Sunday , March 3 2024
Home / Countrywide / খুলনার বিএনপি গনসমাবেশ, ‘এই গাড়ি ওখানেই দাঁড়া, বলেই লাঠিসোঁটা দিয়ে শুরু করে মাইর’

খুলনার বিএনপি গনসমাবেশ, ‘এই গাড়ি ওখানেই দাঁড়া, বলেই লাঠিসোঁটা দিয়ে শুরু করে মাইর’

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা থেকে শহিদুল ইসলাম নামের একজন বিএনপি কর্মী গতকাল শুক্রবার অর্থাৎ ২১ শে অক্টোবর ১ টার দিকে খুলনা সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। তিনি যে পিকআপে করে এসেছিলেন সেটিতে অন্ততপক্ষে ৬০ জন নেতাকর্মী এসেছিলেন। তিনি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সোনাডাঙ্গা থানার সামনে যখন পৌছেন, তখন সবার উপরে হামলা চালানো হয়। এতে করে শহিদুলের হাত এবং পায়ের গুরুতর যখ”ম হয়েছে। তার সাথে ছিলেন জিয়াউল হাসান, তার মাথায়ও বেশ বড় ধরনের আঘাত লেগেছে।

রাতে হাম’/লার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জিয়াউল হোসেন বলেন, রাত একটা অনুমান হবে। গাড়িটি সোনাডাঙ্গা থানার সামনে আসতেই কয়েকজনকে দৌড়াতে দেখি। বললেন, এই গাড়ি থামাও। এরপর আর কথা নেই, লাঠি দিয়ে মাইর।’

যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহরে প্রবেশের অন্যতম দ্বার সোনাডাঙ্গা। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত সোনাডাঙ্গাসহ খুলনার প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষিপ্তভাবে হাম”লার ঘটনা ঘটে। হাম”লার শিকার কয়েকজন এসব কথা বলেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা এ ধরনের কিছু জানেন না।

শনিবার সকালে খুলনা সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিএনপির সমাবেশস্থলের আশপাশে অনেক আহ”ত ব্যক্তিকে দেখা গেছে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর ফেরিঘাট মোড়ে খুলনা বাস মোটর বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের কাছে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয়। রাস্তার ফুটপাত ঘেঁষে একটি প্লাস্টিকের বিছানার ওপর বসে। রাতে ফুটপাতে ঘুমিয়েছিলেন। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। ডান হাতের কনুই থেকে তখনও র”ক্ত ​​ঝরছে। লাঠির আঘাতে ডান পায়ের উরু থেঁতলে গেছে। তার পাশে বসে আছেন জিয়াউল হোসেন। মাথায় র/”ক্তাক্ত ব্যান্ডেজ দিয়ে ফুটপাতে রাত কাটান তিনি। তার সামনে পলিথিনে মোড়ানো কিছু ওষুধ দেখা গেছে।

জিয়াউল হোসেন ও শহীদুল ইসলামের বয়স ৬০ এর কোঠায়। বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদানি। দুজনেই কৃষিকাজ করেন। করছেন বিএনপি। জনসভায় যোগ দিতে অনেক লোক নিয়ে খুলনায় এসে রাতেই এই বিপদে পড়েন তিনি।

শহিদুল ইসলাম জানান, হাম”লাকারীরা তাকে মা”রধরের সময় তার পকেট থেকে ১০০ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। জিয়াউল হোসেন জানান, তার পকেট থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশেই বসে আছেন একই এলাকার বাসিন্দা মজিদ সরদার। তাকে মা”রধর করা হয়নি। তবে হাম’/লাকারীরা তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

ফেরিঘাট মোড়ের কাছে আপার যশোর রোডের ফুটপাতে লাল শার্ট পরে বসে আছেন এক ব্যক্তি। মাথায় র’/ক্তাক্ত ব্যান্ডেজ। কাছে গিয়ে দেখা গেল তার পরনে লাল শার্টের কলার, কাঁধে র”ক্তের দাগ। জানা গেছে, তার নাম আকতারুজ্জামান সুমন। তিনি যশোর জেলা ছাত্রদলের সদস্য। সকাল আড়াইটার দিকে সোনাডাঙ্গা এলাকায় ৩০-৪০ জন যুবক তাদের বহনকারী ট্রাকে হা’/মলা চালায়। সবার হাতে ছিল হকি স্টিক, লোহার রড, কাঠ ও বাঁশের লাঠি। হা’/মলায় সুমনসহ ৮ থেকে ১০ জন আহ”ত হয়েছেন।

হাম’/লার বিষয়ে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, আমার কাছে কেউ আসেনি, আমি জানি না। রাত দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বাইরে ছিলাম, কেউ আমাকে জানায়নি।

আজ সকালে সোনালী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। অনেকে রাস্তায়-ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ বসে বসে বক্তৃতা শুনছে। সূর্যের আলোর সাথে সাথে কেউ গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা একটি দল যশোর রোডের ফুটপাতে ঘুমিয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় তারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান। সবাই বললো শুকনো খাবার সাথে নিয়ে এসেছে। আল আমিন কুমারখালীর যুব ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শহরে ঢোকার সময় তাদের ওপর হামলা না হলেও মেইল ​​ট্রেনে আসার সময় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তাদের ওপর হা”মলা হয়।

বাগেরহাটের রামপাল থানার তালতলিয়া গ্রাম থেকে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী গোলাম আজম। তিনি বলেন, ছয়টি বড় পিকআপে একসঙ্গে সাড়ে চারশত লোক এসেছিল। রূপসা সেতু টোল ও কাটাখালী ও খুলনা জিরো পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর মধ্যে কাটাখালীতে লাঠিচার্জে তিনজন গুরুতর আহ”ত হয়েছেন। গোলাম আজম জানান, তাদের নগরীর রায়না ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

আশেপাশের জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই হোটেল, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনের বাড়িতে অবস্থান করলেও তাদের একটি বড় অংশ সমাবেশস্থলেই রাত কাটান। জেলা ছাত্রদলের একাংশ শহরের ফেরিঘাট মোড়ে রাত কাটায়।

খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আসিফুর রহমান ও সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান জানান, তাদের একটি দল সমাবেশের মঞ্চ পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। শহরের কোথাও আগতদের ওপর হাম”লার খবর পাওয়া গেলে তাদের উদ্ধারে তৎপর ছিল যুবদলের একটি অংশ ছাত্রদলও।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা গতকাল রাতে খুলনায় আসেন। গণপরিবহন বন্ধ করেও সমাবেশে যোগ দিতে আসা লোকজনের ওপর সরকারি লোকজনের হাম”লায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

মির্জা ফখরুল আজ সকালে বলেন, “এটা (হা”মলা-বাধা) আওয়ামী লীগের পুরনো চরিত্র। তারা জনগণের জাগরণকে ভয় দেখিয়ে স’/ন্ত্রা”স সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে স”ন্ত্রা/’সীদেরও রাস্তায় নামানো হয়েছে। যদিও এসবের মধ্যে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমেছে, এটাই মূল বিষয়।এটা স্পষ্ট যে জনগণ গণতন্ত্রের স্বাধীনতা চায়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, জাতীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়।

About bisso Jit

Check Also

আর চাঁদ রাতে দেখা হবে নারে দোলা: নাদিয়া

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বান্ধবী দোলা ও তার বোনকে হারিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *