Wednesday , May 29 2024
Breaking News
Home / opinion / আমার এই পোষ্ট পড়ে হয়তো আমাকে দালাল বলবেন,কিন্তু কিছু করার নেই কারন আমি বিবেক বিক্রি করিনি :সাবেক সেনাকর্মকর্তা

আমার এই পোষ্ট পড়ে হয়তো আমাকে দালাল বলবেন,কিন্তু কিছু করার নেই কারন আমি বিবেক বিক্রি করিনি :সাবেক সেনাকর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি গিয়েছিলেন ভারত সফরে। সেখান থেকে সফর শেষ করে তিনি ফিরে এসেছেন দেশে।তারপর তার সফর নিয়ে এখনো আলোচনার কমতি নেই।বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সফররত অবস্থায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বেশ। ভারতের একটি বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী নাকি করতে দেখা গেছে সেখানকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে। আর এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে তাকে নিয়ে উঠেছে অনেক ইতিবাচক আলোচনা। তিনি ভাসছেন প্রশংসায়। এবার সেই ভিডিও নিয়ে একটি লেখনী লিখেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনী তুলে ধরা হলো হুবহু:-

“বোকারা শিখে নিজের ভুল থেকে, আর জ্ঞানীরা শেখে অন্যের ভুল দেখে!”———————

কারো বিরোধিতা মানে এই নয় যে তাকে সর্বাবস্থায় ঘৃণা করতে হবে বা কেবল বিরোধিতার স্বার্থেই তাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য তথা মিথ্যা অপবাদ দিতে হবে। আপনি যদি অন্যের গুণের সমাদর করতে না পারেন তাহলে কী করে অন্যের কাছ থেকে ভালো মন্তব্য আশা করতে পারেন?

অনেক কিছুই অনেকের কাছে ভালো লাগতে পারে আবার খারাপ বা বিরক্তিকর লাগতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি কারো বিরোধিতা করেন বা তাকে ঘৃণা করেন বলে, তার সবকিছুই আপনার কাছে খারাপ মনে এটা কোন সুস্থ মনমানসিকতার পরিচয় নয়। একটা কথা আছে- ‘Faults are thick where love is thin.’ অর্থাৎ যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা !’ ব্যাপারটা কিন্তু এমনও হতে পারে।

তবে আপনার অন্তরে যখন অহংকার বাসা বাঁধে, তখন আপনার ভিতরে বসবাসকৃত নোংরা অনুভূতিগুলো জেগে উঠবে। আপনি তখন সর্বদা পরস্পরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ দেখতেই লিপ্ত থাকবেন এবং চক্ষুদ্বয়ও তাই-ই খুঁজে বেড়াবে।

মনে রাখবেন ইবলিশ শয়তানও কিন্তু ফেরেস্তাদের সর্দার ছিল কিন্তু তারপরেও তিনি কেন খোদার লানত পেয়ে শয়তানে পরিণত হয়েছিলেন??? জানেন???? তাকে অন্য কোন শয়তান তো কূমন্ত্র দেয় নাই। তাহলে কোন শয়তানের উস্কানিতে বা ধোকায় বা নাড়া খেয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে শযতানে রূপান্তরিত হয়েছিলেন???

হ্যাঁ, কারণ ছিল তার ‘অহংকার’ (আমার ব্যখ্যা ভুল হলে আলেমগণ রেফারেন্সসহ সংশোধনী ব্যাখ্যা দিতে পারেন), যে অহংকারের কারণে সে আল্লাহর হুকুম অমান্য করেছিল এবং এখানে উল্লেখ্য ‘শিরক’ ব্যতিত অহংকার হচ্ছে আল্লাহর কাছে অতি ঘৃণ্য। হাদিসে আছে – ‘অহংকার হচ্ছে খোদার চাদর স্বরূপ যা ধরে টান দেয়ার স্পর্ধা কারোরই নেই’। আল্লাহ বলেন— ‘অহংকারীর ধ্বংস অনিবার্য’।

একজন সাধারণ মানুষ ও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মাঝে অনেক বড় ব্যবধান আছে। তারপরেও একটা জায়গায় সর্বদা মিল থাকে তা হলো মনুষত্ব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina কে রাজনৈতিক বিরোধিতার স্বার্থে অনেকই ঘৃণা করতে পারেন বা তার বিরোধিতা করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যাওয়ার জন্য তার যে এক বিশেষ দক্ষতা আছে এটা বর্তমানে জীবিত আমাদের অনেক নেতার মধ্যেই নেই। অনেকই দেখবেন ধান কাটতে যায়, মাছ ধরতে যায়, গরীবের সাথে ক্ষেতে কাজ করতে যায়। — এর সব কিছুই লোক দেখানো যাতে তারা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরে পড়েন, যেখানে তাদের প্রকৃত আবেগ অনুভুতি সম্পূর্ন অনুপস্থিত।

যখন একজন অতি অসাধারণ (VVIP) মানুষ অনেকগুলো সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন কেবল তখনই ঐ অসাধারণ মানুষটি সাধারণ মানুষগুলোর ভিড়ে একজন অসম্ভব জনপ্রিয়ও অসাধারণ-মহিরুহ হয়ে জেগে উঠতে পারেন- যেমনটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন- তিনি কখন বসে আছেন-ককপিটে পাইলটের পাশে, কখনও ভ্যানচালকের পাশে, কখনও রান্না ঘরে কাজের বুয়ার সাথে, কখন অফিসারদের সাথে খালি পায়ে হাঁটছেন, কখনও বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন, কখনও শিশুদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলছেন, কখনও কেয়ারটেকারদের সাথে হাসাহাসি করছেন—- এগুলো খুব কমন ? সবাই কি ক্ষমতায় থাকতে করতে পারে?

বিশ্বে কতজন সরকার প্রধান আছেন যারা এতো মজবুত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকেও VVIP close protection থেকে বের হয়ে তাকে স্বাগত জানাতে আশা ঐ নৃত্যরত মেয়েগুলোর খুশির জন্য স্বেচ্ছায় এভাবে ছবি তুলতে এগিয়ে যাবেন? শুধু তাই নয়, ছবি তোলা শেষে তিনি তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েই বিদায় নিয়েছেন।

ব্যক্তি জীবনে আমি (Reza Ul Karim) অনেক ছোটখাটো পর্যায়ে থাকা অবস্থায়ও এমন কোনো ছোটখাটো একটি সুযোগ পেলে ও ঠিক এমনটাই করতাম, তাই বিষয়টি আমাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এই অনুভূতি যাদের নেই তারা কখনই এটা বুঝবে না। তবে হ্যাঁ আমাদের অধিকাংশ সামরিক অফিসাররা এমন রীতি সর্বদা অনুসরণ করে থাকে— যার মধ্যে জেনারেল এরশাদ, জেনারেল জিয়া, মেজর আফসার খন্দকার অন্যতম। (আজ এরা সবাই মৃত)।

আমি যখন যেখানে কাজ করেছি -আমার সাথে যারা কাজ করেছে তাদের সামনে কখনও খেতে বসলে তাদেরকে আগে জিজ্ঞেস না করে খেতে বসি নাই-এমনকি আমার বাসার কাজের মেয়েটিও বলতে পারবে না যে তার খাওয়ার খবর না নিয়ে আমি খেয়েছি। আমাকে আমার Under command তথা আমার সৈনিকরা ভালো চিনেন।

আমার এই পোষ্ট পড়ে হয়তো কেউ আমাকে বিভিন্ন দলের দালাল বা সুবিধাভোগী বলে আখ্যা দিতে পারেন— কিন্তু তাও আমার কিছুই করার নেই কারণ আমি সাদাকে সাদা বলা ব্যতিত কালো বলতে পারি না, আবার কালোকেও কালো বলা ব্যতিত সাদা বলতে পারি না কারণ আল্লাহ আমার বিবেক রাজনৈতিক মাঠে এখনও বিক্রি হতে দেন নাই।

তার মানে আমি এটা বলছি না যে শেখ হাসিনার শাসন আমলের গু’ম, খুন, হ’ত্যা’সহ সকল অপরাধ তুচ্ছ বা গুরুত্বহীন—— নাহ, তা অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে এবং আমরা সবাই এই অপরাধের সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই। সাথে ঐ দেশদ্রোহী বেঈমানগুলোর দৃষ্টান্তমুলক কঠোর সাজা চাই যারা যখনই কোনো সরকার ক্ষমতায় আছে তাদেরকে (সরকার প্রধানকে ) তাদের ব্যক্তিমোহে স্বার্থোন্মত্ত হয়ে বিপথে নিয়ে যেয়ে জঙ্গী তকমা দিয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ ও সৎ অফিসারদের ঘায়েল করে নিজেদের পদন্নতির রাস্তা মুক্ত করে দেয় যা সরকার নিজেও কখনও জানতে পারে না।

ধন্যবাদ

Reza Ul করিম

কলামিস্ট নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

প্রসঙ্গত, ভারত সফর শেষে দেশকে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবারের ভারত সফর সফল হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে রয়েছে অনেক কিছু পেয়েছে বাংলাদেশ এমনটাই বার বার জানানো হচ্ছে সরকার পক্ষ থেকে।

About Rasel Khalifa

Check Also

ভারতীয় হাই কমিশন সেলস কলে যায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে রোগী যাওয়া কমে গেলে: পিনাকী

সম্প্রতি দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ আবারও একতরফা ভোট করে ক্ষমতা দখল করেছে।আর আওয়ামীলীগকে অবৈধ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *