Monday , March 4 2024
Breaking News
Home / Countrywide / বিএনপিকে কিভাবে দমন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিলেন নেতা কর্মীদের সামনে

বিএনপিকে কিভাবে দমন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দিলেন নেতা কর্মীদের সামনে

সারা দেশে বিএনপি এক নাগাড়ে করে চলছে সভা সমাবেশ। আর এই কারণে দেশে অনেক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সরকার দলীয় লোকেরা।এ দিকে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন এ নিয়ে নতুন কথা। বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে বিএনপিকে থামানো হবে না। তবে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে যেভাবে দমন করা হয়েছিল সেভাবে বিএনপিকে দমন করা হবে।

তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতে হবে। বিএনপি সহিংসতা করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বিভ্রান্তি ছাড় দেওয়া হবে না।

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে এমন বার্তা দেন শেখ হাসিনা। তার বরাত দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য জানান।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ওই নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীদের পাস দেবেন এমন ভাবনা নিয়ে বসে থাকবেন না। এবারের নির্বাচনে সবাইকে নিজ যোগ্যতায় জয়ী করতে হবে। দলীয় সভানেত্রী বলেন, নিজ নিজ এলাকায় দলের সংসদ সদস্যদের অবস্থান জানতে জরিপ চলছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী এমপিরা নির্বাচন কী বোঝেন না, তাদের বোঝা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠক বিকেল ৪টার পর শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়। সভায় সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয় এবং তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে জেলা সফর শুরু করবেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা করবেন। ডিসেম্বরে যশোর, নড়াইল ও চট্টগ্রামে জনসভা করা হবে। সভায় ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করতে ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

গতকালের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, আলোচনার শুরুতে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর দলের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ একদিনে সম্মেলন শেষ করার প্রস্তাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা এতে সমর্থন জানান। জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্মেলন পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কয়েকজন

বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেতাদের জানান। তিনি বলেন, এখন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধনের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকালে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং বিকেলে দলীয় সমাবেশ হবে। এরই অংশ হিসেবে ৪ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রাম যাবেন। বিকেলে পলোগ্রাউন্ডে জনসভা হবে। এরপর নড়াইল ও যশোরে জনসভা করা হবে। তবে ওই দুই জনসভার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া দলের সভানেত্রী দেশের ৬৪টি জেলা সফর করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে দীর্ঘদিন যাবত পরিদর্শন হয়নি এমন জেলা এবং পরে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যা আগামী বছর থেকে শুরু হবে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ছাত্রলীগসহ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির অঙ্গ সংগঠনের সম্মেলন শেষ করার উদ্যোগ নিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের আগামীকাল রোববার ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সম্মেলনের তারিখ নিয়ে আলোচনা করবেন।

গতকালের বৈঠকে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন, তখন নেতারা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসেননি। পরিবারের খোঁজ খবর নেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পেলে সবাই আসবে। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব একবার বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘নেতারা জেলে থাকলে আসে না। মাঠকর্মীরা এসে খোঁজখবর নিতেন। এখন বুঝলাম, ওরা আসছে। মেধাবী নেতারা বিপদে নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার বাবা যখন জেলে ছিলেন, তখন আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে গেলেও নেতারা আমাদের দিকে তাকাতেন না। তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। জামাল (শেখ হাসিনার প্রয়াত ভাই) খুব দুষ্টু, তিনি ব্যবহার করতেন। নেতাদের চাচা বলে ডাকতে।কিন্তু তারা তাকাননি।অত উজ্জ্বল নেতারা বিপদে না থাকলেও বিদ্রোহী,তৃণমূল নেতারা বিপদে।তাই তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

সভায় সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিভিন্ন জেলা সম্মেলনের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ সময় একজন সাংগঠনিক সম্পাদক তিনটি সংকটপূর্ণ জেলার নাম উল্লেখ করে উল্লেখ করেন, দলীয় সভাপতির হস্তক্ষেপ ছাড়া ওই সব জেলায় সম্মেলন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি মো.

বৈঠকে বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রতীকী শাস্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে যারা চিঠি দিয়ে অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তাদের ক্ষমা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘যা’রা’ খু’নে’র’ সঙ্গে জড়িত, অ’গ্নি’স’ন্ত্রা’সে’র সঙ্গে জড়িত, জ’ঙ্গি’বাদে”র’ সঙ্গে জড়িত, আমি জানি তারা অনেকে লুকিয়ে ছিল। এখন বিএনপি মাঠে নেমেছে, তারাও মাঠে নামবে। এসব আসামিকে কিন্তু ধরতে হবে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কারণ তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। জীবন্ত মানুষ ‘হ’ত্যা’ করেছে। চোখ-হাত কেটেছে, মানুষকে নি’র্যা’ত’ন করেছে। তাদের ছাড় নেই। আইন তার আপন গতিতে চলবে। আইন সবার জন্য সমান। এটা তাদের মাথায় রাখতে হবে। রাজনীতি করবে রাজনীতিক হিসেবে। কিন্তু সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী রাজনীতি এ দেশে চলবে না। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচন নিয়েও এই সভায় বলেছেন অনেক কথা। তিনি জানিয়েছেন এবার যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে তাদের হতে হবে যোগ্য। আর যোগ্যতার ভিত্তিতেই সকলকে জিততে হবে এবারের নির্বাচন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

About Rasel Khalifa

Check Also

হঠাৎ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নতুন সুর বিএনপির

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *