এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক নেতা।চট্টগ্রামের কিংবদন্তি আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। আর মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অতি কাছের ও আদরের ছাত্রনেতা। তিনি দেশ স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যু অবধি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কয়েক দফায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নগর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনে রয়েছে নানা সংগ্রামী ঘটনা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের তাগিদে তাকে করতে হয়েছে রেডিও মেকানিকের কাজও। সর্বশেষ নির্যাতিত হন ওয়ান ইলেভেনের সময়। ষাটোর্ধ বয়সে কারাগারে ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই তার আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পাকে হারান। কিন্তু শত চেস্টা আর মানসিক নির্যাতন করেও মহিউদ্দিন চৌধুরীকে তার আদর্শ থেকে একটুও টলাতে পারেনি।এক-এগারোর সময় গ্রেফতারের পর কারাগারে থাকাকালীন সময়ে মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা বাবার কাছে লিখেছিলেন এই চিঠি। মরহুম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রিয় বোন টুম্পা’র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন সেই চিঠি। লিখেছেন-’জনকের প্রতি আবেগঘন উষ্ণতা মেখে আমার আদরের ছোট বোন অভিমানী ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার জীবনের প্রথম এবং শেষ চিঠি’।
’প্রিয় বাবা, তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছগুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি, তারাও এখন খুব বিষণ্ন, নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাববোধ করছে। আমি, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন টুম্পা। ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা অনেক সাধাসিধে ছিল। তার বাবা মেয়র- এই বিষয়টি আমরা অনেকেই জানতাম না। এক-এগারোর সময় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হলে জানতে পারি টুম্পা তার মেয়ে।
ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা তার মৃত্যুর আগে পিতার সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেনি। সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার টুম্পার বাবার প্রতি নির্দয় আচরণ করে। টুম্পাকে দেখার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি মুক্তি পাওয়ার পরও ব্যাংককে যেতে সরকার তালবাহানা করে যাত্রা বিলম্বিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেই তিনি টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পান। এটা শুধু মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য নয়, আমাদের সকলের জন্য একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।
উল্লেখ্য,মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল একাদশ সংসদ নির্বাচনে (চট্টগ্রাম-৯) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে নওফেল। তার রাজনীতির শুরুটা হয়েছে চট্টগ্রামের মাটিতে বাবার পাশে থেকেই।২০১৬ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যারিস্টার নওফেল সর্বকনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।২০১০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবার হয়ে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে স্নাতক করে পরে ব্যারিস্টারিও সম্পন্ন করেন তিনি।বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর দীর্ঘ ১৬ বছর সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনে পেছন থেকে মূল পরামর্শকের কাজ করেছেন তিনি। রাজনীতির মাঠের বাইরে মহিবুল হাসান ঢাকা বারের আইনজীবী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিরও সদস্য এবং বেসরকারি টেলিভিশন বিজয় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display