পাঠাও এমন একটি বাইক রাইড শেয়ারিং অ্যাপ যার মাধ্যমে আপনি সহজেই ট্র্যাফিক জ্যাম এড়িয়েযেতে পারেন একটি বাইক রাইড রিকোয়েস্ট করে। শুধু তাই নয়, আপনার রাইডটি হবে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী!তাই শিক্ষীত যুবকদের মাঝে এই অ্যাপস বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্তমানে সমাজে স্বার্থপর রাজনীতিবিদদের মাঝে খাঁটি রাজনীতিবিদ পাওয়া বেশ দুষ্কর। দু’একজন যে ব্যতিক্রম থাকেন না তা কিন্তু নয়। এরকমই এক ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান শেফায়েত আজিজ রাজু।
তিনি অ্যাপস ভিত্তিক পাঠাও, উবার, ওভাই ও সহজে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করে চলছেন চট্টগ্রাম সিটির অলি গলিতে। পরিচিত জনেরা দেখে যেমন বিস্মিত হচ্ছেন আবার কেউ কেউ স্বাগত জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন রাজু, যা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে সাধুবাদ জানিয়ে কমেন্ট করছেন। অনেকে এই তরুণ নেতার স্টাটাস নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করে নিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে রাজু কাজকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা যতই ছোট বা বড় হোক না কেন।
সেইসঙ্গে তিনি বর্তমান চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার চেয়ে ছোট কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
জানা যায়, শাফায়েত আজিজ রাজু পেকুয়া উপজেলার দুই বার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। যদিও এবারের নির্বাচনে তার দল (বিএনপি) অংশ না নেয়ায় তিনি নির্বাচনে লড়েননি। তার এই রাইড শেয়ারিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা। সবাই বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তার সততার জন্য সবাই স্যালুট দিচ্ছেন।
একজন উপজেলা চেয়ারম্যান যদি (মটরবাইক) উবার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে বিষয়টি শুনতে যেমন অদ্ভুত লাগে আর বাস্তবে তা রাজনীতিবিদদের জন্য বিষয়টি সুখবর বয়ে আনে।কেননা আব্রাহাম লিংকনের লেখা শিক্ষকের প্রতি সেই ঐতিহাসিক চিঠির লাইনের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তার মতে সমাজে কিছু স্বার্থপর রাজনীতিবিদদের মাঝে একজন খাঁটি রাজনীতিবিদ থাকে। হয়তো আমরা সাধারণ মানুষ সেসব রাজনীতিবিদদের খুঁজে বেড়ায়।

উল্লেখ্য,কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাবেক এমপি মগনামা ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির মাহামুদুল করিম চৌধুরীর সন্তান শাফায়েত আজিজ রাজু।বিগত সময়ে পিতা বিএনপি থেকে নমিনেশন প্রাপ্ত হয়ে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলন। কেন্দ্রীয় বিএনপিতে দায়িত্বও পালন করেন। পিতার আদর্শ ধারণ করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে নাম লেখান তিনি। রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদলের সাথে।বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের অনুসারী হয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
এক সময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এই এলাকা থেকে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও কর্ম আর দক্ষতায় সব শ্রেণীর মানুষের ভালবাসা আদায় করার পাশাপাশি উন্নয়নও করেছেন সার্বজনীন।
দলের স্বার্থে কখনো উপজেলা পরিষদকে ব্যবহার না করায় দলের পক্ষ থেকেও সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাকে। তারপরও নিজ গতিতে কাজ করেছেন এলাকাবাসীর স্বার্থে।