বাংলাদেশে করোনা চিকিৎসায় মহামারী আকারে সংকট দেখা দিয়ে নার্সদের সংকট দেখা দিয়েছে ল্যাব টেকনিশিয়ানদের। ল্যাব টেকনিশিয়া না থাকায় একজন ডাক্তারে করোনা পরিক্ষার নমুনা সংগ্রহ করছে। করোনা ভাইরাস একটি মহামরী ভাইরাস। করোনা ভাইরাস গোট পৃথিবীতে তান্ডব চালাচ্ছে। বাংলাদেশে করোনার প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিতিশীল পরিবেশ। করোনা ভাইরাসের ভয়ে চিকিৎসা খাতে সংকট দেখা দিয়েছে ল্যাবে কাজ করা মানুষদের।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সঙ্কট মোকাবেলায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় সুনামগঞ্জের ছাতকে এক ডাক্তার করছেন ল্যাব টেকনিশিয়ানের কাজ।

কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মোজহারুল ইসলাম নিজের ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে নাসাল ও সোয়াব টেস্টিং টিউব কিনে সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে নিজেই নেমেছেন নমুনা সংগ্রহে।

ইতিমধ্যেই তার তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ করা ১০০ নমুনার মধ্যে ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছে।

জানা যায়, ৪ লাখ জনসংখ্যার এ উপজেলায় একটা মাত্র নমুনা সংগ্রহের বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এদিকে দিন দিন বেড়েই চলছিল উপসর্গ এবং উপসর্গহীন রোগীদের সংখ্যা।

এক্ষেত্রে প্রতিদিনই ছাতক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ও বিশ্বনাথ উপজেলার রোগীরা করোনার উপসর্গ নিয়ে কৈতক মেডিক্যালে আসতেন চিকিৎসার জন্য।

করোনার এই সময়ে কম লোকবল নিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে কভিড-১৯ পরীক্ষা করা ছিল কঠিন কাজ। এজন্য তিনি নিজেই নেমেছেন নমুনা সংগ্রহে।

এর আগে করোনার শুরু থেকেই ডাক্তার সঙ্কটে বিনা কোয়ারেন্টিনে একটানা এই এলাকার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন এই ডাক্তার।

এ ব্যাপারে ডা. মোজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে জনবহুল এই এলাকায় প্রতিদিনই মানুষজন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন। তাদের কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যায়। এতে এলাকাটি ইতিমধ্যেই করোনার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এজন্য হাসপাতালের ডিউটির পাশাপাশি তিনি নিজেই নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন।

তিনি জানান, এর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমানের মানিকের প্রচেষ্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি কৈতক হাসপাতালেও নমুনা সংগ্রহের একটু বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জের এ ডাক্তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে করোনা রোগীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। নিজেই করছে করোনা রোগীর নমুনা পরিক্ষা। সুনামগঞ্জের ২০ শয্যা হাসপাতালে ইতিমধ্যে ৪৪ জন করোনা পজিটিভ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের তান্ডবে দিশেহারা বাংলাদেশ। করোনাকালে বিপর্যস্থ সকল জেলা। এ ভয়াবহ ভাইরাস বর্তমানে ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে সারা দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৭১,৬৭৫ হাজার মানুষ। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সারা দেশে ৯৭৫ জন মানুষ।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display