Sunday , May 26 2024
Breaking News
Home / Countrywide / মরিয়ম মান্নান হলেন প্রভাবশালী নারী, ঢাকায় অনেকের সাথে রয়েছে সম্পর্ক

মরিয়ম মান্নান হলেন প্রভাবশালী নারী, ঢাকায় অনেকের সাথে রয়েছে সম্পর্ক

খুলনায় ঘটে যাওয়া অপহরণের ঘটনাটি নিয়ে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশাল আলোড়ণ। জানা গেছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই ধরণের নাটকীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে। রহিমা বেগম অপহরণ হয়নি বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। জানা গেছে রহিমা বেগমের মেয়েরা কেউই তার বাধ্য ছিল না। রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নার তার মায়ের নিখোঁজের হবার ঘটনায় বিভিন্ন কার্যকালাপ দেশের মানুষ ও প্রশাসনকে করেছে হয়রানি। সম্প্রতি জানা গেছে মরিয়ম প্রভাবশালী, ঢাকার বিভিন্নজনের সঙ্গে আছে সম্পর্ক।

খুলনার মহেশ্বরপাশা এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে নানা নাটকীয় মোড় এসেছে। ঘটনার পর রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নানের লাইমলাইটে আসা, তার বিভিন্ন পোস্ট, তার মায়ের লাশ পাওয়ার দাবি সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে।

রহিমাকে পেয়ে মরিয়মের ভাষাও বদলে যায়। গণমাধ্যমের পাঠক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা যখন এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত, তখন আরেকটি অভিযোগ উঠেছে। মরিয়ম মান্নান প্রভাবশালী, ঢাকার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক!
রহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ফুলবাড়ীগেট এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তার এ অভিযোগ তোলেন। হেলাল শরীফকে আটক করা হয়েছে।

মনিরা আক্তার দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তার স্বামী হেলাল কোনো অপরাধ ছাড়াই গত ২৮ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ ৩০ আগস্ট হেলালকে গ্রেপ্তার করে। আগামী বছরের অক্টোবরে তার সন্তান প্রসব করার কথা থাকলেও স্বামীর দুশ্চিন্তায় গত ৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

মনিরা আরও বলেন, মরিয়ম খুবই প্রভাবশালী। ঢাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। আমার মনে হয় সে নিজেই তার মাকে গুম করার নোংরা কাজ করেছে। প্রভাবশালীদের দিয়ে পুলিসকে প্রভাবিত করে সে আমার স্বামীকে জেলে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, মরিয়মের কারণে আমার স্বামী কোনো অপরাধ না করেই জেলে আছেন। আমাদের হয়রানি, জরিমানা এবং মানহানি করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত এই ঘটনার সাথে গ্রেফতারকৃত কেউ জড়িত নয়।

মনিরা আশা করছেন তার স্বামী শিগগিরই জেল থেকে মুক্তি পাবেন। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

মরিয়মের বিরুদ্ধে মনিরা আক্তারের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে রহিমা বেগমের নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী খুলনা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিকেলে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে আমি জানি না। রহিমা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এসব বিষয় পরে জানানো হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত মরিয়ম মান্নানের মা হারানোর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন নেটিজেনরা। কিন্তু শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর আলোচনা সমালোচনায় পরিণত হয়।

শুরুতে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করে মরিয়মের মা সন্ধান আন্দোলনের সঙ্গে যারা কার্যত ছিলেন তারাই এখন এর বিরুদ্ধে লিখছেন।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধম ‘রহিমা নিখোঁজের নাটকে কারাগারে যারা আছেন তাদের কী হবে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এই খবরটি পড়ার পর পাঠকরা তাদের নিজস্ব অভিব্যক্তি দিয়েছেন-

আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন- মরিয়ম মান্নান ক্রাইম পেট্রোল নিয়মিত দেখতে পারেন। দারুণ অভিনয় করছেন তিনি। অনেকদিন পর বাংলাদেশে এমন পারফরম্যান্স দেখলাম! সত্যিই অসাধারণ.

রাকিব খান লিখেছেন, তাদের পারফরম্যান্সের কারণে হাজার হাজার সত্যিকারের নিখোঁজ মানুষকে তুচ্ছ করে দেখা হবে। তাই তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে কেউ আবার এই দুঃসাহসিকতা দেখাতে না পারে। তারা জনগণের আস্থা নিয়ে খেলেছে। তারা দেশ ও সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সোহেল নামে এক ব্যক্তি বলেন, মরিয়ম ও তার মায়ের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করা উচিত। দেশের প্রশাসনকে বিভিন্ন ইস্যুর আড়ালে ব্যস্ত রাখতেই এই গুমের নাটক সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে হয়তো বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের ওই নারীর শরীরে মায়ের গায়ের জামা-কাপড় হুবহু মিল ছিল বলে কী করে বললেন মরিয়ম? কোন দল তাকে নিয়ে দাবা খেলছে নাতো? যত দ্রুত সম্ভব তাকে র‌্যাব-৬ এর কাছে রিমান্ডে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মোঃ আবু ইউসুফও মন্তব্য করে লিখেছেন, দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে এমন খেলা যেন কেউ না করেন।

ফেরদৌস আহমেদ বলেন, মরিয়মের ঘটনা অসংখ্য নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কান্নাকে সন্দেহে পরিণত করবে। শতাধিক পরিবারের অভিযোগ লাঘব হবে।

সবচেয়ে বড় অপরাধী রহিমা বেগম। মেয়েরাও সব জানত- ওরা দারুণ নাট্যকার। যারা আশ্রয় দিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

কে এই মরিয়ম মান্নান?
আজ মরিয়ম মান্নান একজন নারীবাদী নেত্রী। তিনি একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা আব্দুল মান্নান ২০১২ সালে মারা যান। সে সময় তিনি এসএসসি পরীক্ষা দেন। পাশ করে ঢাকায় আসেন। শুরু হয় উচ্ছৃঙ্খল জীবন।

ঢাকায় আসার কিছুদিন পর ডেন্টাল ডাক্তারকে বিয়ে করেন। পরে তাকে ছেড়ে বরিশাল জেলায় আরেকটি বিয়ে করেন। মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব একটা জানে না। ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় হোস্টেল খুলে ব্যবসা করছেন দুই-তিনজন নারী। নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ রয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্র এমন দাবি করেছে। মরিয়মের কিছু ছবি সামজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, যা সূত্রের দাবির সঙ্গে মিলে যায়।

মরিয়ম নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে পরিচয় দেন। তবে সে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে।

রহিমা বেগম যখন নিখোঁজ হন; মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্র মরিয়ম তার ছয় ছেলে মেয়ের মধ্যে সক্রিয় উপস্থিতি ছিলেন। তার কান্নার মধ্যে একটি রহস্য ছিল, তার কথার মধ্যে একটি গোপন লুকানো ছিল। তিনি কখনো সঠিক তথ্য গণমাধ্যমকে দেননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তার অসভ্য আচরণের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।

পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, মরিয়ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। একজন মা হারিয়ে গেলে যে কারো সামান্য প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চাই। নিশ্চয়ই তিনি (মারিয়াম মান্নান) এখন একটি পোস্ট দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমর্থন জানাবেন এবং তিনি তার ভুল স্বীকার করবেন।

মায়ের সাথে দেখা করে যা বললেন মরিয়ম
রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে আসেন মরিয়ম। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। তিনি বলেন, বড় কথা হলো মাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছি। এর বেশি হতে পারে না। আমি আমার মাকে দেখেছি। আমি এখন তার কাছে যেতে চাই।

এ ঘটনায় নিরীহ কিছু লোকের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, তারা বিভিন্ন সময় আমাদের পরিবারকে হুমকি ও নির্যাতন করেছে। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এর আগেও লাইমলাইট পেয়েছেন মরিয়ম মান্নান
চার বছর আগে কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে লাইমলাইট পেয়েছিলেন মরিয়ম মান্নানের। তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভাইরাল হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পোস্ট ছবি ও ভিডিও তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।

সে সময় তেজগাঁও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মরিয়ম মান্নান। একটি ভিডিওতে দেখা যায়- কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। কয়েকজন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। উত্তেজিত অবস্থায় তখন সাংবাদিকদের বলেন, আপনার জানতে চান ওই দিন তারা আমার কোথায় কোথায় হাত দিয়েছিল? কি বলেছিল? আপনাদের শুনতে ইচ্ছে করছে, আমার কোথায় কোথায় ধরেছে? আমাকে কীভাবে কী করেছে? সবাই আমাকে ফোন দিচ্ছে, তোমাকে কী করেছে? এখন কী আমি লাইভে যাব? লাইভে গিয়ে বলব আমাকে কী করেছে? কেমন করে ধরেছে? আমি কান্না করব আর সবাই আমাকে সহানুভূতি দেখাবে?

প্রসঙ্গত, অপরাধের ফল মানুষকে এক সময় না এক সময় ভোগ করতেই হয়, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষ ভাবে যে সে অন্যায় করে পার পেয়ে যাবে কিন্তু তাআর এই ধরণা সম্পূর্নভাবে ভুল। কিছু সময়ের জন্য ছাড় পেলেও তার কৃত অপরাধ তাকে নিয়ে আসে বিচারের কাঠগড়ায়। যেমনটা ঘটেছে এই পরিবারের সাথে। জানা গিয়েছে নিজেরাই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাজিয়েছিল মিথ্যা নাটক এবং শেষ পর্যন্ত আর সেই জালেই ধরা পড়লো তারা।

About Shafique Hasan

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *