শেখ হাসিনা যাতে নোবেল পুরস্কার না পান, আবরার হত্যা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ, চট্টগ্রামের মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে,মেয়রের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় যে চাইলেই শেখ হাসিনাকে দেয়া সম্ভব।যে কোনও ঘটনায়, নিজেদের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে অপরকে দোষারোপ করা কিংবা ষড়যন্ত্র খোঁজা আওয়ামী লীগের মজ্জাগত অভ্যাস বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, ড. মামুন আহমেদ, সহ-দফতর সম্পাদ মুনির হোসেন ও তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির চুক্তির বিষয়ে দেশে ফিরে যাতে কথা না বলতে পারেন এজন্যই প্রভুদের খুশি করতে সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, গতকাল চিকিৎসা শেষে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সাজানো মিথ্যা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এ গ্রেফতার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানুষের চোখকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার অপকৌশলমাত্র। সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে তিনি পানির ন্যায্য হিস্যা ও দেশের স্বার্থের পক্ষে একজন নির্ভীক ভাষ্যকার। পানি চুক্তির চক্রান্তের নানাদিক তুলে ধরতে পারতেন সাবেক এ পানি মন্ত্রী। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, দেশবিরোধী চুক্তি করে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হাফিজের কণ্ঠকে স্তব্ধ করানোর জন্যই এ গ্রেফতার। চিকিৎসা শেষে অসুস্থ মেজর হাফিজ নিস্তার পেলেন না। কীর্তিমান দেশপ্রেমিক এ মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে সরকার তার প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে চাচ্ছে। তার গ্রেফতার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আমরা এ মুহূর্তে বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে অসম এবং অধীনতামূলক চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে বন্যপ্রাণীর মতো পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। কী অপরাধ ছিল শহীদ আবরার ফাহাদের? আবরার ফাহাদ তো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলো। লিখেছিলো বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে। তাহলে ছাত্রলীগের যেসব অস্ত্রধারীরা আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে তারা কোন দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছে? কোন অপশক্তির স্বার্থ রাখা করেছে? এই বিবেকশূন্য ক্যাডারদের মগজ ধোলাই করলো কারা?
রিজভী বলেন, দেশের জনগণ গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে করা সকল চুক্তির বিস্তারিত জানতে চায়। এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। হুমকি ধামকি দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। এই আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়তে স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন।
’শেখ হাসিনা যাতে নোবেল পুরস্কার না পান, আবরার হত্যা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ’- চট্টগ্রামের মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ’পাগলরা এখন আওয়ামী লীগ করে, নাকি আওয়ামী লীগ করলে মানুষ পাগল হয়ে যায়- এটা বোঝা বড় দায়।’
তিনি বলেন, পাগলে কি না বলে ছাগলে কি না খায়। মেয়র নাছিরের এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, তিনি আসলেই আওয়ামী লীগ। অন্যথায় তার বোঝা দরকার ছিল, নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় যে চাইলেই শেখ হাসিনাকে দেয়া সম্ভব। কিংবা অনুগত দলদাস সাংবাদিক দিয়ে প্রচারণা চালিয়েও নোবেল পাওয়া সম্ভব নয়।
এ সময় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ’আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গতকাল নিশিরাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ছাত্রদের ১০ দফা মেনে নেয়া হয়েছে আবার কিসের আন্দোলন?’ প্রথম কথা হচ্ছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১০ দফা শেখ হাসিনা কিংবা তাদের নিয়োগকৃত উপাচার্য এমনিতেই মেনে নেয়নি, তাদের ১০ দফা দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। আবরার ফাহাদের মতো আর কোনো অসীম সম্ভাবনাময় জীবন যাতে ঝরে না যায় সেজন্য বুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ১০ দফা। সুতরাং, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই ১০ দফা মানার ঘোষণা দিলেই সরকারের সব অপরাধ মাফ হয়ে যায় না।