Sunday , April 21 2024
Breaking News
Home / Abroad / জানাগেল বিশ্বের ৪২ দেশের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের সংখ্যা

জানাগেল বিশ্বের ৪২ দেশের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের সংখ্যা

বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য দেশ রয়েছে। এই সকল দেশ গুলোর মধ্যে অধিকাংশ দেশেই বসবাস করছে অসংখ্য বাংলাদেশী। বর্তমান সময়ে বিশ্বে প্রায় ১ কোটির বেশি বাংলাদেশী বসবাস করছে। তবে অনেকেই আবার নানা অপরাধের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কা/রা/গারে বন্ধি জীবন-যাপন করছে। অবশ্যে অনেকেই নানা মেয়াদে সাজা খেটে দেশে ফিরেছে আবার অনেককেই সরকার ফিরিয়ে এনেছে। সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় ৪২ দেশের কা/রা/গা/রে ব/ন্দী বাংলাদেশিদের সংখ্যা উঠে এসেছে প্রকাশ্যে।

দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের মাফুসি কারা/গা/র। ছোট্ট দেশটির এই কারা/গা/রেই ব/ন্দী আছেন প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি। বিভিন্ন অপ/রাধে তারা গ্রে/ফ/তার হয়ে ভোগ করছেন সাজা। গত সপ্তাহে সেই কারা/গা/র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। দেখা করেছেন কারা/ব/ন্দীদের সঙ্গে। দিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের পোশাক। অন্যদিকে ইউরোপের ছোট্ট দেশ মাল্টা। সেখানকার কারা/গা/রেও বন্দী আছেন ১৫৬ বাংলাদেশি। তাদের অপরাধ- অবৈধভাবে মাল্টায় প্রবেশ ও অবস্থান। ইউরোপে যাওয়ার সময় মাল্টার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আ/ট/ক হয়ে কা/রা/জীবন পার করছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সেখান থেকে সুযোগ বুঝে ইউরোপের দেশ ইতালিতে প্রবেশ করা। জনপ্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করে মাল্টা পৌঁছানো এসব বাংলাদেশির রাজনৈতিক ও মানবিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মাল্টা সরকার। এখন তাদের ফেরত পাঠাতে চায় মাল্টা। গত জানুয়ারিতে এমন ৪৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায়েছিল মাল্টা।

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় মেক্সিকোর ভূখণ্ড থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আ/ট/ক হয়েছেন কয়েক শ বাংলাদেশি। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর বিভিন্ন কারা/গা/রে আ/ট/ক। বাংলাদেশি ব/ন্দী/দের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এই বন্দীর সঠিক সংখ্যা না থাকলেও গত ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে যথাক্রমে ১৪৯, ১৬৭, ৩২৮, ৬৯০, ৬৪৮, ৬৯৭ ও ১২০ বাংলাদেশি আ/ট/ক হন বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা খবর দিয়েছে। প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারা/গা/রে ঠিক কতসংখ্যক বাংলাদেশি আ/ট/ক ও বন্দী রয়েছেন তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই কোথাও। তবে বর্তমানে বিশ্বের ৪২টি দেশে কমপক্ষে ২০ হাজার বাংলাদেশি বন্দী হয়ে আছেন। এ সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। কারণ সরকারের পরিসংখ্যানে শুধু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়াদের তথ্যই আছে। প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বা যাদের কাছে ডকুমেন্টস নেই তাদের সংখ্যা সেভাবে উঠে আসে না। এর মধ্যেই প্রতিদিন প্রচলিত ও অপ্রচলিত পথে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ভাগ্য বদলের আশায় তারা বৈধ পথের পাশাপাশি যাচ্ছেন অবৈধ পথেও। অনেকেই গিয়ে আ/ট/ক হচ্ছেন সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা/কা/রী বাহি/নীর হাতে। আবার অনেকে মেয়াদ শেষে বাড়তি অবস্থান করে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। বেশির ভাগই লুকিয়ে থেকে কাজ করছেন। কেউ কেউ গ্রে/ফ/তার হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো বাংলাদেশি জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। প্রবাসের মাটিতে চু/রি, মা/দ/ক পা/চা/র থেকে শুরু করে রো/ম/হ/র্ষ/ক খু/ন পর্যন্ত করছেন বাংলাদেশিরা।

অবশেষে ঠাঁই হচ্ছে বিদেশের কা/রা/গারে। নতুন যুক্ত হয়েছে প্রবাসে মা/দ/ক ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার হার আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়া। ঢাকার একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, গত ১০ বছরে সরকারের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আ/ট/ক ও ব/ন্দী/র সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে উল্লেখ করে সংসদে তথ্য দেওয়া হয়েছে। আবার একই সংসদে লিখিতভাবে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালে বিদেশের কা/রা/গার থেকে সাড়ে ৪৯ হাজার বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার তথ্য দেওয়া হয়। সংসদের নথি অনুসারে, ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রয়ারি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখিত প্রশ্নোত্তরে জানান, বিশ্বের ৪৭টি দেশের কারাগারে ৪ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক আছেন। ২০১৪ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় ৭ হাজার ৮৫৯ জন আছেন বিদেশের কা/রা/গা/রে। ২০১৫ সালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সংসদে তথ্য দেন বিদেশের কা/রা/গা/রে আছে ৪ হাজার ৫৭৭ জন। আবার ২০১৬ সালের ৬ জুন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সংসদে লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত বিদেশের কারাগার থেকে ৪৯ হাজার ৫০৩ জন বাংলাদেশি মুক্তি পেয়েছেন। তিনি কোন দেশ থেকে কতজন মুক্তি পেয়েছেন তার পরিসংখ্যানও জানান সংসদে।

সর্বশেষ ক/রো/না ভা/ই/রা/সের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে ৮ হাজার ৮৪৮ বাংলাদেশি আ/ট/ক থাকার তথ্য সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫১ বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন কারা/গা/রে ব/ন্দী। তাদের মধ্যে কলকাতায় ২ হাজার ৩১ জন। এ ছাড়া সৌদি আরবে ১ হাজার ২৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ হাজার ১৫৬, বাহরাইনে ৬৯৩, মালয়েশিয়ায় ৫৭২, ওমানে ৪৪২, কাতারে ৩৫১, কুয়েতে ৩১৬, ইরাকে ২৭৫, ইরানে ২৪৩, যুক্তরাজ্যে ১২৬ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৭৯ বাংলাদেশি আ/ট/ক আছেন। গত দুই বছর সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে করো/না/ভাই/রাস সং/ক্র/মণ শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, কাতার, ওমান, আরব আমিরাত তাদের কা/রা/গা/রে আটক ১ হাজারের মতো বাংলাদেশিকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। সিরিয়া থেকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে অর্ধশত বাংলাদেশিকে।

মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কর্তাদের দাবি, পাসপোর্ট ভিসার জটিলতা ও অপরাধের কারণে কারা/গা/রে যাওয়া দুই ধরনের বিষয় হিসেবেই ধরা হয়। আবার সব সময় কতজন বাংলাদেশি বিদেশের কা/রা/গা/র/গু/লোয় ব/ন্দী বা আ/ট/ক আছেন তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়াও কঠিন। আ/ট/ক/দের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশ মিশনে যোগাযোগ করলেই কেবল তাদের খোঁজ রাখা সম্ভব হয়। বিদেশে কোনো নাগরিক কা/রা/গা/রে গেলে অনেক সময় দেশ থেকে স্বজনরা ঢাকায় প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে থাকেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। আবার কারা/গা/রে আ/ট/ক ব্যক্তিরা ছাড়া পেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বজনদেরই বিমান ভাড়া বহন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লেগে যায়। এ ছাড়া এক এক দেশের আইন একেক রকম। আইনি পদক্ষেপ শেষে কা/রা/গার থেকে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারে অনেক সময় লেগে যায়। আইনগত জটিলতা থাকার কারণে অনেকে সহজেই কা/রা/গা/র থেকে মুক্তি পান না। অনেক দেশে নেই মিশনও। তাই তালিকার বাইরেও থেকে যান অনেক ব/ন্দী। তবে খোঁজ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উদ্ধারের গতি শ্লথ হলেও চেষ্টা ও উদ্যোগ উভয়ই আছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কূটনীতিকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ম/দ, গাঁ/জা ও ই/য়া/বা সম্পর্কিত অপ/রা/ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যেখানে মা/দ/ক ব্যবসা সর্বোচ্চ সাজার অপরাধ সেখানে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়াকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন তারা। কারণ শ্রম আইনবিষয়ক কিছু হলে আইনি সহায়তা করা হয়। কিন্তু ফৌজদারি কোনো অপরাধ হলে সেভাবে আইনি সহায়তার সুযোগ থাকে না।

সৌদি আরব থেকে ফৌজদারি অপরাধী ৬০৩ বাংলাদেশিকে ফেরানোর উদ্যোগ : দূতাবাসের দেওয়া তথ্যমতে, সৌদি আরবের মালাজ জে/লে ৯৭, আল হায়ের জে/লে ১৮৭, দাম্মাম সেন্ট্রাল জে/লে ১৫৬, আল হাসা জে/লে ৩১, আল খোবার জে/লে ৩৩, আল জোবাইল জে/লে ৪৯, কাতিফ জে/লে ১২, হাফার আল বাতেন জে/লে ১৯, হাইল জে/লে ১৮, বুরাইদাহ জে/লে ১৮, কুরাইয়াত জে/লে ১, আরার জে/লে ৩, সাকাকা জে/লে ৬ জন বাংলাদেশি আ/ট/ক রয়েছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এদের কেউ রেসিডেন্সি আইন বা লেবার আইন ভঙ্গের কারণে ডিপোর্টেশন সেন্টারের নন। এদের জন্য দূতাবাস থেকে সৌদি সরকারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা দ্রুতই শেষ হবে, তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যাদের সাজার মেয়াদ এক-চতুর্থাংশ শেষ হয়েছে তাদের উত্তম ব্যবহারের ভিত্তিতে অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। যারা প্রথম অপরাধে আটক হয়েছেন তাদের সাজার মেয়াদ মওকুফ করে দেশে পাঠানো যায়। যারা তুচ্ছ ও ছোট অপরাধে আ/ট/ক হয়েছেন তাদেরও সাজা মওকুফ করে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। এখন সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর বাকিটা নির্ভর করছে।

প্রতিবছরেই বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ জীবিকার তাগিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকেই বৈধ-অবৈধ নানা ধরনের পন্থা অবলম্বন করছে। তবে বাংলাদেশ সরকার অবৈধ ভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়া প্রতিরোধ করতে গ্রহন করেছে নানা ধরনের পদক্ষেপ। এমনকি সরকারি ভাবে এবং বৈধ উপায়ে বিদেশে প্রেরনের জন্য সরকার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে ইচ্ছুক বিদেশগামীদের।

About

Check Also

প্রবাসীদের জন্য সুখবর, সহজেই মিলবে ইতালি থেকে আমেরিকার ভিসা

বর্তমানে প্রায় ১৪০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ইতালিতে অবস্থান করছেন। যাদের অনেকেই দেশ থেকে অন্য দেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *