বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসী ভালো কাজ করলে যেমন দেশের সুনাম বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো প্রবাসী খারাপ কাজ করলে বদনাম হয়।প্রবাসীদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের উপর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।সম্প্রতি অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিজান আল রহমান নামে এক প্রবাসীকে দেশে পাঠিয়েছে কুয়েত।তার কর্মকাণ্ডে কুয়েতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছিল বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের অভিযোগ।নারী সংশ্লিষ্ট অশ্লীলতাসহ বেশকিছু অসামাজিক ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিজান আল-রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং গত বৃহস্পতিবার তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, কুয়েতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গত ১০ অক্টোবর ফরওয়ানিয়া এলাকা থেকে ফিলিপিনো এক তরুণীর সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। এ সময় প্রশাসন তাকে আটক করে নিয়ে যায়। মিজান কুয়েতের একটি জিম সেন্টারে কাজ করত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিউনিটির এক নেতা বলেন, মিজান কুয়েতের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সাহিত্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করত। ফলে কমিউনিটিতে পরিচিতি লাভ করে। তার এমন কর্মকাণ্ডে কুয়েত কমিউনিটি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও হয়েছে।
কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিজানের নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আমরা যে দেশে থাকি না কেন সেই দেশে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলি। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। অথচ মিজানদের মতো কিছু লোকের কারণে দেশের সম্মান নষ্ট হচ্ছে।

কুয়েত দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মাস আগে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভাঙচুর ও শ্রমিক বিদ্রোহে মিজানের সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া কুয়েতের ভিসা ব্যবসায়ী দালালচক্র ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মিজানের সখ্য ছিল বলে দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মিজানের গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি কুয়েত দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।
দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ এ কর্মকর্তা জানান, মিজানের নানা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার সব প্রমাণাদি দূতাবাসের হাতে রয়েছে।
অপরাধ থেকে বিরত থেকে, দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে, প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুতাবাসের দূতালয় প্রধান ও কাউন্সিলর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ ছাড়া মিজানের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে বলে কুয়েত প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানান মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।১৭ অক্টোবর বিকালে এবিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনিসুজ্জামন এসব কথা বলেন।এসময় সাংবাদিকরা কুয়েত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বর্তমান নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত দূতাবাস কে দালাল মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানান এবং প্রবাসীদের যেকোন দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান।পরিশেষে সকলকে স্থানীয় কুয়েতের স্থানীয় আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন এবং প্রবাসে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান করেন তিনি।