Friday , September 20 2024
Breaking News
Home / Entertainment / যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ কেউ কেড়ে নিতে পারে না: রজতাভ দত্ত

যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ কেউ কেড়ে নিতে পারে না: রজতাভ দত্ত

ভারতের বহু পুরাতন একটি সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা। এই পত্রিকাটি প্রায় সময় নানা ইস্যু নিয়ে বির্তকিত হয়েছে। অবশ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশকে ঘিরে প্রায় সময় নানা ধরনের নেগেটিড নিউজ কাষ্ট করে থাকে পত্রিকাটি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন নামি-দামি তারকাদের নিয়ে পত্রিকাটি একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে প্রকাশিত ঐ সংবাদকে ঘিরে এবার বেশ কিছু কথা বলেলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় বাঙ্গালি অভিনেতা রজতাভ দত্ত।

আবারও বাংলাদেশি সিনেমায় কাজ করছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত। শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ‘প্রিয়া রে’ শিরোনামে একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে চাদঁপুরে এসেছেন তিনি। বেশ কিছুদিন টানা কাজ করবেন। গতকাল ১ অক্টোবর চাঁদপুরে একঝাঁক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই অভিনেতা। কথা বলেন সাম্প্রতিক সিনেমার হালচাল, মীরাক্কেলে না থাকাসহ নানা বিষয় নিয়ে। সেখানে কথা হয় সম্প্রতি আনন্দবাজারের একটি রিপোর্ট প্রসঙ্গে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, জয়া আহসান, মিথিলা, বাঁধনদের কারণে বেকার হয়ে যাচ্ছে কলকাতার নায়িকারা। এ ব্যাপারে রজতাভ কি ভাবেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘বোগাস কথাবার্তা। এ ধরনের রিপোর্টেরই কোনো ভিত্তি নেই। দেখুন, আনন্দবাজার তো কত কিছুই বলে, তাতে কি যায় আসে। ওরা তো বাংলা সিনেমা নিয়ে কখন ভালো কথা বলে না। সবসময় বলিউড, হলিউড নিয়ে মেতে থাকে। কে কোথায় গোসল করলো, কার কি হলো না হলো। বাংলা সিনেমা নিয়ে সব উল্টা-পাল্টা সংবাদ। তাদের রিপোর্ট নিয়ে আমি বলতে নারাজ।

আমার কথা হলো যে যোগ্য তার কাজ কেউ কেড়ে নিতে পারে না। যারা মেধাবী তারা সবসময় সব জায়গায় কাজ কারবে, এগিয়ে থাকবে। জয়া আহসান দুর্দান্ত একজন শিল্পী। তার কাজ নিয়ে বলার কিছু নেই। দর্শক তাকে চাইছে। সেজন্যই পরিচালকরা তাকে নিচ্ছেন। যতদিন চাইবে নেবেন। এটা নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকেই দুই বাংলার শিল্পীরা এপার ওপার করে কাজ করেছেন। কারণ বাংলা ভাষা আমার কথা বলি। আমাদের সাংস্কৃতিক আচারও প্রায় এক। এখান থেকে অনেকই কলকাতায় তুমুল জনপ্রিয়। জয়া ও মিথিলা ভালো করছে। বাঁধন গেল সম্প্রতি। আর চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম দারুণ জনপ্রিয় কলকাতায়। ওদের সিরিজগুলো খুব ভালো চলেছে। দর্শক পছন্দ করেছেন। ভবিষ্যতেও কাজ করবেন। আমরাও অনেকে এখানে এসে কাজ করছি। এটা তো ভাই সমালোচনার বিষয় হলো না। আমরা আসাতে বা জয়ারা ওপারে যাওয়াতে দুই দেশের শিল্পীদের চাপ বাড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে এগুলো বলার কোনো যুক্তি নেই। আমি মনে করি না। বাংলাদেশের জয়া বা অনেক তারকাই কলকাতায় গিয়ে ভালো কাজ করছেন শুধু তাই নয়। তারা কিন্তু ওপারে গিয়ে নানা অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে উঠে পুরস্কারও পাচ্ছেন। এটা কিন্তু আবার আমরা এখনো পাই না। হয়তো একদিন সেটাও হবে।’

যৌথ প্রযোজনার জটিলতা ও বাজার নিয়ে রজতাভ দত্ত বলেন, ‘নানা কারণে যৌথ প্রযোজনার বাজারটি জটিল হয়ে উঠেছে। এটা রাষ্ট্রীয় নীতিমালার ব্যাপার। আমার বলা উচিত না। আমি শিল্পী মানুষ। চেষ্টা করি অভিনয় করার। আমি বলতে পারি যে এত জটিলতা হওয়া উচিত নয়। আমরা কাজ করতে চাই। যৌথ প্রযোজনা কিন্তু দুই বাংলার সিনেমার জন্যই অনেক ইতিবাচক।’
অভিযোগ আছে যৌথ প্রযোজনার সিনেমার ক্ষেত্রে কলকাতার গণমাধ্যম নিরব থাকে। ওপারে খুব বেশি সিনেমা হলেও ছবিগুলো মুক্তি পায় না। এ ব্যাপারে রজতাভ দত্তের মত, ‘এটা হচ্ছে যারা বাজার বিশ্লেষণ করে তাদের ব্যাপার। গণমাধ্যমের প্রচারকে আমি গুরুত্ব দিতে চাই না। তবে সিনেমার বাজার অবশ্যই বিস্তৃত করা উচিত। নইলে তো উদ্যোগটা নষ্ট হয়।’ বাংলাদেশের মতো কলকাতার সিনেমার বাজারও টালমাটাল। তবে ভিন্ন ধারার সিনেমার ক্ষেত্রে কলকাতায় বলা চলে বসন্ত চলছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রজতাভ দত্ত বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি বদলেছে। ভাবনা বদলেছে। চাহিদাও বদলেছে। লোকে এখন আর নায়ক-নায়িকার প্রেম, হিরো ভিলেনকে মে/রে ফাটিয়ে দিচ্ছে- এসব দেখতে চায় না। তারা এখন সব গল্প ও চরিত্রে নিজেকে, নিজের প্রিয়-চেনাজানা মানুষদের রিলেট করতে চায়।

যারা সে ধরনের ছবি বানাতে পারছেন তারাই এখন সফল হচ্ছেন। এখন সিনেমাটা চলে গেছে উরবান মানে শহুরে দর্শক অথবা সেই মেজাজের দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে। তারা নিজেদের গল্প দেখতে চান। জীবনের বাস্তবতা খুঁজে ফেরেন। এজন্য ভিন্ন ধারার শহুরে আমেজের সিনেমাগুলো ভালো চলছে। তাছাড়া এখানে মাল্টিপ্লেক্সেরও একটা অবদান আছে। কমার্শিয়াল সিনেমাগুলো কিন্তু মাল্টিপ্লেক্সে খুব একটা চলে না। চললেও সেগুলো সাফল্য পায় না। এসব সিনেমা বেশি মুক্তি পায় নরমাল হলগুলোতে। সেগুলো অবস্থা, পরিবেশ এতো বাজে যে দর্শক যেতে চায় না। দর্শক এখন হাতের মুঠোয় সিনেমা পাচ্ছে। সকালে জাপানি, দুপুরে ফরাসি দেখে এসে রাতে একটা বাংলা ছবি খুঁজছে। বা পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে মজা করে একটা সিনেমা দেখছে। তার কি দায় পড়েছে ঘাটের টাকা খরচ করে গরমের মধ্যে বসে ছাড়পোকার কামড় খেয়ে সিনেমা দেখার। একটা উরবান সিনেমা অল্প খরচে বানিয়ে অল্প কটা মাল্টিপ্লেক্সে বানিয়ে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। কি দরকার এত হা/ঙ্গা/ম করে সিনেমা বানিয়ে এত প্রেশার নিয়ে লস গোনার। এগুলো ভাবতে হবে। সবার সমন্বয় না থাকলে হবে না। সমন্বয় নেই বলেই মশলাদার সিনেমাগুলো ভুগছে। একটা ফাটাকেষ্ট আর হচ্ছে না। সময়টাকে ধরতে হবে, হলগুলোর সংস্কার করতে হবে। ওটিটির সঙ্গে মোকাবিলার আইডিয়া বের করতে হবে।’

অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ার আপনার। নিজের কাজের তৃপ্তি কতটুকু আর স্বপ্নের এমন কোনো চরিত্র, যেটিতে এখনো কাজ করা হয়নি? রজতাভ দত্ত ওরফে রনি দা’র উত্তর, ‘শিল্পী কখনো তৃপ্ত হয় না। এটাই শিল্পের ধর্ম। আর আমি ভাই কখনো অভিনয় করবো সেই স্বপ্নটাই দেখিনি। তাই যে কাজগুলো করেছি সবগুলোই আমার কাছে স্বপ্নের মতো। সেই ছোটবেলায় এক ম্যাজিশিয়ান দেখেছিলাম হাতের তুড়িতে সব বদলে দিচ্ছে। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতাম এমন করে সবাইকে অবাক করে দেয়া যায় কিছু করতে হবে। সেটা করার চেষ্টায় অভিনয়ে এসে গেলাম। কোনোদিন ভাবিনি আমি অভিনেতা হবো। হয়ে গেলাম এবং অভিনয় করে যাচ্ছি। আমি উপভোগ করছি।’ রজতাভ দত্ত জানান, পূজন মজুমদারের ‘প্রিয়া রে’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করছেন নায়িকা কৌশানী মুখার্জির বাবা চরিত্রে। এই প্রথমবার বাংলাদেশে এসে গ্রামে শুটিং করছেন তিনি। নতুন এক অভিজ্ঞতা। নতুন একটি চরিত্র। রোমান্টিক গল্পের সিনেমাটি মুক্তি পেলে সবাইকে দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।

বাংলদেশ এবং ভারতের সঙ্গে বন্ধুর্তপূর্ন সম্পর্ক রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় নানা ধরনের সিনেমাও নির্মিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ‘প্রিয়া রে’ শিরোনামে একটি সিনেমার কাজের জন্য বাংলাদেশে রয়েছেন ভারতের বেশ কিছু জনপ্রিয় অভিনেতা। এদের মধ্যে একজন রজতাভ দত্ত। তিনি তার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এবং দুই দেশেই তরা রয়েছে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী।

About

Check Also

অবশেষে তারেক রহমানের সঙ্গে মৌসুমীর সেই আলোচিত ছবি নিয়ে মুখ খুললেন ওমর সানী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *