ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি সবাইকে অবাক করে দিয়ে জাতীয় সংসদে যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত সোমবার জোট থেকে বেরিয়ে গেছে আন্দালিভ রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।
জোট থেকে পার্থের বের হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার জন্য বিএনপিকে হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
মঙ্গলবার তিনি বিএনপিকে ২৩ মে পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন। এর ব্যতয় হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন ইরান।
এদিকে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের জোট ত্যাগ প্রসঙ্গে বিএনপি নীতিনির্ধারক ফোরামের সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে, রাজনীতির বিশেষ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জোট গঠন হয়। আবার দেশের পরিস্থিতি যেমন সবসময় একই রকম থাকে না, জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর চিন্তাভাবনার মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে। স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ২০দলীয় জোট গঠন হয়েছিল। কিন্তু কোন দলতো বিএনপিতে একিভূত হয়নি।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, জোটবদ্ধ হলেও দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা জোটেও থাকতে পারে আবার জোট ছেড়েও দিতে পারে। এখানে স্থায়ী কিছু নেই।
যার যার মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতার সবার আছে। বিজেপি জোট ছেড়ে যাওয়ায় জোটের রাজনীতিতে বা সামগ্রিক রাজনীতিতে বিএনপি নেতিবাচক পরিস্থিতিতে পড়বে বলে মনে করেন না বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক। তিনি বলেন, এটা রাজনীতিকে বড় কোন বিষয় বলে আমি মনে করি না। কেউ আসতেও পারে, কেউ যেতেও পারে।
বিজেপি চেয়ারম্যান পার্থ জোট ছাড়ার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ব্যাপারে আমির খসরু বলেন, তিনি এখন অনেক কারণ দেখাতে পারেন। রাজনীতিতে এই রকম অনেক কারণ দেখানো যায়।
উল্লেখ্য, চার দলীয় জোটের সঙ্গে ১৯৯৯ সাল থেকে এবং পরে ২০ দলীয় জোটভুক্ত হয়ে রাজনীতি করে আসছিল বিজেপি। অবশ্য ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) একাংশের নেতারা।