Thursday , May 30 2024
Breaking News
Home / Countrywide / সংসদ থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ দাবি, সিদ্ধান্ত জানালেন রুমিন ফারহানা

সংসদ থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ দাবি, সিদ্ধান্ত জানালেন রুমিন ফারহানা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা চূড়ান্ত করছে, যার মধ্যে প্রধান হলো যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাজপথে নেতাকর্মীদের অবস্থানের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে পদচ্যুত করা। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সভার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এমনটাই জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় সংসদ থেকে দলীয় সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ। বাকি দুটি সিদ্ধান্ত হলো যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এ তিনটি বিষয় চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এই তিনটি সিদ্ধান্ত নিতে পারলে চলমান আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে বলে মনে করে দলটি।

বর্তমান সংসদে বিএনপির সাতজন এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের চারজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত দুজন ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে সংসদ থেকে পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংসদকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে রাজপথে সরকারের পদত্যাগ দাবির পরও সংসদে রয়েছেন বিএনপির এমপিরা। বিষয়টি সম্প্রতি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ঢাকায় সাধারণ সভা থেকে আন্দোলনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। তবে সংসদ সদস্যদের পদত্যাগসহ এই তিনটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে ঢাকা ঘোষণা অর্থবহ হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক সিনিয়র নেতা দেশের জনপ্রিয় একটি দৈনিককে বলেন, আন্দোলনকে বেগবান করতে সরকারবিরোধী সব দলকে এক প্লাটফর্মে আনার কাজও তারা দ্রুততার সঙ্গে করছেন। যুগপত আন্দোলনের রূপরেখাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। ১০ ডিসেম্বরের আগে সেগুলো শেষ করার কাজ চলছে।

চলমান রাজনৈতিক ইস্যুতে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলনের এ পর্যায়ে দলের সংসদ সদস্যরা কেন জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন নেতা। বৈঠকে গত সপ্তাহে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতাদের বৈঠকের সারমর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চারদিনের বৈঠকে ৯২ নেতা বক্তব্য রাখেন। স্থায়ী কমিটি তাদের বক্তব্য থেকে ২২টি বিষয়ে আলোচনা করেছে।

দলীয় এমপিরা কেন এখনও সংসদে আছেন?

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতাদের বৈঠকেও একই প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ মনে করেন, সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের সময় এসেছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার একপর্যায়ে ডিসেম্বরের আগে সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবে একমত হন নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সংসদকে অবৈধ দাবি করে সংসদে থাকা যুক্তিযুক্ত নয়। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও এ নিয়ে ভাবছেন।

বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা গতকাল রাতে বলেন, দল সিদ্ধান্ত নিলেই আমি সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। অন্তত আমি তা সঙ্গে সঙ্গে করব। ’

দুটি রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য ৯ দফা খসড়া চূড়ান্ত করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। দফাগুলো এখন শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। তার ভিত্তিতেই হবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচি।

এ লক্ষ্যে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্যের সূচনাকারীরা জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করছেন। এ মাসের মধ্যে এ আলোচনা শেষ করতে চায় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, বাতিল হওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি করবে বিএনপি। এক বছর আগে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখার ৯ দফা খসড়া চূড়ান্ত করে দলটি। ওই ৯ দফার ভিত্তিতে বাস্তবতার আলোকে রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এক সংবাদ সম্মেলনে এ আলোকে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরির ঘোষণা দেন।

২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে, বিএনপি একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে দায়িত্বশীল দলের এক নেতা বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর ভিত্তিতে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পূর্ণভাবে গৃহীত হবে না। সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে কীভাবে নির্বাচন হতে পারে তার কয়েকটি সূত্র দেওয়া হবে। এতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত হতে পারে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি বিএনপি।

জেলা নেতাদের বক্তব্যে ২২টি বিষয় : স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জেলা পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে ২২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জাতীয় নির্বাচনে ১০০ বা ১২০ আসনের প্রলোভন না পাওয়া, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন না হওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়, চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃত্ব বিএনপির হাতে রাখা, নি/”র্যাতিত নেতাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া, রোডমার্চ, লংমার্চ, চলো চলো ঢাকা চলো, কর্মীসভা, বাজারসভা, উত্থানসভা প্রভৃতি কর্মসূচি ঘোষণা, বিএনপির সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়, বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বিএনপি শুধু আন্দোলনকে বেগবান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে না, দলটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে পারলেই সেটা সম্ভব, এমনটাই মনে করছেন বিএনপি। তাই তারা রাজপথের আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সরকারকে হটাতে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে।

About bisso Jit

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *