পানি এবং জ্বালানী সঙ্কটময় বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে উপকূলীয় নজরদারির জন্য বাংলাদেশে রাডার স্থাপনের অনুমতি দিয়ে, তার বদলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ক্ষমতার মসনদে থাকার গ্যারান্টি আর ঠাকুর শান্তি পুরস্কার।আর নয়া দিল্লীতে চুক্তির একদিন পর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতাকে ভারতের সঙ্গে অবৈধ চুক্তি সম্পর্কে গণমাধ্যমের হেডলাইন ঢাকতে পুরোনো ক্যাসিনো নাটকের নতুন সংস্করণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।সম্রাটকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত করে আজ রোববার নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসে মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেন, ’অবৈধ চুক্তির হেডলাইন ঢাকতে মিডিয়াকে দিলেন নতুন হেডলাইন? জনগণ এখন সব বোঝে। আজকের হেডলাইন হবে-দেশবিরোধী চুক্তি ঢাকতে পুরোনো ক্যাসিনো নাটকের নতুন সংস্করণ। এভাবে আর কতদিন? বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে দুটো দেশের সরকারের এই তামাশা আর কত দিন। তামাশার পর তামাশা, নাটকের পর নাটকে জনগণ আর বোকা হবে না। ক্যাসিনোর পুরোনো নাটক আজকেই সামনে আনলেন?’

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


মির্জা আব্বাস বলেন, ’দুতরফা বৈঠকে একতরফা চুক্তি, তরল গ্যাস, চট্টগ্রাম মংলা বন্দর, ফেনী নদীর পানিও যাবে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের। কথা ছিল মৃতপ্রায় তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আসবেন, উল্টো পানি দিয়ে আসলেন। শুধু কি পানি? তরল গ্যাস, একাধারে চট্টগ্রাম আর মংলা সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রের গ্যাস ব্লক, করিডরসহ অজানা আরও অনেক অনেক কিছু। বিনিময়ে এদেশের ১৭ কোটি মানুষ কী পেলাম আমরা? ১৭ কোটি মানুষের জন্য একটি মাত্র ঠাকুর পুরস্কার। দেশের মানুষের ন্যায্য প্রাপ্যটুকুও দরকষে আদায়ে ব্যর্থ নতজানু সরকার।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ’তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পানি, ফারাক্কার অভিশাপতো রয়েই গেছে, হালে সিকিমের উজানে ২০টি বাঁধে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় সবটুকু পানি, যেটুকু ছাড়ছে সেটুকুও তারাই আবার পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে নিচ্ছে। ভরা মৌসুমে পানি ছেড়ে বন্যায় ডুবিয়ে মারছে, আবার ক্ষরা-মৌসুমে আটকে দিচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দেশ কি পেলো আর না পেলো তাতে কি? দিল্লীর পুতুল হয়ে সুতোর টানে নড়েচড়ে ’ঠাকুর শান্তি পুরস্কারতো এসেছে দেশে। এটাই বা কম কিসের?’

তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, ’বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে অনুমতি ছাড়াই জোরজবরদস্তি করে অবৈধ ভাবে বছরের পর বছর পানি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছিল ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদী থেকে পানি উত্তোলন করে চলেছে নয়াদিল্লী। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানালেও পাত্তাই দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ’এবারের সফরে সেই অবৈধতার পাকাপোক্ত বৈধতা দিয়ে এলেন আমাদের সরকার। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তার পানি বিষয়টিকে পুরোপুরি পাশকাটিয়ে উল্টো এখন ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে সরবরাহে রাজি হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সঙ্কীর্ণ দলীয় স্বার্থে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে। বন্ধুত্ব আর দাশত্ব এক কথা নয়। আমরা খালি দিয়েই গেলাম-বিনিময়ে জুটলোনা কিছুই। ১৭ কোটি মানুষ কি এখন পদক ধুয়ে পানি খাব?’

এর আগে দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন চুক্তির বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এতদিন পর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি এবং জালানী সংকটময় দেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দেয়ার যে চুক্তি করা হলো, তা সুস্পষ্ট সংবিধান পরিপন্থী। চুক্তির ব্যাপারে সংসদসহ কোনো পর্যায়েই আলোচনা করেনি সরকার। তিস্তাসহ কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পারলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে সরকার।
ভারত সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিগুলোর খবর জেনে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। মনে হয়েছে এগুলো চুক্তি নয় যেন শেখ হাসিনা আরেকটি দাসখত দিলেন

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

আসল হেডলাইন ঢেকে দিলো সম্রাট : মির্জা আব্বাস
Logo
Print

জাতীয় Hits: 4272

 

পানি এবং জ্বালানী সঙ্কটময় বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে উপকূলীয় নজরদারির জন্য বাংলাদেশে রাডার স্থাপনের অনুমতি দিয়ে, তার বদলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ক্ষমতার মসনদে থাকার গ্যারান্টি আর ঠাকুর শান্তি পুরস্কার।আর নয়া দিল্লীতে চুক্তির একদিন পর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতাকে ভারতের সঙ্গে অবৈধ চুক্তি সম্পর্কে গণমাধ্যমের হেডলাইন ঢাকতে পুরোনো ক্যাসিনো নাটকের নতুন সংস্করণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।সম্রাটকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত করে আজ রোববার নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসে মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেন, ’অবৈধ চুক্তির হেডলাইন ঢাকতে মিডিয়াকে দিলেন নতুন হেডলাইন? জনগণ এখন সব বোঝে। আজকের হেডলাইন হবে-দেশবিরোধী চুক্তি ঢাকতে পুরোনো ক্যাসিনো নাটকের নতুন সংস্করণ। এভাবে আর কতদিন? বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে দুটো দেশের সরকারের এই তামাশা আর কত দিন। তামাশার পর তামাশা, নাটকের পর নাটকে জনগণ আর বোকা হবে না। ক্যাসিনোর পুরোনো নাটক আজকেই সামনে আনলেন?’

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


মির্জা আব্বাস বলেন, ’দুতরফা বৈঠকে একতরফা চুক্তি, তরল গ্যাস, চট্টগ্রাম মংলা বন্দর, ফেনী নদীর পানিও যাবে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের। কথা ছিল মৃতপ্রায় তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আসবেন, উল্টো পানি দিয়ে আসলেন। শুধু কি পানি? তরল গ্যাস, একাধারে চট্টগ্রাম আর মংলা সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রের গ্যাস ব্লক, করিডরসহ অজানা আরও অনেক অনেক কিছু। বিনিময়ে এদেশের ১৭ কোটি মানুষ কী পেলাম আমরা? ১৭ কোটি মানুষের জন্য একটি মাত্র ঠাকুর পুরস্কার। দেশের মানুষের ন্যায্য প্রাপ্যটুকুও দরকষে আদায়ে ব্যর্থ নতজানু সরকার।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ’তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পানি, ফারাক্কার অভিশাপতো রয়েই গেছে, হালে সিকিমের উজানে ২০টি বাঁধে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় সবটুকু পানি, যেটুকু ছাড়ছে সেটুকুও তারাই আবার পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে নিচ্ছে। ভরা মৌসুমে পানি ছেড়ে বন্যায় ডুবিয়ে মারছে, আবার ক্ষরা-মৌসুমে আটকে দিচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দেশ কি পেলো আর না পেলো তাতে কি? দিল্লীর পুতুল হয়ে সুতোর টানে নড়েচড়ে ’ঠাকুর শান্তি পুরস্কারতো এসেছে দেশে। এটাই বা কম কিসের?’

তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, ’বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে অনুমতি ছাড়াই জোরজবরদস্তি করে অবৈধ ভাবে বছরের পর বছর পানি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছিল ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদী থেকে পানি উত্তোলন করে চলেছে নয়াদিল্লী। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানালেও পাত্তাই দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ’এবারের সফরে সেই অবৈধতার পাকাপোক্ত বৈধতা দিয়ে এলেন আমাদের সরকার। দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তার পানি বিষয়টিকে পুরোপুরি পাশকাটিয়ে উল্টো এখন ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে সরবরাহে রাজি হয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সঙ্কীর্ণ দলীয় স্বার্থে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে। বন্ধুত্ব আর দাশত্ব এক কথা নয়। আমরা খালি দিয়েই গেলাম-বিনিময়ে জুটলোনা কিছুই। ১৭ কোটি মানুষ কি এখন পদক ধুয়ে পানি খাব?’

এর আগে দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন চুক্তির বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এতদিন পর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি এবং জালানী সংকটময় দেশের গ্যাস ভারতের হাতে তুলে দেয়ার যে চুক্তি করা হলো, তা সুস্পষ্ট সংবিধান পরিপন্থী। চুক্তির ব্যাপারে সংসদসহ কোনো পর্যায়েই আলোচনা করেনি সরকার। তিস্তাসহ কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পারলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে সরকার।
ভারত সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিগুলোর খবর জেনে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। মনে হয়েছে এগুলো চুক্তি নয় যেন শেখ হাসিনা আরেকটি দাসখত দিলেন
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.