Monday , March 4 2024
Breaking News
Home / National / সামনে আসতে পারে নতুন জোট, কারা হচ্ছে বিরোধী দল

সামনে আসতে পারে নতুন জোট, কারা হচ্ছে বিরোধী দল

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন ছেড়েছে। জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ ১৫টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ওই ট্রেনে ওঠেনি। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে প্রধান বিরোধী দলের আসনে কে বসবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রধান বিরোধী দল হলেও নতুন সংসদে পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন জোট এগিয়ে আসতে পারে, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাহিনীতে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি কাঁপিয়ে দিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দল বা জোটের ন্যূনতম ১৫১টি আসন প্রয়োজন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিয়ে দল বা জোটের আসনে বসবে প্রধান বিরোধী দল। চারটি সংরক্ষিতসহ মোট ২৬টি আসন নিয়ে বর্তমান সংসদে জাপা প্রধান বিরোধী দল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতায় ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে ২২টি আসনে জয়লাভ করে জাপা প্রার্থীরা। তবে এবার আওয়ামী লীগ জাপার সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি রয়েছে। পছন্দের আসন না পাওয়ায় বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও তার ছেলে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদ এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলটি ২৮৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। দলটির ১৮টি আসনে দুজন করে প্রার্থী রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় বিভেদ জাতীয় পার্টিকে কিছুটা পিছিয়ে নিতে পারে।
এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৯৮ আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। পাঁচটি আসনে দুজন করে মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচনে যাওয়ার জন্য দলের সঙ্গে জোটের ঘোষণা দিয়েছে আরও আটটি রাজনৈতিক দল। তাই শরিকদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২৮ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ৩০০ আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবেন। প্রয়োজনে সেখানে ছাড়ের সমন্বয় করা হবে। আগে বুঝতে হবে ১৪ দলীয় জোটে কে মনোনয়ন চান। চৌদ্দটি দলের সঙ্গে আমাদের জোট আছে। আগে তাদের প্রার্থী দেখা যাক। আমাদের কাছে 17 ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থী (ডামি) দেওয়ার পরামর্শের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছদ্মবেশে পড়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। প্রায় প্রতিটি আসনেই দলের মনোনয়ন না পাওয়া একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। ওই তালিকায় বর্তমানে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সিটি মেয়র, সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারা রয়েছেন। এসব ব্যক্তি নৌকার প্রার্থীর জন্য বিষপানে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিএনপি দল হিসেবে নির্বাচনে না গেলেও দলটির নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন জোটের ব্যানারে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা, যাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, তারাও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এবার ৩০০ আসনের বিপরীতে ২৯টি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৯৬৪ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন ৭৪৭ জন। আর বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়ে ফিরলে হিসাব পাল্টে যেতে পারে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ১৫১ ছাড়িয়ে গেলে তারা জোট সরকার গঠন করতে পারে। একইভাবে বিরোধী দলের আসনেও বসতে পারেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী জোটের প্রধান দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি ৮২ জন প্রার্থী দিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত তৃণমূল বিএনপি ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত দলের হয়ে লড়ছেন ১৫১ জন। বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রতিষ্ঠিত দলটি সোনালি আংশ মার্কায় নির্বাচন পরিচালনা করবে। তবে তৃণমূল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে আরও কয়েকটি দল যোগ দিতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসিতে নতুন নিবন্ধন পেয়ে আলোচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলের হয়ে লড়ছেন ৪৯ জন। তবে জাকেরের দল তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে ছোট দলগুলোর সঙ্গে একাধিক জোট হতে পারে। হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হলে বিরোধী দলের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জায়গা করে নিতে পারেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকার গঠন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে হবে। যে দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে মনে হয়

About Zahid Hasan

Check Also

বাবা সৌদি প্রবাসী, ১৯ বছর বয়সে প্রতারণার হাতেখড়ি তার

নওশীন তাবাসসুম। বয়স 22 বছর। পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর হালিশহরে থাকে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *