ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের স্থান প্রতিটা মানুষের অন্তরস্থল।মানুষ তখনি সমাজে ঘৃণীত হয় যখন ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধ নিয়ে কূটউক্তি করে।গ্রিক শব্দ ব্লাসফেমেন থেকে ব্লাসফেমি শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ ধর্ম নিন্দা বা ঈশ্বর নিন্দা। এক কথায় কারো ওপর অপবাদ বা কলঙ্ক আরোপ করা বা সম্মানে আঘাত করাই ব্লাসফেমি। তবে ব্লাসফেমি বলতে প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান বোঝায়।বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সব ধর্মের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর বংলাদেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধে আঘাতপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় অনু’ভূতি ও মূল্যবো’ধে আ’ঘাত করে এমন কর্মকা’ণ্ডের বি’রুদ্ধে কঠোর আই’নানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার সবসময় সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ একটি ধর্মনি’রপেক্ষ রাষ্ট্র।

বুধবার সংসদে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল।জাপার এমপি রাঙ্গাঁ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েদের ওড়না পরা নি’ষিদ্ধ করা হয়েছে।


এর বি’রুদ্ধে তিনি সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মেয়েদের ওড়না পরা নি’ষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। একই সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকার অনেক আগেই শুরু করেছে। মাদ’কের বি’রুদ্ধে অভিযান চলছে এবং এটা চলতে থাকবে। আই’নগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকার সচে’তনতামূলক ব্যবস্থাও নিচ্ছে।


জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জননিরাপ’ত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সর্বা’ত্মক উদ্যোগ ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্নী’তি, মাদ’ক নির্মূল ও স’ন্ত্রাস’বাদের বি’রুদ্ধে জিরো টলা’রেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো নিরাপদ জীবন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন। স’ন্ত্রা’স, সাম্প্র’দায়িকতা, জ’ঙ্গিবাদ ও মা’দক নির্মূলে পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


সরকারি দলের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের নানামুখী শ্রম কূ’টনৈতিক তৎপরতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে সাত থেকে আট লাখ কর্মী বিদেশে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৪ জনের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।


সরকারি দলের আহসানুল ইসলামের (টিটু) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছা করে বেকার থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এখন এত বেশি কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে, তাতে যে কেউ চাইলে কিছু না কিছু করে খেতে পারে।


জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযো’দ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিয়েছে। এই সম্মা’নটাই বড় পদক। এর পরে পদক দেওয়ার কি দরকার আছে? মুজিববর্ষ উপলক্ষে বর্তমানের শিশু-কিশোর ও যুবকদের মুক্তিযু’দ্ধের ইতিহাস শোনানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’যে যেখানে আছেন, আপনারা মুক্তিযু’দ্ধের ইতিহাস শোনান। যেভাবে যু’দ্ধ করেছেন, সেই গল্প তাদের কাছে বলুন; যাতে তারা যেন দৃঢ়চেতা মনোবল নিয়ে সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে, দেশকে ভালোবাসতে পারে, দেশ গড়ে তুলতে পারে।



বিএনপি দলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, প্রটোকল ছাড়া টিম নিয়ে বেরিয়ে ঢাকা শহরের তরুণ ও যুবকরা কেমন আছে, তা দেখবেন কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রটোকল নিয়ে তিনি চলাফেরা করলেও ঢাকা শহরের অবস্থা তিনি জানেন। দায়িত্বশীল হিসেবে দেশের সবদিকে তার নজর রয়েছে।

তিনি বলেন, ’প্রটোকল নিয়ে চলাচলে নিরাপ’ত্তার বিষয় আছে- এটাও যেমন ঠিক, আবার শহর বা দেশের অব’স্থা আমি একেবারেই জানি না তা নয়। আমি সবদিকেই নজর রাখার চেষ্টা করি। ভালোভাবে লক্ষ্য রাখি। যেহেতু এ দেশের দায়ি’ত্ব আমি নিয়েছি। সবদিকে নজর দেওয়া আমার দায়ি’ত্ব ও কর্তব্য। তবে এতে এটাও শুনতে হয় যে, প্রধানমন্ত্রীকে কেন সব কাজ করতে হয়?’




উল্লেখ্য,ধর্ম সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সত্যবাদিতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, সদাচরণ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা মানবীয় গুণাবলির সমষ্ঠি।ধর্ম অবমাননা কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অপরাধগুলো আমাদের বিদ্যমান আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে বহু বছর আগে থেকেই। দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিভিন্ন ধারায় ধর্ম অবমাননার যে শাস্তি ছিল ২০০৬ সালে এসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সেই শাস্তি আরো বাড়ানো হয়েছে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বলেন ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধে আঘাত এলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।