Sunday , May 26 2024
Breaking News
Home / Countrywide / মগজ ধোলাই, জিহাদের জন্য একে একে ঘর ছাড়ে সাত তরুণ, ধরা পড়লো নাটের গুরু

মগজ ধোলাই, জিহাদের জন্য একে একে ঘর ছাড়ে সাত তরুণ, ধরা পড়লো নাটের গুরু

স/’ন্ত্রাস বা জ/’ঙ্গীবাদ যেকোনো দেশের জন্য বড় ধরণের একটি হুমকি। বিশ্বের কোনো দেশই এর সমর্থন করে না। সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনে বিশ্বের দেশগুলো খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশও এইক্ষেত্রে খুব বদ্ধপরিকর। অন্যায়কারী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা। সম্প্রতি জানা গিয়েছে ‘হিজরতের’ নামে ঘরছাড়া ৭ তরুণ, নাটের গুরু চিকিৎসক দুই ‘বড় ভাই।

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর- কুমিল্লার সাত যুবক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে- কে জিহাদের ডাক দিল; কারও আঙুলের সাহায্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিছু ‘বড় ভাই’ তাদের জড়ো করেছে চরমপন্থী সংগঠনের ছায়াতলে। কতদিন ধরে ‘মগজ ধোলাই’ চলছে? পুলিশের তদন্তে এসব পরিসংখ্যানের যোগফল পাওয়া গেছে।

সাত যুবকের আরেক সহযোগী আবরারুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর নতুন সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের তথ্য পায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। আবরারুল কুমিল্লা ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ। তিনি নিয়মিত জঙ্গি সম্বলিত দুটি অ্যাপ ব্যবহার করতেন। আবরারুল পুলিশকে প্রথম তথ্য দেন- জিহাদের ফোন পেয়ে কুমিল্লা থেকে যে দুই চিকিৎসককে তার বন্ধুরা বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিল। তারা দুই ‘বড় ভাই’কে প্রায় এক বছর ধরে চেনেন। দুজনেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে (কুমেক) পড়াশোনা করেন। মঙ্গলবার রাতে আবরারুলের ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালীসহ তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। কুমেকের আরেক চিকিৎসকেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি উগ্রবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী শাকিরের স্ত্রী আয়েশা বিনতে মুস্তাফিজকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সে বরিশাল মেডিকেল কলেজের ছাত্র। জঙ্গি নেটওয়ার্কে স্বামীর সঙ্গে তার যোগসূত্র খুঁজে পেয়ে পুলিশ আয়েশার মোবাইল ফোন সেট জব্দ করে। ওই ফোনে জঙ্গি মতবাদের বিভিন্ন লেখা পাওয়া গেছে। আয়েশা ছাড়াও তার স্বামীর দুটি এবং আবরারুলের একটি ফোন সেট জব্দ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি আনসার আল ইসলামের (পূর্বে এবিটি-আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সাথে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে। গতকাল একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে সিটিটিসির প্রধান ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কুমিল্লা থেকে যারা নিখোঁজ হয়েছেন, শাকিরসহ অন্য এক ব্যক্তি তাদেরকে ঈমান, তাওহীদ ও জিহাদের দীক্ষা দেন। তাদের উপরে অন্য কেউ থাকতে পারে। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে যুবকদের বিভ্রান্ত করেছে দলটি। মূলত তারা নিয়োগকারী। নিখোঁজ হওয়া শেষ সাত যুবকের সন্ধানে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করছেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন যে কুমিল্লা থেকে অভিবাসনের জন্য বাড়ি ছেড়ে আসা যুবকদের ২০২১ সালের শেষের দিকে টার্গেট করা হয়েছিল। কুমেতে অধ্যয়নরত একজন যুবক যুবকদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত করেছিল। তাদেরকে জিহাদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। ধর্মীয় জ্ঞান ও ফতোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তাদের কুমিল্লার একজন মুফতির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতি পর্বে তিনি দুই-তিন জনকে নিয়ে যেতেন। তিন সপ্তাহ আগে জিহাদের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে একে একে বাড়ি ছেড়েছে সাত যুবক। আরও ছয়-সাতজন যুবকও তাদের পথ অনুসরণ করে বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়।
জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও শাকিরের স্ত্রীকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের বাড়িতে দেড় মাসের একটি শিশু রয়েছে। তাই মানবিক কারণে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

আরেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর যুবকরা বেশ কয়েকটি জেলায় যান। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর ও বরিশাল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাকির ও তার সহযোগীরা সঠিকভাবে এ কাজ করেছে। কারণ শাকিরের আত্মীয়ের বাড়ি চাঁদপুরে। আর স্ত্রীর কারণে তিনি কিছুদিন বরিশালে থাকেন। দুই জায়গায় নিখোঁজ যুবকদের আস্তানা খুঁজে বের করতে তার ভূমিকা থাকতে পারে।

এখন পর্যন্ত শাকির সম্পর্কে গোয়েন্দারা যে তথ্য পেয়েছেন তা হলো, শাকির ডাক্তারি পড়ার সময় থেকেই উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাকে 2018 সালে একবার গ্রেফতার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে খুব কমই মোবাইলে কথা বলে। প্রয়োজনে অ্যাপস ব্যবহার করুন। পরিবারের সদস্যদের সাথে অ্যাপ ছাড়া কথা বলবেন না। কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ যুবক বাড়ি ফিরেছে এমন খবর পেয়ে ৩১ আগস্টের পর নিজের ব্যবহৃত একটি পুরনো ফোন সেট ও সিম ফেলে দেন তিনি। তিনি মাঝে মাঝে কুমিল্লায় সদ্য রিক্রুট হওয়া জঙ্গিদের বক্তৃতা দিতে যেতেন। তবে ডাক্তার হওয়ার পর পূর্ব হাজীপাড়ার একটি বাড়িতে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন শাকির।
এ ছাড়া দেশের প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় শাকিরের কোনো আস্থা ছিল না। তিনি শরিয়াভিত্তিক চিকিৎসা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, সে ‘রামফিট’ নামে একটি পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে।

তদন্তকারীরা বলছেন, নিখোঁজ সাত যুবকের মধ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান ওরফে লক্ষক (১৭), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম (১৮) এবং একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল আবদুল্লাহ (১৭) জঙ্গিবাদে জড়িত ছিলেন। শাকির সভা। আবরারুলও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শাকির তার এক আত্মীয়ের ছেলেকেও মৌলবাদী হতে প্রলুব্ধ করেন। ছেলেটির বাবা সরকারি কর্মকর্তা। ছেলের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে শাকিরকে শায়েস্তা করা হয়। তিনি দ্রুত শাকিরকে ওই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু শাকির তাতে কর্ণপাত করেননি। আত্মীয়ের ছেলেকে জঙ্গিবাদে নামাতে না পারলেও অন্য যুবকদের মধ্যে সে সফল হয়। তবে যুবকদের মগজ ধোলাই করতে শাকিরের সঙ্গে অন্যরাও থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। আর শাকিরের বাবা একেএম ওয়ালী উল্লাহ একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তিনি জামায়াত-শিবির সমর্থিত চিকিৎসকদের ফোরাম ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সহ-সভাপতি। এ ছাড়া শাকিরের শ্বশুর জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী।

এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ জানান, রোববার বিকাল ৩টার দিকে সাদা পোশাকে চার ব্যক্তি সিআইডির পরিচয়ে ওই বাসায় আসেন। তখন তিনি বাইরে ছিলেন। তারা শাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। তারা শুধু বলল, ‘আমরা সিআইডির লোক।’ পরে মামলায় শাকিরকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানায় রামপুরা থানা পুলিশ।
উগ্রবাদী নেটওয়ার্কে তার ছেলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমিও খেয়াল করিনি। এক সপ্তাহ আগে সে আমার মোবাইল ফোন কিনেছে।

প্রসঙ্গত, মানুষ হলো বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী। কোন কাজটি ভালো আর কোন কাজটি খারাপ সেটাআ বোঝার ক্ষমতা আছে একমাত্র মানউসেরই। আর সেই মানুষই যদি করে অমানুষের মত কাজ তাহলে এর থেকে দুঃখের কিছুই হতে পার না। অন্যায় কাজ মানুষকে সমাজে করে তোলে ঘৃণার পাত্র। এছাড়াও অপরাধকারীকে পেতে হয় কঠিন শাস্তি।

About Shafique Hasan

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *