প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের বিমানেই যাব। মরলে মনে হবে, দেশের মাটিতেই মরেছি। রোববার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাসপোর্ট ছাড়াই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের কাতারে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যখনই বিমানে উঠি, তখনই একটা ঘটনা ঘটে বা একটা নিউজ হয়। তো এই নিউজটা কেন হয় আমি জানি না। হয়তো পাসপোর্ট ভুলে যেতে পারে, পাসপোর্ট ভোলা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল, তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। তো আমার কাছে খবর যাওয়ার সাথে সাথে বলেছি, ইমিডিয়েটলি ব্যবস্থা নিতে, যে ইমিগ্রেশনে কারা ছিল, কেন চেক করেনি, কেন দেখেনি।

জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ১১ দিনের সফর শেষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটি কথা বলব, ইমিগ্রেশন এখন পাওয়ারফুল। এখন তো সবাই ভিআইপি, ভিভিআইপি, আরও ভি লাগবে। কিন্তু কাউকে ছাড়া হবে না। প্রতিটি পাসপোর্ট সিল মারা আছে কিনা চেক করা হবে। ভিভিআইপি লাগেজও সবকিছু চেক করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এতদিন এত পরিশ্রম করে প্লেন কিনে এ অবস্থায় এসেছে। আরও নতুন ব্যবস্থা নেবো ঠিক তখনই একেকটি ঘটনা ঘটে। এটার কারণ আমার যেটা মনে হয়, আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা বিমানকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করেছে। কিছুই তো ছিল না। জঘন্য অবস্থা ছিল।

হোম মিনিস্টারের নামই ছিল ক্যাসিনো বাবর। সেগুলো চলত। সেগুলো ভালোভাবে চেক করছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি, সবার পছন্দ হবে না জানি। খালি আমরা রিজার্ভ মারি, সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিচ্ছি। সিকিউরিটির ওপর ব্রিটিশরা বাগড়া দিলো, একবার অস্ট্রেলিয়া দিলো। এখন সিকিউরিটি লেভেল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের আঁতে ঘা বা ইন্টারেস্ট কমে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন এত চমৎকারভাবে চলছে, প্রবাসীরা নিজেদের দেশের ক্যারিয়ারে চলার জন্য পাগল। টিকিট নিয়ে ঝামেলা ছিল। সিট ছিল না। এখন আর এসব নিয়ে সমস্যা নেই। যারা এগুলো করত, তাদের কম পড়ছে। তাই যখনই যেতে চাই, তখনই সমস্যা হয়। আমাকে বলে, এটা হবে তো ওটা হবে। দেশের বিমানেই যাব। মরলে মনে হবে, দেশের মাটিতেই মরেছি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৫ জুন) রাতে কাতারের রাজধানী দোহাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ নিয়ে কাতার যান তিনি। কিন্তু পাইলট পাসপোর্ট সঙ্গে না নেওয়ায় সেখানেই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আটক করা হয়।