সারা দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছে মহামারী আকারে। করোনা ভাইরাস গত ৩ মাস আগে থেকে বাংলাদেশে শানক্ত হয়েছে। বর্তমানে এই ভাইরাস ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে মানুষ কেউ কারো আপন নয়। মানুষ করোনা কালে অনেক সচেতন হয়েছে। কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে মনুষ্যত্ব। স্টেশনের প্লাটফর্মে এক বাবার মৃত্যু হয়। কিন্ত তার সন্তানদের আহাজারী শুনে কেউ কাছে আসেনি। করোনা ভাইরাসের ভয়ে সকলেই দূরে দূরে অবস্থান করছে। এমনকি স্টেশনের এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালের নেওয়ার সুযোগও দেয়নি।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


ছেলেমেয়ের সঙ্গে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন আবদুল কুদ্দুস (৫৫)। বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে নামেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে প্লাটফর্মে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় স্টেশনের প্লাটফর্মে আবদুল কুদ্দুসের আশেপাশের কেউ এগিয়ে যায়নি। তিনি অজ্ঞান হয়ে প্লাটফর্মে পড়ে যাওয়ার পর সাহায্যের আশায় আহাজারি করতে থাকে দুই সন্তান। বারবার অনুরোধ করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ হাসপাতালে নিতে রাজি হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, আবদুল কুদ্দুসের ছেলেমেয়ে যখন বুঝতে পারলেন, তাদের বাবা আর নেই, তখন তার নিথর দেহ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এ ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর রেলওয়ে থানা পুলিশ মৃতের দেহ একটি অটোরিকশায় করে রামেকে পাঠায়।

কুদ্দুসের ছেলেমেয়ে জানান, তাদের বাবাকে রামেকে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল জানান, আবদুস কুদ্দুস হার্টের রোগী ছিলেন বলে তার সন্তানরা জানিয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী আনা হয়েছিল। স্টেশনে ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে মাথা ঘুরে তিনি পড়ে যান। তখনই তার মৃত্যু হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, সেজন্য নমুনা সংগ্রহের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন কি না, পরীক্ষার পর জানা যাবে এমনটাই জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।



প্রসঙ্গত, দেশের মানুষ করোনাকালে হয়ে উঠেছে স্বার্থপর। করোনা সংক্রমন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা পৃথিবী যেন হয়ে উঠেছে অচেনা। করোনা সংক্রমণের পর থেকে মানুষের স্বভার বুঝা যাচ্ছে। মানুষ বেশি তৎপর হয়ে পড়েছে দূর্নীতি করার জন্য। দেশে বেড়ে গেছে অসনীয় অনিয়ম। বেড়েছে চূরি, ডাকাতি। স্বার্থপর এই পৃথিবীতে কেউ কারো নয়। করোনা ভাইরাসের তান্ডব কালে মানুষের আচারণ সহনীয় হওয়া উচিত। অবশ্যই করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে বাঁচাতে সচেতন থাকতে হবে।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display