘটে।’

কিছুটা থেমে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘শিল্পী দিন দিন পরিণত জায়গায় আসে। এমন হয়, শেষ জীবনে এসেও সেরা অভিনয়টা করার সুযোগ পান অনেকে। কিন্তু আমাদের এখানে এমন একটা অবস্থা যে গুণ নিয়েও অভিনেতাকে সিনেমায় বাবা বা ভাইয়ের চরিত্রে দুই–চারটি দৃশ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়, যার সঙ্গে মূল গল্পের যোগসূত্র থাকে না। নাটকেও প্রায় একই অবস্থা। ক্যারিয়ারে কিছু সিনেমা করে দর্শকদের কাছে ইলিয়াস কাঞ্চন হয়েছি। সেই জায়গা থেকে এখন কাজ করতে গেলে মনে হয়, সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছি। আমি কেন সিঁড়ি বেয়ে নামব? এভাবে না করার কারণে একসময় গল্পই আসা বন্ধ হয়ে যায়।’

অনেক সময়ই অনুরোধে অভিনয় করতে হয়। অনেক শুটিং সেটে গল্পের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা থাকে না। আয়োজনেও ঘাটতি থাকে। অভিনয় করার পরও বেশির ভাগ সময় মন খারাপ করে বাসায় ফিরতে হয়। ‘আমি প্রায় পৌনে ৪০০ সিনেমায় অভিনয় করেছি। তারপর সিনেমার হিরো কেন নাটকে যাবে? তারপরও নাটকে এসেছিলাম মূলত এমন কিছু চরিত্র করতে, যা আমি সিনেমায় করিনি। কিন্তু পরে দেখা গেল, ভালো কোনো চরিত্রই আসছে না। আসলেও সিনেমা আর নাটকে একটা দৈন্য আছে, চিত্রনাট্যের দাবি অনেকেই পূরণ না করে ছাড় দিয়ে কাজ করেন। আমি চাই, কাজ করে বাসায় ফেরার সময় যেন মনে কোনো দুঃখ না থাকে। শিল্পীর এই কষ্ট কাউকে বোঝানো যায় না। ভালো চরিত্রের জন্য এখনো অপেক্ষা করি।’

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। দেশটির বিনোদন মাধ্যমে এখনও অনেক প্রবীন অভিনেতা-অভিনেত্রী দাপটের সাথে কাজ করছে। এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অঙ্গনে ভিন্ন চিত্র। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অনেক প্রবীন অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ পায় না। এমনকি যর্থাথ সম্মান ও পায় না।

About

Check Also

হঠাৎ না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা, শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা পার্থসারথি দেব। শুক্রবার (২২ মার্চ) কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *