Sunday , May 26 2024
Breaking News
Home / Countrywide / ওইদিন আওয়ামী লীগের নেতারা খুশি ছিল, আমি খুব কেঁদেছিলাম: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ওইদিন আওয়ামী লীগের নেতারা খুশি ছিল, আমি খুব কেঁদেছিলাম: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

১৫ ই আগস্ট বাঙ্গালীদের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে রইবে। কারণ ওই দিন প্রয়াত হয়েছিলেন বাংলাদেশের কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্লান করে বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারে  উপস্থিত থাকা সকল সদস্যকে  না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দেয় কিছু দেশদ্রোহীরা।  এ বিষয় নিয়ে এক সংবাদকর্মীর সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. তিনি ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অফ সার্জনসে এফআরসিএস পড়ার সময় তিনি ভারতে আসেন এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা না দিয়েই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজীব আহমেদ

সমসাময়িক: বাকশাল সমর্থন ছাড়াই বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পেয়েছিল। আপনার সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আপনাকে তার পাশে চেয়েছিলেন।

জাফরুল্লাহ: এটাই বঙ্গবন্ধুর মহানুভবতা। তিনি তাদের পাশে রাখতে চেয়েছিলেন যারা সমর্থক নয়। ১৯৭৫ সালের ১৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেষ দেখা হয়। আমি সাভারে থাকি। জনস্বাস্থ্য. আগের দিন পুলিশ জানায়, রাষ্ট্রপতি ফোন করেছেন। আমি ১৩ আগস্ট গিয়েছিলাম। আমি বিদেশ থেকে ফিরে একজন ডাক্তার ছিলাম।

বঙ্গবন্ধু তোমাকে ডাকতেন। আবার যখন মনে পড়ল- আরে, এই তো ছোটবেলা থেকে জানি; তারপর তুমি ডাকলে। ১৩ আগস্ট সকাল ১০টায় বর্তমান গণভবনে বঙ্গবন্ধুর কার্যালয়ে যাই। দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিলাম। চার ঘণ্টায় দুবার চা খাওয়ান। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লাঠি বিস্কুট খান। বঙ্গবন্ধু শুরুতেই বললেন, ‘ডাক্তার, আমাকে আপনার সঙ্গে যোগ দিতে হবে।’

আমি বললাম, আমি তোমার সাথে আছি।

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমি এখন থেকে আপনাদের দলে যোগ দেব।’

আমি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলাম, ‘আমি কমিউনিস্ট হতে চেয়েছিলাম। আমি পারি না এটা কঠিন কাজ।’

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘সেই পথ।’

আমি বললাম, ‘আমি রাজনীতি করি না।’

বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি আমাকে শেখাও- তুমি রাজনীতি করো না! আর আপনি সেখানে (সাভার) শুয়ে আছেন।’

আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম, ‘মুজিব ভাই, আপনি ব্যবসা করবেন না। এটা রঙ উপায়.’

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘না, সবাইকে নিয়ে যাব।’

আমি বললাম, ‘আপনি এটা (সমাজতন্ত্র) বিশ্বাস করেন না। আপনি একটা গল্প বলতেন- ভলগার (রাশিয়ার একটি নদী) তীরে বৃষ্টি হয়েছে, রমনায় ছাতা ধরেছে লাল মিয়ারা। এটা তোমার আদর্শ কৌতুক ছিল।’

বঙ্গবন্ধুর ছিল বিস্ময়কর স্মৃতি। তিনি বললেন, ‘ডাক্তার, আপনি শীতকালে স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কোন কম্বল পাস.’ তিনি পাশে দাঁড়ানো মন্ত্রীকে বললেন, সাত কোটি টাকার কম্বল পেয়েছেন। আমারও একটা ছিল। তুমি সব দিয়েছ! ডাক্তারের স্ত্রী বিলাতি মেয়ে। তিনি শীতে ভুগছেন। কি হবে বলুন।’

বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি না থাকলে ওরা লুটপাট করবে।’

তখন আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম, ‘মুজিব ভাই, আমার স্ত্রী অসুস্থ। তারা আমাকে বিদেশ যাওয়ার এনওসি দিচ্ছে না।’

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘কী! আপনি মুক্তিযুদ্ধ করতে বিলাত থেকে দেশে আসছিলেন। তারা পালিয়ে গেছে।’

বঙ্গবন্ধু অফিসে বসে এনওসি দিয়েছেন। সাজানো হয়েছে ঢাকা-লালডনের টিকিট। তিনি খুব নির্দোষ ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে ফোন করে ১০ পাউন্ড নিয়ে এলাম। তিনি বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে তিনি যেন ফিরে আসেন এবং বাকশালে যোগ দেন।

১৫ আগস্ট দুপুরে লন্ডনে পৌঁছে দেখি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ভিড়। তারা বাংলাদেশ থেকে বিমানের জন্য অপেক্ষা করছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তখনই খবর পেলাম- বঙ্গবন্ধু নেই। সাংবাদিক বলেন, ‘আপনার রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে। আপনার প্রতিক্রিয়া কি?’ শুনে চোখে পানি চলে আসে। আমি বললাম, ‘বঙ্গবন্ধু নিজের রক্ত ​​দিয়ে জাতির ঋণ শোধ করেছেন।’

 

সমকাল: ১৫ আগস্টের নৃ/শংস হ/ত্যাকাণ্ড শুধু রাজনীতি নয়; বলা হয়, বাংলাদেশ নিজেকে বদলে দিয়েছে। দেশ উল্টোদিকে চলে গেছে।

জাফরুল্লাহ: বঙ্গবন্ধুকে হ/ত্যার পর আমরা কেঁদেছিলাম; আওয়ামী লীগ খুশি ছিল। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, ‘জালিমদের হাত থেকে দেশ রক্ষা হয়েছে।’ তারা দেশকে উল্টো পথে নিয়ে গেছে।

 

সমকাল : বঙ্গবন্ধুকে হ/ত্যা করে গোটা আওয়ামী লীগ খুশি হয়েছিল- এটা কি বলা ঠিক? কেউ কেউ খুশি, যারা হ/ত্যাকাণ্ডে জড়িত। তার প্রমাণ পরে।

জাফরুল্লাহ: আমি এ কারণে মুখ খুলতে চাই না। কাদের সিদ্দিকী ছাড়া আর কেউ সে অর্থে প্রতিবাদ করেননি। খুশি না হলেও প্রতিবাদ করেননি। হাইকমিশন থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছুড়ে ফেলা হয়। আওয়ামী লীগের একজন নেতাও আসেননি। পরে তারা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। তারা কিভাবে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে? আমি শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, ‘আমি আপনার দলে যোগ দিই না; কিন্তু আমি বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করি।’

সমকাল : দেশে ফিরলেন কবে? আপনি কি পরিবর্তন দেখেছেন?

 

জাফরুল্লাহ: আগস্টের শেষে ফিরে আসি। এসে দেখি এলোমেলো অবস্থা। সরকারের চরিত্র বদলে গেছে। আজব সরকার। সেনাবাহিনী তোলপাড়। জিয়াউর রহমান বনাম খালেদ মোশাররফের ঠান্ডা লড়াই চলছে। বঙ্গবন্ধুর খু/নিরা থাইল্যান্ডে গেছে। খালেদ মোশাররফ বরাবরই উচ্চাভিলাষী। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাকে লিখেছিলাম- ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শাসক’।

 

সমকাল : বঙ্গবন্ধু আপনাকে ডেকেছেন। খন্দকার মোশতাককেও ডাকলেন?

 

জাফরুল্লাহ: মোশতাক সরকারের জেনারেল ওসমানী ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।

 

সমকাল : দুজনেই বাকশালের বিরুদ্ধে ছিল বলেই কি এই যোগাযোগ?

 

জাফরুল্লাহ: আমাদের বাকশাল-বিরোধিতা প্রকাশ্য ছিল। খালেদ মোশাররফের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। তার প্রজ্ঞা ছিল। কিন্তু খালেদের মনোভাব ছিল- আমি লড়ব,

কাল : বংগবন্ধুকে ঠিক করতে না বলা সলনিয়াবাত ও শেখ মনির বাড়িতে কেন?

 

জাফর পুলিশ :মনি তো খুনিদের সমস্যা বলেছিল, ‘মা (বঙ্গবন্ধু) বলেছে?’ শেখ মনির কারণে তাজউদ্দীন আহমদকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়। শাহ সাহেবের জন্য কাল হয়। মনের মত কথা বলার মত আর কেউ নেই।

 

সমকাল : বংগবন্ধু কুটয় সাক্ষী জবানে পুরোটা মারবে। আজও (শনিবার) আইনমন্ত্রী নির্দেশক, মাননিকটর শীর্ষক ষড়যন্ত্র ও কুশীলবদের চিহ্নিত করতে চিহ্নিত করতে হবে।

 

জাফর নেতা :মামলা বা সব হাফ ট্রুথ জায়গায়। নেতার খুনিদের সাথে আমার মনে হয়েছে, এরা ব্যক্তিগত আক্রোশে খুন করেছে। আন্তর্জাতিক শক্তি জানুন। তারা বাধানি দেয়। আর দায়িত্ব পালন করছিল, তারা মেনে নিতে পারেনি। এটাও দেখা দরকার।

 

সমকাল : বংগবন্ধুকেস্তর পর সংবিধান বাতিল করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ যায়। দেশকে বাম দিকে নিতে চেয়েছিলেন। খন্দকার মোশতাক দিন প্রায় রওনা।

 

জাফর পুলিশ :বাম দেশের দিকে জিয়াউর রহমান আমার দিকে দিকে ঝুঁকে মধ্য পথে নিয়ে যান। জিয়াউর রহমান খুব বাস্তববাদী ছিলেন। রুথলেসও (নিষ্টুর) ছিলেন। তাহেরকে ফাঁসি মুসলিম। তাহেরকে বিকল্প জিয়াউর রহমানের কাছে তাদবির নিয়েও গিয়েছিলাম। জিয়াউর রহমান মালিকের উপর নিয়ন্ত্রণে তাঁহার মালিককে ক্ষমা করেন। সমন্বয় এত প্র্যাকটি ছিল না।

 

সমকাল : বঙ্গবন্ধু বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরার দাবি ও তার শরিক পথ করছে। ২০শে নির্বাচন সরকার সংবিধান সংশোধন করে নীতি নির্ধারণী নীতি নির্ধারণ করেছে। তবে বাহাত্তরের মূল সংবিধান পুনরুদ্ধার হয়নি।

 

জাফর পুলিশ :বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে আসা উচিত-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাহাত্তর সংবিধানের রায় ছাড়াই, সংবিধানকে অনুসরণ করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। দুই জোটের কারণ দুই পাকিস্তানের নেতাদের ও সমর্থন বিরোধিতা করা। রাজনীতি তোকে স্বাধীনতা করা। তিনি চরিত্র জানতেন। মানর কথা প্রজ্ঞা ছিল; কিন্তু ভারতকে দেননি। ভারতও তাঁকে বিশ্বাস করত না। আমার মনের জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভোট দিল্লিতে বলেন, ‘আমি’। ভারত যাঁর গেল। জিয়াউর রহমান, সফিউল্লাহ ও খালেদ মোশাররফ তিনজনই ছিলেন সমসাময়িক। তিনজনই বিশ্বাস করতে- করে দেশ স্বাধীন করা সেনাপ্রধান তাঁর পাওনা। ওসামানীর কথারোধে খাজা ওয়াসি পুলিশকে নিরাপত্তাপ্রদান করতে এইটা না। তিনি বলেছিলেন। তাঁকে সেনাপ্রধান ব্যক্তিতে সমসাময়িকদের এই বিরোধিতা না করা।

 

সমকাল : বংগবন্ধুত্ব না হলে কি সাম্প্রদায়িকতার উত্থান?

 

জাফর পুলিশ :এটা বলা মুশকিল। সত্তরের রাজ্য ছিল সমাজতন্ত্রের উথানের। এখন সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের সময় কথা। আমার গান, ব্লগ থাকলে খুন-খারাবিটা কম। জাতীয় এক সময়ে রক্ষী বিলুপ্ত করতে। বাকশালও বিলুপ্ত করে সীমিত গণতন্ত্র দিতে। দলীয় অবস্থান ঠিক স্থানীয় সরকার। স্থানীয় জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

 

সমকাল :জাতির প্রতিনিধিদের ৪৭ বছর পরের ১৫ আগস্ট জানতে চাই- দেশ কি সঠিক পথে যাচ্ছে?

 

জাফর পুলিশ :না। আসন বিনাশকারীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে; চাকেন। জাতি দল জাসদের সেক্রেট আ স ম রব নিশ্চিত করার পর বিবেচনার খবর নিয়েছিলেন। এখনকার সরকার তো শেখদের মুখও দেখতে চাই না। মানর কাছে আমাদের মতো মানুষের অ্যাকসেস ছিল। শেখ মনোকষ্টে বিব্রত। তাঁর অংশ আমরা মেরে জানাই। তাঁর মধ্যে রাগ, ক্ষোভ রয়েছে। তিনি যে এখনও পূর্বের পথে আছেন- আশ্রিত। এখন উনার দেন জুটেছে গোয়েন্দা সংস্থা, মোসাহেব ও আমলা। তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। তিনি সবচেয়ে জনবিচ্ছিন্ন শব্দ। সর্বনাশ হয়েছে। তিনি প্রচার খবর পান না। দেশ সঠিক পথ যাবে না।

বঙ্গবন্ধুকে নিথর করা অনেক দেশদ্রোহীকে  শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সরকার। ১৯৭১ সালে যারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে অনেকেই বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগদান না করলেও ওই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারমধ্যে ডাক্তার জাফরুল্লাহ একজন।

About Nasimul Islam

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *