Monday , July 22 2024
Breaking News
Home / Countrywide / বিএনপির পরামর্শ গ্রহনের শর্ত জানালেন তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির পরামর্শ গ্রহনের শর্ত জানালেন তথ্যমন্ত্রী

বিগত ১৩ বছরে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের পূর্বের তুলনায় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ক্রয়ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে, বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ( Dr. Hassan Mahmud). তিনি বলেন, গেলো ১৩ বছরে মাথাপিছু আয় সাড়ে চারগুন বেড়েছে। বিগত বছরগুলো থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে তিনগুন। মধ্যম আয়ের যে সকল মানুষ রয়েছে তাদের আয় বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে, এমনটিই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমি ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে স্লোগান দিয়েছিলাম, শ্রমিকের মজুরি সাড়ে তিন কেজি চালের দামের সমান হতে হবে। আজ শ্রমিকদের মজুরি অন্তত ১২ কেজি চালের দামের সমান। অর্থাৎ বাংলাদেশের( Bangladesh ) মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( Dhaka Journalists Union ) ডিইউজে ( DUJ ) ২০২২-এর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের না বলার রোগ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার (সাংবাদিকদের) পেনশনের দাবি দীর্ঘদিনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ( Sheikh Hasina ) সর্বজনীন পেনশন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।” সবাই এর আওতায় আসবে। বিএনপি নেতারাও এর সমালোচনা করছেন। আসলে সবকিছুর সমালোচনা করার উন্মাদনা থেকে তারা বের হতে পারে না। বিএনপির ( BNP ) সকল সু-পরামর্শ মেনে নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আপনাদের কোনো পরামর্শ থাকলে বলুন। প্রতিটি ভালো উদ্যোগের সমালোচনা কেন?

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজে সমালোচনা না থাকলে, বিকল্প না থাকলে সমাজ এগোবে না। সেজন্য সমালোচনা তো হবেই, কিন্তু সেই সমালোচনার পাশাপাশি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে; সেই অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। গণমাধ্যম কর্মী (পরিষেবার শর্তাবলী) আইন, ২০১৮-এর কিছু বিষয়ে সাংবাদিকরা দ্বিমত পোষণ করেছেন। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই জাতীয় বিষয়গুলি চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদের স্বাধীন প্রচারে হস্তক্ষেপ করছে না। তবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে সর্বশেষ নবম ওজন বোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। আদালত থেকে আদেশ এনে মজুরি বোর্ড না দেওয়া মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, আশার কথা, দেশে আজ অনেক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন রয়েছে। আরো আসছে. এখন সাংবাদিকের সংখ্যা বলা খুবই কঠিন। ডিইউজে নির্বাচনকে ঘিরে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে অনেক রঙিন পোস্টার ও লিফলেট দেখলাম। এটা আমাদের আনন্দের বার্তা দিতে পারে। নতুন সদস্য হওয়ার জন্য চার শতাধিক আবেদন রয়েছে। এটি একটি বার্তাও দেয়। কিন্তু আমরা যদি এর বিপরীত চিত্র দেখি, একটি করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। দেশের সব সাংবাদিক ভালো, এটা খুব শক্ত করে বলা যাবে না। আমাদের মধ্যে কিছু সাংবাদিক সম্ভবত ভালো। কিন্তু বাকিটা ভালো না। যখন কেউ অসুস্থ হয়, মারা যায় বা চাকরিচ্যুত হয়, আমরা সেটা বুঝি।

সাইফুল আলম বলেন, প্রয়াত সিনিয়র সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন, আলতাফ মাহমুদ, আক্তার আহমেদ, ওয়াহেদ মুরাদ প্রমুখের তৈরি পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি নতুন নেতৃত্ব মিডিয়ার এই সম্প্রসারণের সময় আমাদের রুটি-মাখনের সংগ্রামকে আরও তীক্ষ্ণ করবে। আমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই আরও তীব্র হবে। আমরা সফল হলেই বলতে পারি- আমরা একটা জায়গায় পৌঁছে গেছি। বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন ও স্বাধীনভাবে চলছে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।

বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি ও অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনারা যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করবেন। যার পেশাদারিত্ব আছে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন বা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভালো নেতা হতে পারেন। যাদের পেশাদারিত্ব নেই, যারা মিডিয়ায় কাজ করে না তারা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে পারবে না। তাই আগামী নির্বাচনে যোগ্য, ভালো ও পেশাদার সাংবাদিকদের নির্বাচন করবেন।

বিশেষ অতিথি বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, সাংবাদিকদের রুটি-মাখনের অধিকার নিশ্চিত করাই ইউনিয়নের দায়িত্ব। চাকরি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আরেকটি দায়িত্ব মর্যাদা নিশ্চিত করা। সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন অটল থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মুনজুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব দীপ আজাদ। ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু সঞ্চালনা করেন।

বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মামুন ফরাজী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল প্রমুখ। রফিকুল ইসলাম রতন, আতিকুর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব শেখ মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, দপ্তর সম্পাদক সেবিকা রানী।

সকাল ১১টায় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিইউজে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্কার্ফ পরিয়ে দেওয়া হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, দেশের মানুষের জীবনযাএার মান আরও উন্নত হওয়ার পিছনে মাথাপিছু আয় ও দ্রব্য ক্রয়ক্ষমতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে থাকে। বর্তমানে দেশে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, যার কারনে তারা অনেকটা বিপাকে পড়েছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের জোর নজর দেওয়া উচিৎ, সরকার অন্য বিষয়গুলো যেভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করছে, তেমনভাবে দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক রাখা এবং কমানোর চেষ্টা চালানো উচিৎ।

 

About bisso Jit

Check Also

ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধে উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জ্যাব) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *