করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের মানুষ আজ অসহায়। করোনা ভাইরাসের কারণে এ দেশের মানুষের মধ্যে এসেছে নানা পরিবর্তন। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে মানষ হয়েছে সচেতন। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে নানা উদ্দ্যোগ। কিন্তু বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে চলছে নানা রকম দূর্নীতি। স্বাস্থ্য সেবায় রয়েছে প্রচুর ঘাটতি। কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নেই বিছানা-ফ্যান, পানি-ইফতার পাননি রোজাদার এমন অভিযোগ উঠে পাথরঘাটা।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নেই বিছানা ও বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা। এমনি কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ব্যক্তিকে পানি ও ইফতার সামগ্রী না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসা দিতে আসা কিডনি রোগী নাইম বলেন, ’আমি কিডনী রোগের চিকিৎসা নিয়ে ভারত থেকে আসার পথে ইমেগ্রেশনসহ সীমান্তে কয়েক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। কিন্তু কোনো উপসর্গ (করোনাভাইরাস) পায়নি। তারপরও পরিবারসহ সকলের কথা বিবেচনা করে বাড়িতে না গিয়েই হাসপাতালে এসেছি। কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখলেও যতটুকু সেবা পাওয়ার কথা তা পাইনি। যেখানে আমাকে প্রতি মুহূর্তে পানি খাওয়ার কথা, সেখানে ১৪ ঘণ্টায় পানি দেওয়া হয়নি। আমার চাচা রোজাদার ব্যক্তি, তাকেও ইফতারি দেওয়া হয়নি।’

বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, ’আমাকে মোবাইলফোনে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের অব্যবস্থাপনা ও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি জানায়। পরে আমি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরঘাটা হাসপাতালে গিয়ে এর সত্যতা দেখতে পাই। পরে সেখান থেকে তাদেরকে আমার নিজ ভাড়াটিয়া ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে রেখে সেবা নিশ্চিত করছি এবং চিকিৎকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যতদিন চিকিৎসক তাদের ছাড়পত্র না দেয়, ততদিনই আমিই দেখাশোনা করব।’

এমপি আরও বলেন, ’ভারত থেকে চিকিৎসা দিয়ে আসা দুই ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য ইউএইচএফপিও-এর কাছে বললেও তিনি তাদেরকে হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখলেও সেবা এবং দেখভাল না করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিল না কোনো ফ্যান কিংবা বিছানা। ওই রাগীদের করোনার কোনো উপসর্গ না থাকলেও তাদের যেভাবে বদ্ধ ঘরে রাখা হয়েছে, তাতে তারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ’আমাদের সাধ্য অনুযায়ী তাদের সেবা এবং দেখাশোনা করেছি। ’

পানি ও ইফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ’আমি দৈনিক দুবার খোঁজ-খবর নেই। তবে পানি এবং ইফতারের বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা করতাম।’



প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস গত মার্চ মাসের ৮ তারিখে বাংলাদেশ প্রথম শনাক্ত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা এক প্রকার ছোঁয়াছুয়ি ভাইরাস। করোনা আক্রান্তের সাধারণ উপর্গ দেখা দিলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী। কিন্তু উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সকল উপকরণ। তাছাড়া কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের ঠিক মত দেওয়া হচ্ছে না চিকিৎসা।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display