Sunday , June 23 2024
Breaking News
Home / National / জাতিসংঘে ৬টি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

জাতিসংঘে ৬টি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

বিশ্বের মোড়ল খ্যাত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতারা অংশগ্রহন করেছে। বাংলাদেশের সরকার প্রধানও রয়েছে এই অধিবেশনে। অধিবেশন বক্তব্য কালে বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ৬ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। প্রকাশ্যে এলো তার দেওয়া প্রস্তাব গুলো।

ক/রো/না মহামারি মোকাবিলার পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা, রো/হি/ঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। ফিলিস্তিন এবং আফগান সমস্যাও তাঁর আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় তিনি রো/হি/ঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে পুনরায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে আশংকা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, এই অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তাঁর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টি/কা/কে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং, আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টি/কা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবত উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাংশেরও কম টি/কা পেয়েছে। জরুরিভিত্তিতে এই টি/কা বৈষম্য দূর করতে হবে। লাখ লাখ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না। তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টি/কা/র প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১-এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। ধনী বা দরিদ্র- কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের ক্ষতিপূরণ দান ও টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্সের সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ কপের ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূর শিক্ষণে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, সাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্য তিনি জাতিসংঘকে অংশীদারত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখ-সারির যোদ্ধা। তবুও তাদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসীগ্রহীতা দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার ও তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের একজনকেও সে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছি, উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বর্তমান সময়ে বিশ্ব জুড়ে বিরাজ করছে প্রাননাশকারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এই ভাইরাসের ভয়াবহতায় বিশ্ব জুড়ে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের সংকট। তবে বিশ্ব নেতারা চলমান সকল সংকট থেকে উত্তরনের জন্য আপ্রান ভাবে চেষ্টা করছে। এমনকি বিশ্ব নেতারা সকলেই একত্রিত হয়ে এই চলমান সংকট থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে গ্রহন করেছে নানা ধরনের পদক্ষেপ।

About

Check Also

জাহ্নবী কাপুরের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

মন্দিরের সিঁড়ির একপাশে অসংখ্য ভাঙা নারিকেল। তার পাশে থেকে হামাগুড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন বলিউড অভিনেত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *