আজ কয়েকদিন ধরে অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী মারিয়া মিম মিডিয়ায় একে অপরকে দোষছেন তাদের সংসার ভাঙার কারণ হিসেবে।প্রথমে গণমাধ্যমে বিয়ে ভাঙার বিষয়টি মারিয়া নিজেই বলে মিডিয়ায় কাজ করতে না দেওয়ায় ডিভোর্স দিতে চান।তার পরিপেক্ষিতে সিদ্দিক বলেন আমার আর্থিক অবস্থা এতটা খারাপ না যে আমার বউকে মিডিয়াতে কাজ করে রোজগার করতে হবে।আজ আবার নতুন করে মিম অভিযোগ করছে যে সিদ্দিকের সাথে একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সে শারীরিক নির্যাতনও করে।
মাস তিনেক ধরে আলাদা থাকছেন অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্পেনের নাগরিক মারিয়া মিম। সাত বছরের সংসার জীবন, এখন আর ভালো যাচ্ছে না তাদের। এগুচ্ছে ডিভোর্সের পথে। এরই মধ্যে একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

অভিনেতা সিদ্দিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রীকে মিডিয়ায় কাজ করতে নিষেধ করার কারণেই শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। তবে সিদ্দিকুর রহমানের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ তার স্ত্রী মারিয়া মিম।
মডেলিং করতে না দেওয়ায় স্বামী অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানকে ডিভোর্স দিতে চান স্ত্রী মারিয়া মিম। গণমাধ্যমকে দেওয়া এই বক্তব্যের একদিন পরেই বললেন ভিন্ন কথা। বুধবার দুপুরে সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী মারিয়া মিম বলেন, সিদ্দিক আমাকে মারধর করতো। মারধর করার পর আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে যেত যেন আমি কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারি। আমি কান্না করতাম কিন্তু আশেপাশের বাড়িগুলোর জানালা খুলতো না, এগিয়ে আসতো না কেউ।
মিম অভিযোগ এনে বলেন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে ওর সম্পর্ক রয়েছে। আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। সে সারারাত বাইরে থাকে। নাটকের শুটিং কয়টা পর্যন্ত থাকে? ৮ টা ১০ টা ১২ টা? সে এতো রাতে বাইরে থাকে কেন? মধ্যরাতে, ভোরে এসে বাচ্চার ঘুম ভাঙায়। সে আমাকে মোটেও সময় দেয় না। বাইরে ঘুরতে নিয়ে যায় না। এতোই যখন ব্যস্ত, তাহলে তার স্ত্রীর দরকার কী?
কিন্তু আপনি গণমাধ্যমে বললেন আপনাকে মিডিয়ায় কাজ করতে না দেওয়ায় ডিভোর্স দিতে চান। প্রথমে এসব অভিযোগ তুললেন না কেন? প্রশ্নের জবাবে মারিয়া মিম বলেন, ’আসলে আমি মুখ খুলতে চাইনি। এসব কথা বলতে চাইনি। এখন আমাকে বলতে হচ্ছে। কারণ আমি ওর স্তাহে থাকতে চাই না। ওই বাসায় যেতে চাই না। সে আমাকে ওর বাসা থেকে যখন তখন বেরিয়ে যেতে বলে।
কবে থেকে সিদ্দিকের সাথে অন্য মেয়েদের সম্পর্ক টের পান? এ প্রসঙ্গে মারিয়া মিম বলেন, বিয়ের এক বছরে আমাদের সম্পর্ক ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু সন্তান হবার পঅর থেকেই ও পরিবর্তন হয়ে যায়। নানা রকম কথা শুনতে পাই আমি।’ এসব জেনে বুঝেও একসাথে ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মিম বলেন, আমি মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিলাম, সংশোধন করার চেষ্টা করেছিলাম।
সিদ্দিক এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এর আগে সে এমন কোনো অভিযোগ করেনি। এর আগের অভিযোগ মডেলিং করতে না দেওয়ায় সে আমাকে ডিভোর্স দিতে চাইছে। আমার চরিত্র নিয়ে সে টানেনি। এখন এসব আসছে কোথা থেকে। সবাই জানে আমি কেমন। হুট করে তার মাথায় বিয়ের ৮ বছর পর মডেলিং করার ভুত চাপলো কেন, এটা নিয়ে পরে কথা বলবো যদি সে আসলেই অভিযোগ করে। আমি লোক হাসানোর মানুষ, সারাজীবন মানুষের মুখে হাসিই ফুটিয়ে যেতে চাই।
অবশ্য চলতি বছরেও সিদ্দিকুর রহমানের সাথে স্ত্রী মারিয়া নূরের একত্রে অনেকগুলো হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
মিম বলছেন, বিয়ের আগে আমাকে সে মিডিয়ায় কাজ করতে দিতে চেয়েছিল। এখন সে নানা ঝামেলা করছে। বিভিন্ন ডিরেক্টরকে ফোন দিয়ে আমাকে যাতে না নেওয়া হয় বলে দিচ্ছে। আমাকে ফোন করে হুমকি দিচ্ছে।’ বিয়ের এতোদিন পরে কেন মডেলিং নিয়ে আগ্রহী হলেন? প্রশ্নের উত্তরে মিম বলেন, ’বিয়ের পরপরই আমি কনসিভ করি, যার কারণে আমি তখন আর আগ্রহী হইনি। এখন সিদ্দিক আমাকে সময় দেয় না। আমি কি বাসায় সারাদিন বসে থাকবো?
কোনোভাবেই আর সিদ্দিকের সাথে থাকতে চাননা উল্লেখ করে মিম বলেন, আমি আর ওর সাথে থাকতে চাই না। কোনোভাবেই থাকতে চাই না। মতের মিল হচ্ছিল না। নানা কারণে আমি দূরে ছিলাম। আর সে আমাকেও চায় না, চায় বাচ্চার মা’কে। তাহলে আমি কেন যাবো? আমি আপাতত ডিভোর্সের পরিকল্পনা করছি। এরপরে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করবো।
এদিকে গতকাল সিদ্দিক বলেছেন ও যদি বিচ্ছেদ চায় আর যদি বিচ্ছেদই হয়, তখন অনেক কিছুই প্রকাশ্যে আনবো। সন্তানের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছুই সহ্য করেছি। কিন্তু এরও তো একটা শেষ আছে। ওর সম্পর্কে এখনো মুখ খুলিনি, সন্তানের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ আছি। আমার সন্তানও ওর কাছে যেতে চায় না। মায়ের প্রতি তার ভালোবাসাও নেই।সংসার জীবনে ওর কাছ থেকে আমি নানাভাবে প্রতারিত হয়েছি। ওসব কথা বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলি, সব ইতিহাস বললে আমার স্ত্রী গ্রেপ্তার হবে। এখনো পর্যন্ত চুপ আছি ছেলের কারণে।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display