বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি।বাংলাদেশের তরুনদের মধ্যে বেকারত্বের হার দ্বিগুন হারে বাড়ছে।সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে উচ্চমানের শিক্ষিত হয়ে ও চাকুরী মিলছে না তরুনদের।বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিতরা বেকার বেশি।ঠিক তেমনি নজরুল ইসলাম মাস্টার্স পাশ করে ও চাকুরী মেলেনি।বেকারত্ব একটা অভিশাপ।এই অভিশপ্তর গ্লানি নিয়ে একটি হোটেলে থালাবাসন পরিস্কার করে জীবিকা নির্বাহ করছে নজরুল।


নাটোর শহরের চকরামপুর এলাকার বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্টে থালাবাসন পরিস্কার করেন নজরুল ইসলাম। রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বাসন পরিস্কারের কাজে তার

বেতন তিনশ টাকা। এই আয়ে চলে না সংসার। এক সময় অন্যের জমিতে মজুরেরও কাজ

করেছেন তিনি। নাটোর এন এস সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০১৬ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন নজরুল ইসলাম। কিন্তু একটি চাকরি

মেলেনি। বাধ্য হয়ে তাই কাজ নিয়েছেন হোটেলে। শহরের পরিচিতজন ও সহপাঠীদের সাক্ষাত এড়াতে হোটেলের বাইরে তেমন বের হন না।


জানা গেছে, সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড়বড়িয়া গ্রামের এক গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম। আট ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবার

মৃত্যুর পর অন্যের জমিতে কাজ করেই কলেজের পাঠ চুকিয়েছেন। গ্রামে কাজ না থাকায় গত তিন মাস ধরে তিনি শহরের এই হোটেলে কাজ করছেন।


এর আগে পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে দুই হাজার টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদনে অনেক টাকা

খরচ হলেও কাজ হয়নি। এছাড়া চাকরি জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে


তার ধার করা ৬০ হাজার গচ্চা গেছে। সেই টাকা শোধ করতে সন্ধ্যায় টিউশনির পাশাপাশি এখন হোটেলে কাজ করছেন।

নজরুল ইসলাম জানান, মা ও বাক্ প্রতিবন্ধী স্ত্রীসহ চার জনের পরিবারের খরচ মেটাতে অন্যের জমিতে মজুরের পাশাপাশি কয়েকটা টিউশনি করেন তিনি। কোনো কাজই ছোট নয়


জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো চাকরির আশা এখনো আছে। তবে চাকরি না পেলে ক্ষেতমজুর বা হোটেলে কাজ করেই জীবন পার করে দিতেও সমস্যা নেই।

নজরুলের স্কুলজীবনের শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা মেধাবী।


অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়েছে। এখনও যেভাবে সংসার চালাচ্ছে, তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়ে গেছে। স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, উচ্চশিক্ষিত

একজন যুবককে হোটেলে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতে দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। ওর জন্য ভালো একটা চাকরির চেষ্টা করছি।


উল্লেখ্য,ছোট বেলা থেকে নজরুল ইসলাম অনেক পরিশ্রম করে বড় হয়েছে।চাকুরী পাবার ঘুষ দিতে হবে বলে আর চাকুরী হল না নজরুলের ।মা ও বাক্ প্রতিবন্ধী স্ত্রীসহ চার জনের পরিবারের খরচ মেটাতে অন্যের জমিতে মজুরের পাশাপাশি কয়েকটা টিউশনি করেন তিনি। কোনো কাজই ছোট নয় বলে মনে করেন তিনি।