সম্প্রতি লন্ডনে ’প্রবাস সংলাপ’ অনুষ্ঠানে ক্যাসিনো বাণিজ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আন্দালিভ পার্থ বলেন যে শোভন-রাব্বানীর তেমন কোনো দোষ নেই, তারা তো কোনো সিস্টেমের বাইরে নয়। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠার পর সমালোচনার মুখে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় পদ থেকে ছাত্রলীগের সাবেক রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়।এ ঘটনায় বিএনপিসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শীর্ষ নেতারা নানা ধরনের বক্তব্য দিলেও এ বিষয়ে এতোদিন কোনো মন্তব্য করেননি আন্দালিভ পার্থ।
আন্দালিব রহমান পার্থ লন্ডনে ’প্রবাস সংলাপ’ নামের এক টকশো অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ক্যাসিনো বাণিজ্য নিয়ে বেশকিছু তথ্য তুলে ধরেন সাক্ষাৎকারে। সেখানে ছাত্রলীগের বহিস্কৃত শোভন আর রাব্বানী প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‌এই দুজনের তেমন কোনো দোষ নেই।
তিনি বলেন, শোভন আর রাব্বানী ৮৫ কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছে, এতে সমস্যাটা কোথায়? তারা তো কোনো সিস্টেমের বাইরে যাননি। তারা দেখছে যে ৭ হাজার কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক খেয়ে ফেলছে। ১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। মহাসচিবদের হাতে রোলেক্স ঘড়ি, সবার লাইফস্টাইল চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খেয়ে ফেলছে ক্ষমতাসীন নেতারা। প্রতিদিনই পত্রিকায় আসছে যে, এ গাড়ি নিয়ে গেছে, ও লুট করছে। তাহলে শোভন-রাব্বানীর দোষটা কোথায়?’
পার্থ’র মতে এটা সিস্টেমেরই একটা অংশ।
তিনি যোগ করেন,ব্যাংক খালি করে ফেলা হচ্ছে, ১ লাখ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার হচ্ছে, এটা তো শোভন রাব্বানীরা বুঝছে না, ওরা শুধু শুনছে। ওরা তাহলে ভাবছে যে আমরা কি করব!
ক্যাসিনো অভিযান প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এই ক্যাসিনো বা শুদ্ধি অভিযান গত ৮-৯ বছর ধরে চলঝে। এগুলো যারা করছে, এর মাঝে সম্রাটের নাম আসছে, আরও অনেকের নাম আসছে। এসব শোভন-রাব্বানী দেখছে। কিন্তু তারা তো একটা ব্যাংক খেয়ে ফেলতে পারেনা না। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করতে পারেন না। তারা পারেন লোকাল ব্যবসা করতে। এজন্য তারা এটাই চিন্তা করেছে।
উল্লেখ্য,আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি, ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ স্কুল অব ল এর অধ্যক্ষ।পার্থর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের ভাইঝি ও শেখ ফজলুল করিমের বোন ছিলেন।২০০০ সাল থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর সাথে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে তার বাবার মৃত্যু হলে আন্দালিব বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।