Sunday , May 26 2024
Breaking News
Home / Countrywide / ঝুলেই থাকতে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী দলকে, জানা গেল কারন

ঝুলেই থাকতে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী দলকে, জানা গেল কারন

বর্তমানে রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ দলকে সংকটময় সময় পার করতে হচ্ছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি। এদিকে বিএনপির সাথে জোট বদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও বর্তমান সময়ে জোট থেকে সরে আসার ঘোষনা দিয়েছে দলটি, যার কারণে দলটি এখন বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ‘‘ক্রিমিনাল দল’’ হিসেবে ঘোষনা করার পর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বিএনপির সাথে সম্পর্কচ্ছেদের খবরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নয় বছর আগে হাইকোর্ট নিবন্ধন বাতিল করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আপিল বিভাগে ঝুলে আছে। জোট না হলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অসম্ভব। এদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের অপরা’ধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দল হিসেবে জামায়াতের বিচারও স্থগিত রয়েছে আইন সংশোধনের জন্য। দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান ঝুলে আছে।

২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দলটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ২০১৩ সালে, জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল লিভ টু আপিল (লিভ টু আপিলের আবেদন) এবং আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি আপিল দায়ের করেন, যা এখানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে, হাইকোর্টের রায়ের ৫ বছর পর ২৯ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে, নির্বাচন কমিশন একটি গেজেটে বলা হয় যে, আদালত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে, তাই আরপিও অনুযায়ী দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। ফলে অনিবন্ধিত দলটির আর সরাসরি দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি দলটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধান অতিথি জামায়াতের আমীর মো. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “তাদের (বিএনপি) সঙ্গে আমাদের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তারা এতে একমত হয়েছে। তারা আর জোট করবে না। এখন প্রতিটি পদে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

তবে দলটির নেতাদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্য জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়। তবে বিএনপির অনেক নেতা বলছেন, জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের কারণে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হলেও দলটিকে অবৈধ ঘোষণা না করার পেছনে আওয়ামী লীগের গোপন সম্পর্ক কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মুখ থেকে প্রায়ই শুনি বুলি হয়ে গেছে। তারা প্রায়ই বলে, বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-জামায়াত। আমি বলছি, এখন সময় এসেছে আওয়ামী-জামায়াত, আওয়ামী-জামায়াত বলার। তারা (আওয়ামী লীগ) জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করলেও অবৈধ ঘোষণা করেনি। তাহলে কি বলব, তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক!’

বিএনপি নেতার এই বক্তব্যকে ‘অশালীন’ বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদের অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে। এটা কোনো রাজনীতিকের ভাষা হতে পারে না।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই দলের পারস্পরিক বক্তব্যে সরগরম দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দলের গোপন সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে।

খটক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছি। রাষ্ট্রবিরোধী দলকে নিষিদ্ধ না করলে সরকারের সব অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত।কারণ দলটি পাকিস্তানের একটি শাখা সংগঠন।সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা উচিত।দলের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের নেতারা বিরোধিতা করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের স্বাধীনতা। সেক্ষেত্রে নেতাদের বিচার হলে দলের নয় কেন?

এদিকে, একাত্তরে ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ‘অপরাধী দল’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী নেতাদের দেশের কোনো সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা উচিত নয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ মতামত দেন। বিভিন্ন দল, সংগঠন, ব্যক্তি এবং নেতা-মন্ত্রীরা। ক্ষমতাসীন দল মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর বিচার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। পরের বছর, ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংগঠনগুলোর বিচার ও শাস্তির বিধান নেই।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সংগঠনটির অপরাধী হিসেবে শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ওই সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ‘ব্যক্তি’ শব্দটির পর ‘অথবা সংগঠন’ সন্নিবেশ করা হয়। আরেকটি ধারায় ‘দায়’ শব্দটির পরিবর্তে ‘অথবা সাংগঠনিক দায়’ এবং আরেকটি ধারায় ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’ পরিবর্তে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠন’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করার কথা বলা হয় প্রস্তাবিত সংশোধনীতে। এ ছাড়া সংগঠন হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৮ বছর আগে এই আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী মন্ত্রিসভায় তোলা হয়নি, যার কারণে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার হয়নি।

২০১৩ সালে, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলন থেকে জামায়াতকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবি আগেই উঠেছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থাৎ ২০০৮ সালের দিকে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার আগে নির্বাচন কমিশন দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রথমবারের মতো নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসে। সেই সময় নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছিল ৩৮ টি রাজনৈতিক দল, যেখানে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ নিবন্ধিত হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়। দলটি আইনগতভাবে নিবন্ধন বাতিল করা হলেও সংগঠন হিসেবে দলটি সক্রিয় থাকতে পারবে কিন্তু কোন নির্বাচনে জামাতে ইসলামী অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলা হয়।

About bisso Jit

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *