বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মানবিক কার্যকর্মের কারণে ভূমণ্ডলীয় উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাস, ইত্যাদির উপর বির্পযয় নেমে এসেছে।জলবায়ু রক্ষার দাবি নিয়ে সারাবিশ্বে চলছে আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের বেশ আলোচিত একটি নাম গ্রেটা থানবার্গ।গ্রেটা থানবার্গ ১৬ বছর বয়সি সুইডিশ কিশোরী। তিনি আজ সারাবিশ্বে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তার কিশোরীসুলভ কোনো আচরণের জন্য নয়,জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার মতো এক বক্তৃতার মাধ্যমে।সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গের মতো বাংলাদেশের এক কিশোরী বৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষার আন্দোলনে নেমে আলোচনায় এসেছে। রেবেকা শবনম নামের ওই ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এখন আমেরিকায় থাকে। তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
গত সোমবার স্পেনের মাদ্রিদে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছে যুব সমাজ। কিছুদিন আগে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ আন্দোলনকারীরা। এদের একটি বড় অংশ স্কুল শিক্ষার্থী।
ওই আন্দোলনে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল সুইডেনের স্কুলছাত্রী গ্রেটা থুনবার্গ। পরিবেশ আন্দোলকারীদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলোন গ্রেটা। ওই সমাবেশে অংশ নিয়ে নজর কেড়েছিল এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। তার নাম রেবেকা শবনম।
মাদ্রিদে জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা একটি প্রতিবেদন করেছে রেবেকা শবনমকে নিয়ে। যার শিরোনাম ’জলবায়ু নিয়ে বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণীর লড়াই’।
১৬ বছর বয়সী রেবেকা শবনম সেপ্টেম্বরের জলবায়ু পরিবর্তন রোধের আন্দোলনে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। নিউ ইয়র্কে ২০ হাজার মানুষের ওই সমবেশে বক্তৃতা করেন রেবেকা। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে তরুণদের আহ্বান জানান রেবেকা।
ওই সময় রেবেকা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একবার ঢাকায় বন্যার সময় আমার কাকা আমাকে পিঠে চড়িয়ে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। রেবেকা বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে দারিদ্রতার সংযোগের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কিভাবে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সেটি তুলে ধরেন।
নিউ ইয়র্কের একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রেবেকা পরে আলজাজিরাকে বলেছেন, আমি শুধু ভাবতাম এই বিশাল সমাবেশে কিভাবে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরবো। যেটিকে শুধু ক্রিকেটের জন্যই মানুষ চেনে। তবে আমার বক্তৃতার সময় সবাই চিৎকার ও করতালি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রেবেকা পরিবারের সাথে নিউ ইয়র্কে বসবাস করেন। ছয় বছর বয়সের সময় পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র যান। নিউ ইয়র্কের ওই বক্তৃতায় রেবেকা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুরু পরিবেশগত বিষয় নয়। এটি একটি জরুরি মানবাধিকারের বিষয়ও।
রেবেকা শবনম বলেন, বাংলাদেশের নারী ও উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জানাতে চাই যে, তাদের জীবন নিরাপদ করতে সারা বিশ্বের যুব সমাজ কিভাবে আন্দোলন করছে।
মাদ্রিদের কোপ২৫ সম্মেলন উপলক্ষে তিনি আলজাজিরাকে বলেন, আমরা চাই কোপ২৫ সম্মেলন শুধু তাপমাত্র বৃদ্ধির মতো হুমকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই যেন সীমাবন্ধ না থাকে।
প্রসঙ্গত,জলবায়ু কন্যা গ্রেটা থানবার্গ বিশ্বজুড়ে জানুয়ারিতে আলোচনায় এলেও তিনি আরও আগ থেকে আন্দোলনটা শুরু করেছিলেন। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে স্কুল বাদ দিয়ে টানা তিন সপ্তাহ জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেজন্য প্রতিবাদস্বরূপ সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে তিনি বসে থাকেন। এ সময় তার হাতে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড,যাতে লেখা ছিল জলবায়ুর জন্য স্কুল ধর্মঘট। সেদিন তার ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে জার্মানি, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপানসহ ১২০টি দেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমের মতে, এটিই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্দোলন। প্রথম দিকে গ্রেটার বিশ্বজুড়ে ডাকা এমন উদ্যোগ ও কর্মসূচি রীতিমতো বিতর্কের জন্ম দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে রাস্তায় নামবে, এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি রক্ষণশীল অনেকেই। তবে বিপরীতমুখী অনেকেই এটিকে শুধু নৈতিক নয়, বরং যৌক্তিক হিসেবে ধরে নিয়ে তার পক্ষ নিয়েছেন।