বহুল প্রচলিত প্রবাদ “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড”। শিক্ষা ছাড়া কোন দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। যে দেশ যত বেশি উন্নত তার প্রধান মূলে রয়েছে শিক্ষা। বাংলাদেশও বর্তমান সময়ে বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা খাতে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষার হার এবং মান দুই বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও এই শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতির সংস্করন করে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণ করল সরকার।
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির সংশোধিত নীতিমালায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বয়স ৭ বছরের বেশি, তৃতীয় শ্রেণিতে ৮ বছরের বেশি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১১ বছরের বেশি ও সপ্তম শ্রেণিতে ১২, অষ্টম শ্রেণিতে ১৩ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর বেঁধে দিয়েছে সরকার। এর আগে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সোমবার (৩ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) উপ-সচিব আলমগীর হুছাইন স্বাক্ষরিত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সংশোধিত নীতিমালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির বয়সের ভিত্তিতে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বয়স সাত বছরের বেশি, তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির বয়স আট বছরের বেশি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ১১ বছরের বেশি ও সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ১২ বছরের বেশি হতে হবে।
সে নির্দেশনা অনুসারে, পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বয়স নির্ধারণ করা হলেও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছিলেন না। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির বয়সে বাধ্যবাধকতা নেই। সে নির্দেশনা অনুসারে অনেক স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসারে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়ে সংশোধিত নীতিমালাটি জারি করল মাউশি। তবে, ভর্তির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় নির্ধারণ করবে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। সে অনুযায়ী বেশিরভাগ সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ। কিন্তু ভর্তির সময় পার হয়ে যাওয়ার পর সোমবার সরকারি স্কুলের ভর্তির সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হলো।
দেশের শিক্ষার হার এবং মান উন্নয়নের বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছরেই প্রদান করছে মোটা অঙ্কের অর্থের ভর্তূকি। এছাড়াও অসহায় এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রদান করছে উপবৃত্তি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আর্ন্তজাতিক মানের করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।