প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেনি। এমনকি ২০১৩ সাল থেকে অ/গ্নিসংযোগ, মানুষ পো/ড়ানোর মামলায় অভিযুক্তরাও ফিরে আসেন এবং সক্রিয় হন রাজনীতিতে। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কিন্তু তারা আবার অ/গ্নিসংযোগ শুরু করে, তাই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (২৬ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, যেহেতু আমাদের (সামনে) জাতীয় নির্বাচন। আগামী জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হওয়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তাই নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম নভেম্বর মাসের মধ্যে স্কুলের পরীক্ষা শেষ হবে।
তিনি বলেন, তবে আমরা কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করিনি। এমনকি ২০১৩ সাল থেকে অ/গ্নিসংযোগ, মানুষ পো/ড়ানো… যেখানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ পুড়িয়ে মা/রা হয়েছে, সেখানে লক্ষাধিক মানুষ মা/রা গেছে… সেই সময়ে যারা অভিযুক্ত ছিল, যারা পলাতক ছিল; যেখানে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছে; তারা এসেছে বহাল তবিয়তে। তারা শান্তিপূর্ণ সভা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু যখনই তারা আবার অ/গ্নিসংযোগ শুরু করে, বিশেষ করে ২৮ অক্টোবর থেকে তাদের স/ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড… প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা, ভাং/চুর; বিচারকদের বাড়িতে হামলা; পুলিশের মা/রধর, এক বিভীষিকাময় ছবি, যা চোখের অগোচরে; বাস-গাড়িতে আ/গুন; এমনকি রেললাইন কেটে ফেলে রাখা হয়েছে… ট্রেনে সাধারণ মানুষ মারার জন্য। তবে স্থানীয়রা সচেতন হওয়ায় কয়েকটি দু/র্ঘটনা এড়ানো গেছে।
তবুও, তারা কমিউটার ট্রেন জ্বা/লিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সাংবাদিকদেরও আ/ক্রমণ করেছে, মহিলাদের উপর হা/মলা করেছে এবং এখন তারা ক্রমাগত অ/গ্নিসংযোগ করছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর… আতঙ্কের অবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যতদিন তারা সঠিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে ততদিন তাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। এতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ভাবমূর্তিও বেড়েছে। কিন্তু এখন স/ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর তিনি জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ পো/ড়াবে, গাড়ি-ট্রেন সব পু/ড়িয়ে দেবে… সাধারণ মানুষ, মানুষ অনেক কষ্ট নিয়ে বাস বানায়, সেটা দিয়েই বাঁচে, চোখের সামনে যখন জ্বলে বা বাসের হেলপার ভেতরে ঘুমাচ্ছে হ্যাঁ, এমন পরিস্থিতিতে যেখানে একটি গাড়ি পু/ড়ে যায়… যারা এই ধরনের অ/গ্নিসংযোগের সাথে জড়িত বা যারা এটির আদেশ দেয় বা অর্থায়ন করে, আমরা কি তাদের মালা দিয়ে স্বাগত জানাব? নাকি তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা জ্বালাপোড়াও করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন তাদের কেন গ্রেফতার করা হলো? কিন্তু কেউ বলে না যে তারা অ/গ্নিসংযোগকারী, তারা পুলিশকে হ/ত্যা করেছে, তারা মানুষকে হ/ত্যা করেছে। এখন ডিজিটাল যুগ, এখন সাধারণ মানুষ ভিডিও বানায় তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব করছে। জনস্বার্থে এটা করা হবে। যারা জাতীয় সম্পদ নষ্ট করে তাদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। তারা না থামলে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিতে হবে।