বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার কার্ড তৈরি করে দেয়ার নামে ফাহিমা আক্তার বেশ কিছু নারীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও কার্ড না পাওয়ায় বুধবার বিকেলে তারা নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে পরিষদে দেখতে পেয়ে মারপিট করেছে।বুধবার বিকেলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায় ,বয়স্ক ও বিধবা ভাতা দেয়ার নাম করে অসহায় নারীদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এক দল বিক্ষুব্ধ নারীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার।শিবগঞ্জ উপজেলার গড়মহাস্থান গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম, হাবিবর রহমানের স্ত্রী ছালেহা বেগম, মিলন রহমানের স্ত্রী সেলিনা আক্তারসহ ১৫ জন নারী অভিযোগ করেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার সম্প্রতি গড়মহাস্থান গ্রামে গিয়ে মাটি কাটার কাজ, বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড ও মহিলা অধিদপ্তরের সেলাই প্রশিক্ষণের কাজ দেয়ার নামে ১৫-২০ জন নারীর কাছ থেকে ৭-৮ হাজার করে টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের কাজ ও কার্ডের ব্যবস্থা করে না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ভুক্তভোগী নারীরা।
বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারীরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তারের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চান।
ভাইস চেয়ারম্যান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নারীরা ভাইস চেয়ারম্যানকে গণপিটুনি দেন। রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।
তবে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার বলেন,উপজেলা পরিষদের বেশ কয়েকটি মাসিক সভায় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ বিষয়ে চেয়ারম্যানের তথ্য চাইলে তিনি তথ্য না দিয়ে উল্টো তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধামকিও দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় ভোটার দাবি করে অজ্ঞাত একজন নারী তাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে চাইলে তিনি উপজেলা পরিষদে যান। এসময় ৭/১০ জন নারী তাকে আচমকা মারপিট করতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। তিনি দাবি করেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু লোকজন দিয়ে তাকে মারপিট করিয়েছেন। সন্ধ্যায় ফাহিমা আক্তারকে ভর্তি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু বলেন,ঘটনার সময় তিনি উপজেলা পরিষদে ছিলেন না, বগুড়া শহরে অবস্থান করছিলেন। পরে জেনেছেন, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার কার্ড তৈরি করে দেয়ার নামে ফাহিমা আক্তার বেশ কিছু নারীর কাছ থেকে উৎকোচ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও কার্ড না পাওয়ায় বুধবার বিকেলে তারা নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে পরিষদে দেখতে পেয়ে মারপিট করেছে।ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। ফাহিমা আক্তারের সাথে নিজের কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন রিজু।প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য সঠিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তার জানান,একটি মহল আমাকে সামাজিকভাবে অপমান করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের লেলিয়ে দেয়া কিছু নারী আমাকে মারপিট করে আহত করেছে। বর্তমানে আমি বগুড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ ৩ হাজার ১১০ জনকে এককালীন মাসিক ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে এ কর্মসূচিটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। ২০১০-১১ অর্থ বছরে এ কর্মসূচিটি পুনরায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় । বর্তমানে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে এ ভাতা সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে ।