Wednesday , April 24 2024
Breaking News
Home / Countrywide / রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করা তরুণী এখন নারীদের জন্য হলেন দৃষ্টান্ত

রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করা তরুণী এখন নারীদের জন্য হলেন দৃষ্টান্ত

নারী উদ্যোক্তা শব্দটি শুনলেই আমরা একটু ভিন্নভাবে চিন্তা ভাবনা শুরু করি। আমাদের দেশে নারী উদ্যোক্তা মানে হচ্ছে অনেকটা সমালোচনার বিষয়। আমাদের সমাজে এখনো পর্যন্ত, নারী মানেই বাসা বাড়ির কাজ করবে, বাইরে যাবে না এমন ধারনা তাদের নিয়ে। সেজন্য এখনো পর্যন্ত নারীদের প্রতি মানুষের কোন অবজ্ঞার শেষ নেই। মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা না থাকতে পারে, কিন্তু যখন তাদের অনেকের একটা বড় স্বপ্ন থাকে, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা( Kalakopa ) গ্রামের আত্মবিশ্বাসী তরুণী নাজনীন সুলতানা( Nazneen Sultana ) হ্যাপি (৩৪)। এক সময় স্কুলে গিয়ে পণ্য বিক্রি করতেন। কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পে তিনি এখন নবাবগঞ্জে তিনটি দোকানের মালিক।নিজের পছন্দে বিয়ে করায়, বাবার বাড়িতে জায়গা হয়নি হ্যাপির। তখন রাজ্যের হতাশা এসে চোখ ভরে গেল। ২০১৪ সালে মাত্র আড়াই হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

হ্যাপি ২০০৭ সালে( In ) উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় নবাবগঞ্জের(  Nawabganj ) হরেকৃষ্ণ কুসুমকালী বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে তিনি তার পছন্দের লোকটিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় অর্থনৈতিক সংকট তাদের নিত্যসঙ্গী হয়। পারিবারিক জীবনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে।হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন। একবার কিছু টাকা হাতে আসে। আড়াই হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ধীর পায়ে এগিয়ে যান হ্যাপি। আজ নবাবগঞ্জে তার তিনটি দোকান রয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী। তিনি ইতিমধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন।

নাজনীন সুলতানা( Nazneen Sultana ) হ্যাপির সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা হাফিজ উদ্দিন( Hafiz Uddin ) ও মা লাকী বেগমের( Lucky Begum ) স্বপ্ন ছিল তাদের মেয়েকে লেখাপড়া করানো। তাই বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ভুল করেননি তিনি। সে জানান তার স্বামী, তোফাজ্জল হোসেনের( Tofazzal Hossain ) সহযোগিতা ও স্বপ্ন এবং নিজের অদম্য ইচ্ছার ফলে তিনি কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানী ডিগ্রি কলেজ( Ispahani Degree College, Keraniganj ) থেকে এসচ এসসি( SSC ) পাস করেন; এরপর তিনি স্নাতক হন। নাজনীন সুলতানা( Sultana )( Nazneen Sultana ) এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। তখন স্বামী-সংসার নিয়ে অনেক চলছিল। সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস স্বামী। হঠাৎ করেই স্বামী তোফাজ্জল হোসেনের( Tofazzal Hossain ) ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ হতে থাকে। এ সময় হ্যাপিও চাকরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় অনেক চেষ্টা করেও চাকরি পাননি। হ্যাপি প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন।

হ্যাপী জানান, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা ও মেধাকে পুঁজি করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আশায় পা রেখেছেন। একদিন সফলতা আসবে এই আশায় নেমে পড়েন কর্মের সন্ধানে।কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা ও মেধাকে পুঁজি করে এগিয়েছেন হ্যাপি। এই পদক্ষেপ তাকে এই সমাজে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং একজন সফল নারীতে পরিণত করেছে। তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন নারীকে চাকরি দিয়েছেন। নবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন বাজারে আজ তিনটি দোকানের মালিক হয়েছেন।

এখানে বিভিন্ন খেলনা ও মহিলাদের প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানের মাসিক আয় এখন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।হ্যাপি বলেন, সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা এখনো পিছিয়ে।বিশেষ করে নারীরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছেন না। নারীর কল্যাণ, সমর্থন ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার ইচ্ছা। আমি আমার স্বল্প পুঁজিতে অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছি।

বিশ্ব সংস্থা ও সরকার( Government ) কর্তৃক নারীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও, এখনো পর্যন্ত নারীরা আমাদের সমাজে অনেক পিছিয়ে। যার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে নারীদের হীনমন্যতা। নারীদেরকে সাহস যোগাতে সমাজে উৎসাহমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। নির্দ্বিধায় যেন, বাইরে চলাচল করতে পারে সে পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে।

About bisso Jit

Check Also

অবন্তিকার পর এবার একই পথে হাঁটল মীম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আ/ত্মহত্যা করেছে। শিক্ষার্থীর নাম শারভীন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *