Wednesday , April 17 2024
Breaking News
Home / Countrywide / প্রথম শ্রেনিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর বয়স ১০৭ বছর

প্রথম শ্রেনিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর বয়স ১০৭ বছর

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় অবস্থিত মঙ্গলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে মোছা. আনিকা জাহান সেতু। জন্মসূত্র হিসাবে তার যে প্রকৃত বয়স সেটা হলো সাড়ে সাত বছর। কিন্তু জন্ম সনদে যে বয়স দেখানো বা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা দেখার পর হতভম্ভ হয়ে যাবে যে কেউ। সনদে এই প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর বয়স ১০৬ বছর ৬ মাস। এ বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে, অনিকা জাহান বাড়ি পাকুন্দিয়া পৌর এলাকাধীন সৈয়দগাঁও নামক গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ ওয়াসিম। ঐ একই এলাকার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করেন। সেতুর জন্ম ২৪ মে, ২০১৪ সালে। তার মতে, তার ইপিআই টিকা কার্ডেও জন্ম তারিখ ২৪ মে ২০১৪ লেখা আছে।

কিন্তু পৌরসভা থেকে তার জন্মের যে সনদপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ২৪ মে ১৯১৪। সে হিসেবে জন্মের সনদপত্রে তার বয়স ১০০বছর বেশি লেখা হয়েছে। অর্থাৎ জন্মের সনদপত্র অনুযায়ী সাড়ে সাত বছরের সেতুর বয়স এখন ১০৭ বছর ছয় মাস।

প্রায় তিন মাস আগে উপবৃত্তির টাকা পেতে আবেদন করার জন্য জন্মের সনদপত্র আনতে বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার নানাকে বলে সে। পরে জন্মের সনদপত্র আনতে তার নানা পাকুন্দিয়া পৌরসভা কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে জন্মের সনদপত্র এনে প্রধান শিক্ষকের হাতে দেন তার নানা।

জন্মের সনদপত্রটি দেখে প্রধান শিক্ষক আরটিভি নিউজকে জানান, এতে তার বয়স ১০০ বছর বেশি লেখা হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন তিনি। সেখান থেকে জানানো হয়, বয়স সংশোধন করতে হলে আদালতে মামলা করতে হবে। এরপর সংশোধনের জন্য পৌরসভায় আবেদন করতে হবে।

মোঃ আলমাছ উদ্দিন যিনি মঙ্গলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পৌরসভা অফিসের দায়িত্বে রয়েছেন যারা তারাই এই ধরনের গুরুতর ভুল করেছেন। তাদের ভুল করছেন কিন্তু তার পরিবার চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

সৈয়দ শফিকুর রহমান যিনি পাকুন্দিয়া পৌরসভার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ঐ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সার্টিফিকেটটি যে সময় টাইপ করা হয়েছে সেই সময় ২০১৪ এর জায়গায় ভুল করে ১৯১৪ টাইপ করা হয়ে যেতে পারে। যাইহোক, এটি কোনোভাবে ছোট খাটো ভুল বলা যাবে না। আমরা ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করবো বিষয়টি নিয়ে এবং খুব কম সময়ে বিষয়টির কিভাবে সংশোধন করা যায় সেটি দেখা হবে এবং এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

 

 

About

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *