ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিলো পুরো রাজনৈতিক প্লাটফর্মকে এক করার লক্ষ্যে। আরেক দিকে ছিলো ড. কামাল হোসেন একটা হেলথদি ফিগার উনাকে সামনে রাখা। যেহেতু ম্যাডাম জেলখানাতে আছে। নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টের আর কোনো ভূমিকা থাকার কথা না। রাজনীতিটা ২০ দলের কাছে চলে যাওয়া কথা। ২০দলটা ছিলো রাজনীতি। আর ঐক্যফ্রন্ট ছিলো নির্বাচনভিত্তিক। ২০দল পলিসি মেক করছে ২০ বছর ধরে। প্রথমে চার দল তারপর ১৮দল এবং সর্বশেষ ২০ দল। পলিসি নির্ধারণ, হরতাল মিছিল মিটিং ইত্যাদি বিষয়গুলো বিএনপির স্ট্যাডিং কমিটি ও ২০দল মিলে আমরা ঠিক করতাম। ঐক্যফ্রন্ট যখন আসলো তখন তো আমরা তাদেরকে অনেক জায়গা দিলাম। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের আমরা চেয়ার ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু উনারা আমাদেরকে বাদ দিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। কারা গেছে তাদের নামও আমরা জানি না চিনিও না। আমরা তো সবকিছুই ছাড় দিয়েছি, বৃহত্তর স্বার্থে। তারপর রাজনীতিতো ওখানে থাকা ঠিক ছিলো না।
সদ্য ২০ দল ছেড়ে যাওয়া বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের আলাপে এসব কথা বলেন। জোটে আর না ফেরার কথা জানিয়ে তরুণ এই ব্যারিস্টার বলেন, ঐক্যফ্রন্টের মোকাব্বির খানকে নিয়ে বিএনপি যাওয়ার আগে তাকে পাশে বসানো এগুলোতে সন্দেহ আছে। বিএনপি তো পরে গেলো। তার আগেই তো ঐক্যফ্রন্ট ডুয়েল খেলা আরম্ভ করলো।

এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনি বিএনপির সঙ্গে কোনো কথা বলেছিলেন কিনা উত্তরে পার্থ বলেন, আমরা যখন সুযোগ পেয়েছি তখন বলেছি। গণশুনানী হয়েছে এটা আমরা মিডিয়াতে দেখেছি। কিন্তু এটাতো উচিত ছিলো ২০দল ও ঐক্যফ্রন্ট মিলে অনুষ্ঠানটা করা। কিন্তু তা তো হয়নি।
আর পালার্মেন্টে যাওয়াটা এটা আমি মনে করি প্রতিবাদ করার জায়গাটা অনেকখানি ক্ষুন্ন হয়ে গেছে। আপনি দেখেন, বিএনপি এতো জনপ্রিয় দল আমি ছাড়ছি। অধিকাংশ মানুষ আমাকে বলছে আপনি ভালো করেছেন। কেউ একজন অন্তত এর প্রতিবাদ করেছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা জবাবে পার্থ বলেন, না, উনার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। উনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আমি কথা বলেছি মহাসচিব ও নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। মহাসচিব ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। এমনও মিটিং হয়েছে সেখানে মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন না।

এই ধরণের বিভেদ দরকার ছিলো বলে মনে করেন কিনা জবাবে তিনি বলেন, বিভেদটা সৃষ্টি হয়েছে কেন, আপনি দেখেন, যেভাবে পার্লামেন্টে গেলো, ১২০দিন ধরে গালি দিয়ে ১২১ দিনে চলে গেলো। এটাতো হয় না। এভাবে রাজনীতি হয় না। ১২০দিন বলতেন, দেখি আমরা যাবো কিনা, ভেবে দেখি। আপনারা এখন পার্লামেন্ট কি বলবেন আপনারা ২৯৬জন অবৈধ আমরা চারজন বৈধ?

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আমি রাজনৈতিক দল করি। আমাকে যদি কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে আমার সঙ্গে কথা বলবে, আমি যদি মনে করি হ্যাঁ, কথা বলতে চাই। আমার যদি কোনো রিজারভেশন না থাকে। আমি যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসতে পারি। কিন্তু আমি তো ২০দলের মিটিংয়ে যেতে পারি না। আমাকে যদি কাদের সিদ্দিকী বলেন পার্থ আয় আমার সঙ্গে চা খেয়ে যা আমি যাবো। বিএনপি মহাসচিব বললেও আমি যাবো। এটা আমার পলিটিক্যাল শিষ্টাচার। আমি যাদেরকে পছন্দ করি বা আমাদের মনা এমন যদি হয় আমি যেতেই পারি। এক দল আরেক দলের দাওয়াতে তো যায়। কিন্তু মিটিং তো আলাদা একটা বিষয়। কারণ মিটিংয়ে এজেন্ডা থাকে। সেখানে আমি যেতে পারি না।

ভবিষ্যতে ২০ দলের আবার ফিরবে কিনা জবাবে পার্থ বলেন, না, আমি ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমি আমার কাজ করবো। সিদ্ধান্ত যখন নিয়ে নিয়েছি এবং এটা সবাই জানে। ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কারো না কারোর অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, আমি একটা প্রশ্ন করি, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে, পুরো আন্দোলনে আমি ছিলাম। ১২টা মামলা খেয়েছি। হঠাৎ করে যদি আমি দুইটা সিট নিয়ে মন্ত্রী হয়ে সর্বদলীয় সরকারে চলে যেতাম, এই আনোয়ার হোসেন মঞ্জুদের মত। তারপর যদি আমি বলতাম এটা আমার রাজনৈতিক কৌশল, তাহলে আমাকে আপনারা কি বলে ডাকতেন? বিএনপি ও বাংলাদেশের মানুষ আমাকে কি ডাকতো। ওই সময় নিবন্ধিত দলের যারাই সর্বদলীয় সরকারে গেছে তারা সবাই তো মন্ত্রী হয়েছে। ইনু, মেনন, মঞ্জু সবাই।

তিনি বলেন, কৌশল হয় মূলনীতিকে ঘিরে। আর মূলনীতিটা ছিলো এই নির্বাচনটা বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। এটা বোঝানো যে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিলো আন্দোলনের অংশ। এটা দেখানো যে কোনো দলীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটাই ছিলো মূলনীতি। এই শপথ নিয়ে নির্বাচনে বৈধতা দিয়ে দিলেন। এটার মাধ্যমে নিবার্চন কমিশনকে বৈধতা দেওয়া হলো।
-আমাদের সময়.কম