Monday , March 4 2024
Breaking News
Home / Countrywide / এক হলো বিএনপিসহ ৩৫ রাজনৈতিক দল, প্রকাশ্যে এলো তাদের পরিকল্পনা

এক হলো বিএনপিসহ ৩৫ রাজনৈতিক দল, প্রকাশ্যে এলো তাদের পরিকল্পনা

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সরকার থেকে হঠানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একীভূত হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছে। জানা গেছে এ পর্যন্ত ৩৫ টি দল বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করবে। বর্তমান সরকারকে গদি থেকে নামানোর দাবিতে বিএনপিসহ ঐ ৩৫টি দল একসাথে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো সংলাপ করছে বলে জানা গেছে এবং এই সংলাপের মাধ্যমে আন্দোলনের রুপরেখা চূড়ান্ত করছে। এর বাইরে আরও ১৩ দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

‘কৌশলগত’ কারণে সব দলের নাম প্রকাশ করতে চায় না বিএনপি। তৃতীয় দফা সংলাপ শেষে একটি রূপরেখা তুলে ধরবেন দলটির নেতারা। সে অনুযায়ী দলগুলো একই সময়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করবে। সুষ্ঠুভাবে কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনেরও চেষ্টা চলছে। প্রতিটি দলের একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “প্রথম দফায় আমরা ২২টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছি। দ্বিতীয় দফা সংলাপ চলছে। ৩৫টি রাজনৈতিক দল একযোগে আন্দোলনে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমরা একমত হয়েছি। এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং পদত্যাগে বাধ্য করা। একক দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দাবির মধ্যে যেটি সাধারণ তা হল এই সরকারের পদত্যাগ করতে হবে।” সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, তাদের ক্ষমতা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সেটার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। জাতীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। এসব দাবি নিয়ে অন্য দলের সঙ্গে সংলাপ চলছে। এর মাধ্যমে তাদের অন্যান্য দাবির সাথে একটি একক দাবিনামা প্রস্তুত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ২২টি দলের বাইরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে বিএনপি। এ ছাড়া ইসলামী, বামসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে একই আলোচনা হয়েছে। একই দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চসহ আরেকটি জোট এবং বিএনপিসহ বাকি রাজনৈতিক দলগুলো আলাদাভাবে একযোগে আন্দোলন করতে সম্মত হয়েছে। এখন বিএনপির পক্ষ থেকে একটি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারক আরও বলেন, পরিস্থিতি বুঝে শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যই নয়, আরও কয়েকটি দলের সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু এখন না, কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এখন পদত্যাগ করলে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের সুযোগ পাবে। উপনির্বাচনের সময় না থাকলে পদত্যাগ করা হবে। এতে সরকার আরও বিপাকে পড়বে।

বিএনপি একাই এখন দশটি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ শুরু করেছে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, এসব সমাবেশে সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কর্মসূচি। সরকার কঠোর হলে বিএনপির কর্মসূচিও কঠোর হবে।

‘যুগপৎ’ আন্দোলনে রাজি হয়ে ২২টি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ করেছে বিএনপি। দলগুলো হলো- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণাধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জাগপা। , ন্যাশনাল পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, এনডিপি, পিপলস লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি এবং গণফোরাম (মন্টু)।

জানতে চাইলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ডাঃ আলী আহমদ বলেন, ‘সরকার পতনের এক দফা দাবিতে একযোগে আন্দোলন করা হবে। বিএনপি ইতোমধ্যে কাজ করছে। মাঠে এলডিপির তেমন কোনো তৎপরতা ছিল না।কিন্তু ৮ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির সঙ্গে যে আন্দোলনের কথা বলেছিলাম আমরা যুগপৎ আন্দোলন শুরু করি।

এদিকে এরই মধ্যে কর্মসূচি শুরু করেছে সাত দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ। সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ২১ অক্টোবর মিরপুরে ও ২৭ অক্টোবর উত্তরায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।নেতারা জানান, ঢাকার বিভিন্ন থানা, বিভাগ ও জেলায় সমাবেশ হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ডেমোক্রেসি প্ল্যাটফর্মের অন্যতম শরিক জোনায়েদ সাকি বলেন, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম দফা সংলাপ হয়েছে। শিগগিরই দ্বিতীয় পর্বের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি আমরা যুগপৎ আন্দোলনের একটি রূপরেখা তৈরি করতে পারব।আন্দোলনের জন্য অবশ্যই একটি অভিন্ন লক্ষ্য থাকতে হবে।’

অন্যদিকে আটটি ইসলামী দলের সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমরা দেশে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ- তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। তাই এসব দাবির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, বর্তমান শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষা ঐচ্ছিক রাখাসহ বিভিন্ন দাবিতে আমরা রাজপথে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

ছয়দলীয় বাম জোট ২২ অক্টোবর ঢাকাসহ সারাদেশে এবং নভেম্বর জুড়ে বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলায় জনসভা ও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে।

তবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের মূল রাজনীতি হচ্ছে আওয়ামী ও বিএনপি বলয়ের বাইরে বিকল্প শক্তি চাই। নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কার করার বিষয়ে আজ শনিবার রাজধানীর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের সমাজ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বামপন্থীরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। সংগ্রাম এবং আন্দোলন হবে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। আমাদের আশা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, কিন্তু এই নির্বাচন দিয়েই সবকিছু শেষ নয়।

About bisso Jit

Check Also

হঠাৎ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নতুন সুর বিএনপির

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *