অর্থমন্ত্রীর আনুকূল্যে বড় বড় ঋণখেলাপিরা এবার দশ বছরের জন্য হালাল হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আজ শুক্রবার ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভায় ঋণখেলাপী-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্যঘোষিত প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ’আরও ছয়মাস তারা (ঋণখেলাপিরা) কিস্তি না দিয়ে থাকতে পারবেন। বরং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। আর যারা নিয়মিত কিস্তি দেবেন তাদের কপালে জুটবে ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ছবি আর এক বছরের সুদের ১০ ভাগ। সুতরাং এখন থেকে সবাই ঋণখেলাপি হবে- এটাই বাস্তবতা। ব্যাংকিং খাতের নতুন স্লোগান হবে "আমরা সবাই ঋণখেলাপি হবো, জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করব"।’
মেনন বলেন, আইনের বরখেলাপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে এ কাজ (খেলাপিদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি) করে তার থাকার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার সর্বশেষ এই প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ব্যাংকখাতের লুটপাটকেই অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করে দিল।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আরও বলেন, ’যেখানে হাজার হাজার কোটি এভাবে লুট হয়ে যায় সেখানে পাটকল শ্রমিকদের মাত্র ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোরতর আপত্তি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ, এমনকি সরকারের শ্রমমন্ত্রীর কথাও তারা কানে তুলতে নারাজ।’
ধানের মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে মেনন বলেন, ’সরকারি হিসাবেই যেখানে এক কেজি চাল উৎপাদন করতে ৩৬ টাকা খরচ হয়, সেখানে সরকারি চাল ক্রয়মূল্যও ৩৬ টাকা। অর্থাৎ কৃষককে সামান্য লাভও দিতে চায় না সরকার। আর এই সরকারি ক্রয়ের লাভের গুড় পিঁপড়ে- অর্থাৎ চালকল মালিক, আড়ৎদার ও আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট খেয়ে নেয়।’
মেনন বলেন, এসব ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে কৃষকদের ধানের যথাযথ মূল্য, ভর্তুকি দেয়া যেত। কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের কাছেই রাখা যেত।
তিনি বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি এ বিষয়গুলো সংসদে তুলবে। কিন্তু কতটুকু আলোচনা হবে বলা যায় না। গত অধিবেশনে ঋণখেলাপি নিয়ে আলোচনার নোটিশ দেয়া হলেও, আলোচনাই আসেনি।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, ’বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন লুটেরাদের হাতে জিম্মি। রাজনীতিকেও ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এই অবস্থার অবসানে জনগণের বিভিন্ন অংশকে জেগে উঠতে হবে। সকল গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে এক হতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টি সেই লক্ষ্যে নিজেকে সংগঠিত করছে। সংগঠন-আন্দোলন দিয়েই কেবলমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য শফিউদ্দিন আহমদ, জেলা কমিটির সম্পাদক হিমাংশু সাহা, জেলা কমিটির সদস্য নাসির হোসেন, বাহারউদ্দিন, মাঈনুদ্দিন বারী, রবিউল চৌধুরী, আবুল হোসেন পাঠান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।