Wednesday , April 24 2024
Breaking News
Home / Entertainment / কাজী হায়াতের নিকট সর্বশেষ করা অনুরোধ সালমান শাহের

কাজী হায়াতের নিকট সর্বশেষ করা অনুরোধ সালমান শাহের

নব্বইয়ের দশকের সেরা নায়ক হিসেবে এখনও সিনেমাপ্রেমীদের মনে এখনও জায়গা জুড়ে আছেন সালমান শাহ ( Salman Shah )। তিনি কাজী হায়াতের কাছে ছিলেন একজন প্রতিভাবন নায়ক। এই নায়ক জীবনের শেষ দিকে কিছু কথা বলেছিলেন। সালমান শাহ ( Salman Shah ) তাকে বলেছিলেন, আমাকে নিয়ে জাতীয় পুরষ্কার পাবার মত ছবি বানান। সালমান শাহ ( Salman Shah ) জনপ্রিয় ছিলেন সেই সময়ে। এবং পরিচালকও চেষ্টা করেছিলেন তেমনই একটি ছবি নির্মানের।

বাংলা চলচ্চিত্রের যুবরাজ সালমান ( Prince Salman ) শাহ। ঢালিউডের এই স্বল্পায়ু তারকা তরুণ প্রজন্মের স্টাইল আইকনে পরিণত হয়েছেন। আর তাই প্রয়ানের দুই দশক পরও তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

প্রয়াত সালমান শাহ ( Salman Shah ) তার ক্যারিয়ারের মাত্র চার বছরের মধ্যে ২৭টি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনেক পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন। কিন্তু কিংবদন্তি স্রষ্টা কাজী হায়াতের ( Kazi Hayat ) নির্দেশনায় এটি কাজ করেনি। সাইমন সাদিকের ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান নির্মাতা।

কাজী হায়াৎ বলেন, “আমি একদিন ডাবিং করছিলাম। হঠাৎ সালমান শাহ ( Salman Shah ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ওস্তাদ, আমি একটু কথা বলি। আমি তাকে জিগ্যেস করেছিলাম. তখন তিনি (সালমান শাহ ( Salman Shah )) বলেন, অন্যদের কাছ থেকে যা নেব তার থেকে দুই লাখ টাকা কম নেব। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতবে এমন একটি চরিত্রে আমাকে নিন।

কাজী হায়াত সেদিন সালমানের অনুরোধ গ্রহণ করেননি। তিনি সালমানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কিছুদিন পর দেশে চলে যাওয়া সবার প্রিয় মুখ সালমান শাহ ( Salman Shah ) আর ফিরে আসেননি।

তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- হৃদয় থেকে হৃদয়, সুজন সখী, স্বপ্নের নায়ক, স্বপ্নের ঠিকানা, খুঁজে পাওয়া, জীবন সংসার, প্রেমিক প্রেমিকা, সত্য মরে না, মায়ের অধিকার, মায়ের অধিকার, এই ঘর এই পরিবার। আমি তোমাকে চাই, আনন্দের অশ্রু, বুকে আ’গুন ইত্যাদি সিনেমাটি দর্শকরা এখনো আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।

সালমান শাহের সঙ্গে অভিনেত্রী শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা জুটিও বলছেন অনেকে। এই জুটির প্রতিটি ছবিই সুপার হিট। তাদের পর্দার রসায়ন ছিল নজরকাড়া। বাস্তব জীবনের রসায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। তখনকার সালমান শাহের সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে এখনো কমবেশি চর্চা হয়।

সালমান শাহের পর যারাই সিনেমায় নায়ক হয়ে এসেছেন সবাই বলেছেন সালমান শাহ তাদের অনুপ্রেরণার মূল উৎস।

অনেকের ধারণা, অল্প সময়ের জন্য আসায় সালমান এতটা জ্বলে উঠতে পেরেছেন, দাগ কেটে গেছে। সেই দাগ তার চলে যাওয়ার এত বছর পরও জ্বলজ্বল করছে। তার অনুপস্থিতি ও অকাল প্রয়াণ আজও বাঙালীর মনকে পুড়ছে। নব্বই দশকের সেরা নায়ক বলা হয় তাকে।

প্রসঙ্গত, সালমান শাহ চলচ্চিত্রে অভিষেকের এক বছর আগে, ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট তার খালার বান্ধবী সামিরা হককে বিয়ে করেন। সামিরা বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সালমানের দুটি ছবিতে তার কস্টিউম প্ল্যানার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। বিয়ের পাঁচ বছর পর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের আক’স্মিক মৃ”ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিনই ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার ম”রদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাকে আত্মহনন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার মৃ”ত্যু রহ’স্যই রয়ে গেছে।

সালমান শাহর প্রয়ান এখনও তার ভক্তরা মেনে নিতে পারেন না। এখনও সালমান শাহর প্রয়ানে তারা শোক প্রকাশ করে থাকেন। অনেক তরুনীর স্বপ্নের পুরুষ ছিলেন সালমান শাহ। তার অকালে চলে যাওয়া একটা রহস্যই হয়ে রয়ে গেছে। এখনও তাকে নিয়ে আলোচনা হয় এমন প্রশ্ন রেখে যে, সে প্রয়াত হয়েছিলেন নিজের জন্য নাকি তার প্রতি এটা ঘটানো হয়েছিল।

 

About bisso Jit

Check Also

হঠাৎ না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা, শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা পার্থসারথি দেব। শুক্রবার (২২ মার্চ) কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *