Thursday , June 20 2024
Breaking News
Home / Countrywide / ১৮টি অপরাধের সাথে জড়িত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিভাগের সদস্যরা

১৮টি অপরাধের সাথে জড়িত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিভাগের সদস্যরা

দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বা’হি’/নীর সদস্যরা যে সকল অ’পরা/ধ করে থাকে সে বিষয়ে অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ‘পু’/লি’শ অভিযোগ তদন্ত কমিশন’ গঠন করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হতে পারে যে কোনো দিন। গতকাল (সোমবার) রিটটির শুনানির জন্য আদালতের প্রতিদিনকার কার্য তালিকায় ছিল।

বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বিত ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হবে বলে জানান আইনজীবি মোহাম্মদ শিশির মনির।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা’হি’/নীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়ার মাধ্যমে একটি রিট আবেদন করা হয়। মোহাম্মদ শিশির মনির নামের একজন আইনজীবি সুপ্রিম কোর্টের ১০২ জন আইনজীবীর পক্ষে এ রিটটি করেন বলে জানা গেছে। রিট আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পু’/লি’শের মহাপরিদর্শককে (আইজিপিকে) বিবা’দী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, আইন শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়। কমিটি এ বিষয়ে মতামত সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে দাখিল করবে।

রিটের পিটিশনে ১৪৫ পৃষ্ঠার আবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি আকারে ১ হাজার ৫২২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছে। রিটে ৮টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ পু’/লি’শ বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, পু’/লি’শের গৌরবময় অর্জনের বর্ণনা রযেছে। তাদের শৃঙ্খলা বিধানের বর্তমান আইনি কাঠামো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পু’/লি’শ সদস্যদের সংঘটিত অপ’রাধ ও অসদাচরণের বিবরণ দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৫৮৯টি এ সংক্রান্ত ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাগুলোর সংবাদ রিট আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এসব ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পু’/লি’শ বাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিচারবহির্ভূত হ’/’ত্যা, হেফাজতে মৃ’/’ত্যু ও নি’/র্যা/ত’ন, গু’/ম, অপ/’হ’রণ ও মুক্তিপণ আদায়, খু’/’ন, মা’/রধ’/র, হু’/ম’কি ও হয়’/রা’নি, নারীদের সাথে খারাপ কাজ, ইভটিজিং ও নারী নি’/র্যা’/ত’ন, চু’/রি, ডা’/কা’তি, ছি’/নতা’/ই ও লু’/টপা’/ট, চাঁদাবা’জি, দুর্নী’তি, ঘুষ-বাণিজ্য ও ভ’/’য় দেখিয়ে টাকা আদায়, জমি দ’/খল ও সম্পত্তি বিন’ষ্টকরণ, নিষিদ্ধ দ্রব্যের ব্যবসা ও উদ্ধারকৃত নিষিদ্ধ দ্রব্য আত্মসাৎ, আটক বাণিজ্য, অপ’রাধীদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া, মামলা নিতে গড়িমসি ও মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, মিথ্যা ও পাল্টা মা’মলা দিয়ে হয়’রা/নি, তদন্তে গাফিলতি, হয়’রা/নি ও ঘুষ নেয়া, সাংবাদিক নি’/র্যা/’ত’ন, কর্তব্যে অবহেলা, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিন’ষ্টকরণ ও আ’সা/মিদের নাম বাদ দেয়া এবং নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে দুর্নী’তিসহ ১৮ ধরনের অপ’রা/ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ বিদ্যমান আইনি কাঠামোর দুর্বলতায় এসবের কোনো প্রতিকার নেই।

আইন-শৃঙ্খলা বা’/হি’নীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ কর হযেছে রিটে। অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, দৃষ্টান্ত হিসেবে পু’/লি’শ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৬টি মামলার কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত পু’/লি’শ সদস্যরা চূড়ান্ত রিপোর্ট বা আপসের মাধ্যমে অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “তদন্ত” বিচার প্রক্রিয়াটির প্রথম ধাপ। ন্যায়বিচারের প্রধান শর্ত হচ্ছে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সুষ্ঠু তদন্ত সংবিধানের ৩৫ (৩) এবং ২৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো একজন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। বর্তমান আইনি কাঠামোতে পু’/লি’শের যদি কোনো অপরাধ করে থাকে সেক্ষেত্রে যে অভিযোগ করা হয়ে থাকে সেটার তদন্তের দায়িত্ব পু’/লি’শের ওপর ন্যস্ত। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ২০০৭ সালে ‘পু’/লি’শ অধ্যাদেশ’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ৭১ ধারায় ‘পু’/লি’শ অভিযোগ কমিশন’ গঠনের বিধান প্রস্তাব করা হয়।

কিন্তু খসড়া অধ্যাদেশটি প্রনয়ন করার পর সেটা আজও আইনে পরিণত করা হয়নি। রিটের সঙ্গে ৮ টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নীতিমালা সংযুক্ত করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক দলিলগুলি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বা’/হি’নীর অপ’রা’ধ তদন্ত করার জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ/কমিশন গঠন করার জন্য তাগিদ দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের কমপক্ষে ২৫ টি দেশে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে। রিট পিটিশনটিতে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিখ্যাত প্রকাশ সিং বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় পু’/লি’শ ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ৭ দফা নির্দেশনারও উল্লেখ করেn.

 

 

 

 

 

 

About

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *