করোনা ভাইরাসের তান্ডবে গোটা দেশ যেন অচল হয়ে পড়েছে। করোনা মোকাবেলায় সরকার সারা দেশ লকডাউন ঘোষনা করেছে। দেশের সকল মানুষ যেন অসহায় হয়ে আছে। সব থেকে বেশি বিপাকে রয়েছে গরিব মানুষ। কাজ কর্ম সবই বন্ধ। না খেয়ে অনাহারে দিন অতিবাহিত হচ্ছে তাদের। এমন সময় লকডাউন শীতিল করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প-কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে পোশাক-খাত, শিল্প-কারখানা খোলা রাখা যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


রোববার (৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ’করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান চালু রাখা’ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা উভয়ই ঠিক রাখতে হবে। শিল্প, কল-কারখানা বিশেষত তৈরি পোশাকখাত দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হলে এই শিল্প বিশ্ব বাজার হারাতে পারে। এতে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য হতে পারে হুমকি।

’অন্যদিকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার এই দুঃসময়ে মানুষের জানমালেরও ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে সবাইকে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে, অন্যদিকে অর্থনীতিরও বড় কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না।’

সভায় তৈরি পোশাকখাত চালু রাখতে স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেশ কিছু জোরোলো নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পোশাকখাতের নেতাদের সঙ্গে একটি আলাদা সমন্বয় কমিটি থাকবে। এই কমিটি পোশাক-খাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করবে।

শ্রমঘন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর তিনটি জোনকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এক অঞ্চলের শ্রমিক অন্য অঞ্চলের কল-কারখানায় চলাচল করতে পারবে না। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে বাইরের জেলায় কেউ গেলে সেখানেই তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

তৈরি পোশাকখাতের নিজ উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় রেখে টেস্টিং সুবিধা বাড়াতে হবে।

শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং শ্রমিকদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতে স্বাস্থ্য সুবিধা রাখতে হবে।

এছাড়া কোন কারখানায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

এর আগে একই স্থানে শিল্পখাত খোলা রাখা প্রসঙ্গে শিল্পখাতের সংস্থাগুলোর নেতাদের সঙ্গে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম সচিব, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সেলান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সব সংগঠনের নেতারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি গুরুত্বের সঙ্গে পালনের কথা জানান।


প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের ফলে সারা বিশ্বে আজ থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গোটা পৃথিবীর মানুষ আজ পাগল প্রায় করোনা থেকে বাঁচতে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২,৪৭,০৩৩ জন মানুষ। করোনা ভাইরাসের ভয়াল হানায় করোনা সংক্রমিত হয়েছে ৩৫,৩৯,৬৫৪ জন মানুষ। করোনা ভাইরাসের করোনা প্রতিষেধ আবিষ্কার করতে পারেনি করোনা গবেষকরা। করোনা থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display