বেপরোয়া টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। নিজের মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ব্যবহার করতেন সময়ের আলোচিত মডেল, অভিনেত্রীদের। উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তারা শামীমের পাঠানো তালিকা দেখেই বাছাই করে নিতেন মডেল, নায়িকাদের।অনক কর্মকর্তারাই টাকার সঙ্গে নারীসঙ্গ চাইতো। পাঁচ তারকা হোটেলে কক্ষের ব্যবস্থাও করতে হতো। শামীমের সঙ্গে সখ্যতা অর্ধশতাধিক সুন্দরী তরুণীর। এরমধ্যে এক ডজনেরও বেশি পরিচিত নায়িকা ও মডেল। টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নেতাদের কাছে পাঠানো হতো তাদের।শামীম ডিবি পুলিশের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
জি কে শামীম সরকারি প্রায় সব টেন্ডারে একা ভাগ বসাতেন। এজন্য যাকে যা দিয়ে সন্তুষ্ট করা যেত সেটিই অফার করতেন টেন্ডারবাজ শামীম। এক্ষেত্রে তার হাতিয়ার ছিল উৎকৃষ্ট মানের উপঢৌকন, দামি প্রসাদনী, কাড়ি কাড়ি টাকা এবং সুন্দরী তরুণী। শামীম টেন্ডার বাগাতে সুন্দরী নারীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার এই টোপ গিলতে শামীমের ডেরায় অনেক ভিআইপির আনাগোনাও ছিল বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

নাটক, সিনেমার পরিচিত মুখ, নায়িকা ও মডেলকে মনোরঞ্জন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ব্যবহার করতেন শামীম। উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়মিত আবদার ছিল, শুধু টাকা দিলেই হবে না, চাই উঠতি বয়সের নায়িকার সঙ্গ। কর্মকর্তাদের কাছে দীর্ঘ তালিকা পাঠাতেন শামীম।ছবিসহ সেই তালিকা দেখেই বাছাই করে নিতেন মডেল, নায়িকাদের। একইভাবে প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতেও মডেল, নায়িকাদের পাঠানো হতো ফ্ল্যাটে-তারকা হোটেলে। দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতো তাদের।
দেশের বাইরের পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন যুবলীগ দক্ষিণের শীর্ষ এক নেতা। কখনও কখনও হাজির হতেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা ও সংসদ সদস্য। বেশ কয়েক পার্টি হয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন। দেশের মধ্যে গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো একান্তে সময় কাটানোর জন্য।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কয়েক নায়িকাকে ব্যবহার করেন জি কে শামীম। মোটা অঙ্কের টাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এসব নায়িকা-মডেলদের চাইতেন। এরমধ্যে এক নায়িকা রয়েছেন। জি কে শামীম তাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতাও এই নায়িকাকে ডাকতেন। ওই নেতার কাছেও পাঠিয়ে দেয়া হতো তাকে। পার্টিতে তাল মিলিয়ে এ্যালকোহল পান করেন এই নায়িকা। প্রকাশ্যেই শামীমকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। শামীমের সঙ্গে পরিচয়ের পর দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে খুলনার এই মেয়ের। শামীমের দরবারের আর্শীবাদের বদৌলতে রাতারাতি বদলে যায় তার আর্থিক অবস্থা। ২০১৪ সালে তার ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। যিনি অভিষেকেই মেরিল-প্রথম আলো শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। এই নায়িকা গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন প্রযোজক। ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্রী অভিনয় ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রযোজক হিসেবে। অভিনয় করেছেন ভোজপুরি চলচ্চিত্রেও। পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।
যদিও গণমাধ্যমে কোনও নায়িকার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তথ্য মিলিয়ে আকার ইঙ্গিতে বার বার উঠছে নায়িকা মিষ্টি জান্নাতের নাম। সংবাদে নাম প্রকাশ না করেলেও ইঙ্গিতে যে নায়িকা মিষ্টি জান্নাতের কথাই বলা হচ্ছে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটু চোখ রাখলেই বোঝা যায়।
বিষয়টি নিয়ে মিষ্টি জান্নাত বলেন, আসলে আমি বুঝতে পারছি না আমাকে এইসবের মাঝে কেন জড়ালো হলো? যার কথা বলা হচ্ছে মানে জি কে শামীম তারে সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তো দূরের কথা তার নাম আমি প্রথম শুনেছি যে দিন তাকে আটক করা হলো। যারা এসব রটিয়ে রেড়াচ্ছে আমি বলবো তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করছে।এসব না এসব রটিয়ে দয়া করে ভিডিওসহ প্রমাণ দিন। আর যদি না দিতে পারেন তাহলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
নায়িকা মিষ্টি জান্নাতের পাশাপাশি আরও শোনা যাচ্ছে বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী রত্না, রাহা তানহা খান ও শিরিন শীলার নামও।
এদিকে জি কে শামীমকে চেনেন না বলে জানান রাহা তানহা খান। রাহা বলেন, জি কে শামীম নামে আমি কখনো কাউকে চিনতাম না। নামই শুনিনি কোনোদিন। যদি চিনতাম তাহলে বলতে পারতাম। এখন যদি কেউ আমার নাম জড়িয়ে দেয় তাহলে আমার কিইবা করার থাকে! গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সেটা ভিত্তিহীন। আমি কখনো কারও অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display