করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে তুমুল আলোচিত ও ভয়াবহ ভাইরাস। এ ভাইরাস প্রথম চীনে শনাক্ত হয়ে সারা বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে যেন মত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সব দেশ করোনা মোকাবেলায় জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা দিন রাত পরিশ্রম করছে। লক্ষ লক্ষ চিকিৎসক করোনা যোদ্ধার শামিল বিশ্বের অন্যান্য দেশে। কিন্তু বাংলাদেশে ১৬ কোটি জনগণের করোনা মোকাবিলায় নিয়োযিত মাত্র ৭৮০ জন চিকিৎসক।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



সারাদেশে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত মোট মেডিকেল স্টাফের সংখ্যা

সারাদেশে করোরাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৭৮০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া নার্স রয়েছেন ৭০৪ জন, সাপোর্ট স্টাফ ৪৪৮ জন, ১২১ জন ফিল্ড স্টাফ এবং ১৬৭ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।

সরকারি ওয়েবসাইট \’করোনা ইনফো\’ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের DGHS ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে বিশ্বব্যংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। সে হিসেবে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার জন মানুষের জন্য রয়েছেন একজন ডাক্তার।

এছাড়া দেশে ২ মে পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৯৪৫৫ জন। এ ক্ষেত্রেও একজন চিকিৎসককে সামলাতে হবে ১২ জন রোগী।

তাছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে মে মাসেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তাতে ১০০ এরও বেশি রোগীর জন্য থাকবে মাত্র একজন চিকিৎসক।

এছাড়া সরকারি তথ্যে আরো জানা গেছে, সারা দেশে করোনার চিকিৎসার জন্যে মোট নির্ধারিত আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা মাত্র ৬০৫৯। সারাদেশের ৩৬৩ টি উপজেলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে নির্ধারিত রাখা হয়েছে ২৩৫১টি শয্যা। ৫ এর অধিক আইসোলেশন শয্যা রয়েছে মাত্র ৯৭ টি উপজেলায়, ১০ বা তার অধিক আইসোলেশন শয্যা রয়েছে মাত্র ৫৯ টি জেলায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (DGHS) ওয়েব সাইটের করোনা ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নির্ধারিত আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা ৬৯০৯টি।

বিভিন্ন বিভাগে করোনার চিকিৎসায় মোট নির্ধারিত হাসপাতাল-শয্যার সংখ্যা। সরকারি ওয়েবসাইট \’করোনা ইনফো\’ থেকে নেয়া গ্রাফ।

সরকারি তথ্যেই উঠে এসেছে, এই মহামারীর সময়টিতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের ব্যাপকতা।

জানা গেছে, কেবলমাত্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে নিয়োজিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১০০ এর বেশি, এবং একমাত্র রাজশাহী বিভাগেই নার্সের সংখ্যা ১০০ এর বেশি। অন্যদিকে পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা ২৫ এরও কম।


ভিন্ন বিভাগে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা। DGHS ওয়েবসাইট থেকে গ্রাফ।

সরকারের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ১০৭ জন, নার্স রয়েছেন ৮৩ জন, সাপোর্ট স্টাফ ২৮ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ১৬ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ১৩০ জন, নার্স রয়েছেন ৮৯ জন, সাপোর্ট স্টাফ ৫৪ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ৩০ জন।

রাজশাহী বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ৯১ জন, নার্স রয়েছেন ১২৯ জন, সাপোর্ট স্টাফ ৯৫ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ১৭ জন।

খুলনা বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ৬৬ জন, নার্স রয়েছেন ৬৭ জন, সাপোর্ট স্টাফ ৩৯ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ২৩ জন।

সিলেট বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ৭৮ জন, নার্স রয়েছেন ৮২ জন, সাপোর্ট স্টাফ ২৩ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ৮ জন।

রংপুর বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ৬১ জন, নার্স রয়েছেন ৪৮ জন, সাপোর্ট স্টাফ ৩৩ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ১৬ জন।

বরিশাল বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ৩৯ জন, নার্স রয়েছেন ২৪ জন, সাপোর্ট স্টাফ ১৮ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ৭ জন।

মংমনসিংহ বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ২৩ জন, নার্স রয়েছেন ১৫ জন, সাপোর্ট স্টাফ ১৪ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন ১৩ জন।

বাংলাদেশের করোনা উপসর্গের মৃত্যুগুলো শুধু নয়, কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া মৃত্যু, এমনকি এই সময়কালে করোনার বাইরেও নানা রোগে যে মৃত্যুগুলো হয়েছে, হচ্ছে, তার বড় অংশের কারণ এই অপ্রতুল স্বাস্থ্যব্যবস্থা।



প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবেলায় প্রথম শারির যোদ্ধা নার্স ও চিকিৎসক। করোনা ভয়বহতা যেনেও নিজেদের জীবনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা করেন। কিন্তু বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়া সত্বেও এদেশে করোনা চিকিৎসা দেবার জন্য মাত্র অল্প কয়জন চিকিৎসক ও নার্স নির্ধারণ করা। এযেন অতল সাগরে এক বিন্দু পানির মত।

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display