Wednesday , July 24 2024
Breaking News
Home / Countrywide / বউ রেখেই বিয়ের আসর থেকে পালালেন বর, হলো না শেষ রক্ষা

বউ রেখেই বিয়ের আসর থেকে পালালেন বর, হলো না শেষ রক্ষা

বাল্যবিবাহ সমাজের একটি অন্যতম অপরাধ। ঢাকার ধামরাইয়ে( Dhamrai Dhaka ) বাল্যবিয়ের একটি ঘটনা ঘটার সময় সেখানে হাজির হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেট। নবম শ্রেণী পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীকে অনেকটা জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে ঐ নাবালিকা মেয়েটির বিবাহ বন্ধ হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলায় এই ঘটনা ঘটে। কনের বাবা ও বরকে ভ্রমমাণ আদালত ৬০,০০০ টাকা জরিমানা করে।

ঢাকার ধামরাই ( Dhamrai )য়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের ভয়াবহ অভিশাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বর ও কনের বাবাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের নগদ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ ( Hossain Mohammad ) হাই জকি।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা কমিশনারের মোড় এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের ( Abdur Razzak ) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে তালতলার কমিশনার মোড় মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের( Abdur Razzak ) মেয়ে ও ধামরাই( Dhamrai ) হার্ডিঞ্জ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী শামীমা আক্তারের( Shamima Akter ) মতামত উপেক্ষা করে বিয়ে হয়। বর টাঙ্গাইল( Tangail ) জেলার নাগরপুর( Nagarpur ) থানার দুনিগ্রাম( Dunigram ) থানার মো. সাজ্জাদুর( Md. Sajjadur ) রহমানের সঙ্গে বিয়ে পড়ানোর কাজও চলছিল শাহ আলমের( Shah Alam ) ছেলে মো.

খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধামরাই ( Dhamrai ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ ( Hossain Mohammad ) হাই জকি পু’লিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই স্কুলছাত্রীর বাবাকে আটক করে পু’লিশ। আব্দুর রাজ্জাক ও বর মো. সাজ্জাদুর ( Md. Sajjadur ) রহমান। যদিও ১৮ বছরের আগে বিয়ে না করার শর্তে তাদের মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, কনের বাবাকে ৫০,০০০ টাকা এবং বরকে ১০,০০০ টাকা (মোট ৬০,০০০ টাকা) জরিমানা করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবু সাঈদ ( Md. Abu Saeed ) বলেন, আমার ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহ হবে না। তাই তথ্য দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসতিয়াক আহমেদকে ( Md. Istiaq Ahmed ) জানালাম। তিনি তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে করতে নিষেধ করেন। কিন্তু স্কুলছাত্রীর পরিবার তার কথায় কান না দিয়ে বিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করে। পরে বিষয়টি ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করেন। এরপর তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ​​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। কনের বাবাকে ৫০,০০০ টাকা এবং বরকে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য দেশে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তার পরও বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সরকারকে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ কারা সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

 

About bisso Jit

Check Also

ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধে উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জ্যাব) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *