Monday , July 22 2024
Breaking News
Home / Exclusive / প্রেমের টানে হেলিকপ্টারে উড়ে বরিশালে জার্মান যুবতী, ফুল দিয়ে বরণ

প্রেমের টানে হেলিকপ্টারে উড়ে বরিশালে জার্মান যুবতী, ফুল দিয়ে বরণ

প্রেম ভালোবাসা এমন একটি বন্ধন যার দ্বারা একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গড়ে তোলে সম্পর্ক। ভালোবাসার এমন সম্পর্কের জন্য অনেকে তাদের নিজেদের পরিবার, ধর্ম এমনকি দেশও ত্যাগ করে দেয়। যার নিদর্শন যুগ যুগ ধরে উঠে এসেছে সবার সামনে। ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে অনেক যুবক ও যুবতি আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজেদের জীবনাবসনের মত ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে। এমনি এক প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশি এক যুবতি সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের ( Bangladesh ) মানুষের কাছে।

প্রেমের টানে সুদূর জার্মানি ( Germany ) থেকে বাংলাদেশে এসেছেন এক তরুণী। মেয়েটির নাম আলিসা থেওডোরা পিত্তা।

আর যার জন্য সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ( Charbaria ) ইউনিয়নের রাকিব হোসেন( Rakib Hossain ) শুভ।

শুক্রবার বিকেলে কনেকে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে( Hazrat Shahjalal International Airport ) পৌঁছান শুভ। শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে বরিশাল যান। গ্রামবাসী দলে দলে ভিনদেশি বধূদের দেখতে আসেন। পরে শুভর স্বজনরা কনেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

জানা গেছে, প্রেমের জের ধরে জার্মানির তরুণী আলিসাকে( Alyssa ) বিয়ে করেন শুভ। তবে সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়নি। এ জন্য তিনি বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। তারা সেখানে বউভাত ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

শুভ বরিশালে ( Barisal )র চরবাড়িয়া ( Charbaria ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের( Awami League ) সভাপতি শহিদুল ইসলামের ( Shahidul Islam ) ছেলে। তিনি রেলওয়ে ডিপ্লোমা পাস করেন এবং ২০১১ সালে জার্মানিতে ( Germany ) চলে যান। সেখানে তিনি সিটি রেলওয়ে সার্ভিসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এক পর্যায়ে, বেইলি ফিল্ড ডায়াল্যান্ড্রভ এলাকার বাসিন্দা আলিসা থিওডোরা ( Alyssa Theodora ) তার বাবার সাথে পরিচিত হন। আলিসা পেশায় একজন নার্স। সেখানে তার বাবা-মা চাকরি করেন।

শুভ বলেন, “গত বছরের ৫ মার্চ আলিসা ইসলাম ( Alyssa Islam ) গ্রহণ করেন এবং আমাকে আলিসা বেগম ( Alyssa Begum ) বলে বিয়ে করেন। শনিবার আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। তাই শুক্রবার জার্মানি ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছি। শনিবার  সকালে বরিশাল বিমানবন্দরে ( Barisal Airport ) পৌঁছান। এরপর হেলিকপ্টারে করে আলিসাকে( Alyssa ) নিয়ে বাড়ি ফিরি। আলিসার সঙ্গে রয়েছেন তার বান্ধবী লিসা।

শুভ বলেন, যেহেতু তিনি জার্মানিতে( Germany ) একই এলাকায় থাকেন, তাই প্রায়ই আলিসার সঙ্গে দেখা হয় এবং কথা হয়। এভাবে কিছুদিন থাকার পর আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিল। আমরা দুজনেই বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের মধ্যে ভালবাসার জন্ম হয়েছে। কিন্তু কে আগে অফার করবে তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। ব্যাপারটা মাথায় রেখে দুজনকে আরও বোঝার চেষ্টা করলাম। আমি যখন বুঝতে পারলাম,আলিসা আমাকে তার হৃদয়ে চায়। তারপর আমি প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুভ বলেন, একদিন আলিসার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলাম। উত্তর আসতেই বুঝলাম আলিসাও অফারটির জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রেম হয়ে যাওয়ার পর ভালোবাসার কথা আর সেভাবে বলা হয় না। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার পরিবারকে জানালাম। তাদের সম্মতি পাওয়ার পর, আমি আলিসাকে ( Alyssa ) তার পরিবারকে বোঝাতে বলি। আলিসার পরিবারও আমাদের প্রেমে রাজি হয়েছিল। পর দুই পরিবারের সম্মতিতে আমরা বিয়ে করি।

শুভ বলেন, বাংলাদেশে আসতে আমাদের দুজনকেই ছুটি নিতে হবে। এ জন্য আমরা আগে থেকেই বিবাহবার্ষিকীর দিন ঠিক করে রাখি। সেদিন দেশে যাবো। এভাবেই ছুটিতে আমার স্ত্রীকে জার্মানি থেকে বরিশালে( Barisal ) নিয়ে যাই। দেশের মাটিতে পা রাখার পর কতটা ভালো লেগেছে বলতে পারব না।

শুভ বলেন, আমরা বিদেশে বিয়ে করেছি। সেখানে আমাদের সমাজের রীতিনীতি, উৎসব পালন করতে পারিনি। আমাদের দেশে বিয়ে আগের মতো উৎসবমুখর হয় তা ওইখানে হয়নি। বিয়েটা নতুনভাবে উদযাপন করতে চাই। আলিসাও আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ। তিনিও চান এদেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী বিয়ে হোক। আমার এবং আলিসার ইচ্ছায়, আমার বাবা-মা এবং আত্মীয়রা একটি নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগামী ৯ মার্চ হবে আমাদের গায়েহলুদ। ১০ মার্চ, গ্রামবাসীদের জন্য একটি বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শুভর বাবা চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, ছেলে বিদেশে বিয়ে করে এতদিন সেখানেই আছে। অনেক দিন পর পুত্রবধূকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন। ছেলের বিয়েতে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিতে পারিনি। এ জন্য গায়েহলুদ ও বউভাতের আয়োজন করেছি। তাদের বিয়েতে আমি খুব খুশি।

প্রসঙ্গে, পৃথিবীর সকল ভালোবাসা এভাবেই সফলতা পাক এমনি প্রত্যাশা জানিয়েছেন অনেকেই। শুভ এবং আলিসা দম্পতি ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে এবং নিজ দেশ ছেড়ে ভিন্ন দেশের এক নাগরিককে বিয়ে করে ভালোবাসার এক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে সবার সামনে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাদেরকে যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আলিসার ঐ যুবককে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে কোন প্রকার অনীহা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন শুভ। ছেলে এবং মেয়ের উভয় পরিবার তাদের সম্পর্ককে সদরে গ্রহণ করেছেন।

 

About bisso Jit

Check Also

এখনো পরিচয় মেলেনি, মায়ের লাশের পাশে বসে কান্না করা আলোচিত সেই শিশুটির

৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিহত নারীর লাশের পাশে কান্না করা শিশুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। মর্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *