Sunday , June 23 2024
Breaking News
Home / Entertainment / নিষিদ্ধ দ্রব্যের কান্ডে পরীমনি ও রাজের কী সাজা হতে পারে জানালেন পাবলিক প্রসিকিউটর

নিষিদ্ধ দ্রব্যের কান্ডে পরীমনি ও রাজের কী সাজা হতে পারে জানালেন পাবলিক প্রসিকিউটর

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের আলোচিত এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মা’মলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মা’মলার বিচার কার্য সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের এই সকল মাম’লার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, বলে জানা গিয়েছে।

তাপস কুমার পাল যিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পরীমনি এবং রাজ এই দুজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। এমনকি সেই সাথে জরিমানাও হতে পারে।

পরীমনির নিষিদ্ধ দ্রব্যের মামলার চার্জশিট পাওয়ার অপেক্ষা
আগামী ১৫ নভেম্বর নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি এবং সেই সাথে আরো দুই জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা রয়েছে। মামলার অপর দুই জন অভিযুক্ত হলেন আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তাদের বিষয়ে শুনানি হবে।

গত ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক), ২৪(খ), ২৯(ক), ৩৮ ও ৪২(১) ধারায় অপ’রা/ধের প্রমাণ পাওয়া গেছে মর্মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে প্রতিবেদন দাখিল হওয়া পর্যন্ত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কা’রাগার থেকে মুক্ত হন এ চিত্রনায়িকা। এরও আগে গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেলে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে বনানী থা’/নায় নেওয়া হয়।

এরপর র্যাব বাদী হয়ে বনানী থা’/নায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। সে মামলায় পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে চারদিন ও পরে আরও দু’দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে নিষিদ্ধ দ্রব্য সেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘ম’/’দের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যাল’/কো’/হলসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ দ্রব্যর সরবরাহ করতেন ও বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিতেন।

২০১৪ সালে রুপালি পর্দায় ক্যারিয়ার শুরু করা পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি চলচ্চিত্র ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। তাকে চলচ্চিত্রপাড়ায় নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

অভিযোগ প্রমাণ হলে যে শা’/স্তি হতে পারে পরীমনির
পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যেসব ধারায় মামলা হয়েছে, এরমধ্যে ৩৬ (১) এর সারণি ২৪(খ) ধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ দ্রব্য দ্রব্যের পরিমাণ ১০ কেজি বা লিটারের বেশি এবং ১০০ কেজি বা লিটারের কম হলে কমপক্ষে তিন বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কা’/রাদ’ণ্ড ও অর্থদ’ণ্ড হবে।

৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ দ্রব্যের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে কমপক্ষে এক বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরে কা’রাদ/ণ্ড ও অর্থদ’ণ্ড হবে।

৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি সজ্ঞানে নিষিদ্ধ দ্রব্য অ’/পরা’ধ সংঘটনের জন্য তাহার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গাজমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজসরঞ্জাম কিংবা কোনো অর্থ অথবা সম্পদ ব্যবহার করিতে অনুমতি প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) বছর কা’রাদ/ণ্ড ও অর্থদ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হইবে।

৪১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো নিষিদ্ধ দ্রব্য অ’প/রাধ সংঘটনে কাউকে প্ররোচনা দিলে অথবা সাহায্য করলে অথবা কারও সঙ্গে ষ’/ড়য’ন্ত্রে লিপ্ত হলে অথবা এ উদ্দেশ্যে কোনো উদ্যোগ অথবা চেষ্টা করলে নিষিদ্ধ দ্রব্য অপ’রা/ধ সংঘটিত হোক বা না হোক, তিনি সংশ্লিষ্ট অপ’রা/ধের জন্য নির্ধারিত দ’ণ্ডের মতো দ’/ণ্ড পাবেন।

৪২ (১) ধা’রায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি এ আইন অথবা বিধির কোনো বিধান ল’/ঙ্ঘন করে যাতে স্বতন্ত্র কোনো দ’ণ্ড নেই, তাহলে তিনি ওই অপ/রা’ধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর কা’রাদ/ণ্ড ও অর্থদ’ণ্ডে দ’ণ্ডিত হবেন।

রাজের নিষিদ্ধ দ্রব্য মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত
রাজধানীর বনানী থা’নায় নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মা’মলায় আলোচিত প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীর বিরু’দ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। মাম’লাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত মামলার নথি গ্রহণ করেছেন। তবে পরবর্তী শু’নানির দিন এখনো ধার্য হয়নি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন। এর আগে ২৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

অভিযোগপত্রে রাজের সহযোগী সবুজ আলীকেও আ’সা/মি করা হয়েছে। অপরদিকে ঝন্টু মিয়ার পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে আপাতত মা’মলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ১৮ জনকে। সবুজ ছিলেন রাজের অফিসের পিয়ন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রাজ ২০১৪ সাল থেকে নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ শুরুর পর এক পর্যায়ে ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসময় বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে নিষিদ্ধ দ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা করতেন তিনি। নিষিদ্ধ দ্রব্য কারবারের কাজে তার নিজস্ব দুটি জিপ গাড়ি ব্যবহার করা হতো।

রাজের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর ৩৬ (১) এর ২৪ (খ)/১০(ক)/৩৮ ধারায় অ’পরা/ধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিষিদ্ধ দ্রব্য কা’রবারের কাজে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করায় সবুজ আলীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬ (১) এর ২৪ (খ)/১০(ক)/৩৮/৪১ ধা’রার অ’পরা/ধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত।

গত ৪ আগস্ট বিকেলে চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর বাসায় অভি’যান চালায় র্যাব। প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে ওইদিন রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র্যাব সদরদপ্তরে নেওয়া হয়। আটককালে নায়িকার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ দ্রব্য জ’ব্দ করার কথা জানায় পু/লি’শের এ এলিট ফোর্স।

একইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে নজরুল ইসলাম রাজের বনানীর বাসায়ও অভিযান শুরু করে র্যাব। অভিযান শেষে রাজকে রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আ’ট/ক করে নিয়ে যায় র্যাব সদস্যরা। রাজের বাসা থেকেও নিষিদ্ধ দ্রব্য ও খারাপ ছবি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।

এরপর ৫ আগস্ট পরীমনির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র্যাব বা’দী হয়ে একটি মাম’লা করে। আর রাজের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও খারাপ ছবি নির্মানের আইনে আলাদা দুটি মাম’লা করা হয়। বর্তমানে রাজ কারাগারে রয়েছেন। আর জামিনে আছেন পরীমনি।

রাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শা’/স্তি
রাজের বিরুদ্ধেও নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ২৪(খ)/১০(ক)/৩৮, ৩৬ (১) এর সারণি ২৪ (খ), ৩৬ (১) এর সারণি ১০ (ক) ও ৩৮ ধারা অনুযায়ী শাস্তি হবে।

উল্লেখ্য, পরীমনিকে গ্রেফতারের সময় র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরী মনি ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম রাজ একটি সংগঠিত অ’প/রাধ চক্রের মূল হোতা। পরীমনিকে গ্রেফতারের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি ঐ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। আরো বলা হয়েছিল, গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় সমাজের বিত্তশালীদের টার্গেট করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে নিষিদ্ধ দ্রব্য বিক্রি করে আসছিল। সেই সময় গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল, পরী মনির বাড়িতে একটি মিনিবার রয়েছে এবং সেটা প্রায়শই এই ধরনের পার্টির ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আটক করার পর ঢালিউড অভিনেত্রী পরী মনির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাম’লা হয়েছে।

তার সহযোগী রাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক নজরুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং খারাপ সিনেমা বিষয়ক নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মাম’লা দায়ের করা হয়েছে।

About

Check Also

হঠাৎ না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা, শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা পার্থসারথি দেব। শুক্রবার (২২ মার্চ) কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *